বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৪ এম
টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত আট নম্বরে ব্যাট করার জন্য নামা খেলোয়াড়ের মূল দায়িত্ব থাকে উইকেটটি ধরে রেখে রান বাড়ানো। কিন্তু ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ব্যাট হাতে এমন একটি কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, যা আজও বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি বিস্ময়কর ঘটনা হয়ে রয়েছে। বল হাতে যার বৈচিত্র্যময় সুইং মোকাবেলা করতে ব্যাটাররা হিমশিম খেতেন, সেই ওয়াসিম সেদিন ব্যাট হাতে হয়ে উঠেছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য বীর।
১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শেখুপুরা টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে আট নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। মাঠে নামার পর থেকেই তার ব্যাটিংয়ে ছিল প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক মেজাজ ও চমৎকার টাইমিং। জিম্বাবুয়ান বোলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক বল সীমানা পার করতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৬৩ বল খেলে ২৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি। তার এই ইনিংসে ছিল ২২টি চার ও ১২টি ছক্কার মার। টেস্ট ইতিহাসে আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এছাড়া এক ইনিংসে ১২টি ছক্কা মেরে তিনি ভেঙে দেন ইংল্যান্ডের ওয়ালি হ্যামন্ডের বহু পুরনো বিশ্বরেকর্ড।
ওয়াসিমের এই ঐতিহাসিক ইনিংসে দুর্দান্ত এক সঙ্গ দেন স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। একদিকে ওয়াসিমের চার-ছক্কার তাণ্ডব, অন্যদিকে সাকলাইনের চরম ধৈর্য—দুইয়ে মিলে অষ্টম উইকেটে ৩২৩ রানের একটি বিশাল রেকর্ড জুটি গড়ে ওঠে। সাকলাইন ৩৫৯ বল খেলে ৭৯ রান করে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন।
পাকিস্তানের এমন বিশাল স্কোরের পরেও ম্যাচের ফল আসেনি, টেস্টটি ড্রতেই শেষ হয়। তবে ম্যাচের জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ওয়াসিম আকরামের এই ২৫৭ রানের ইনিংসটি ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা হয়ে যায়। আমরা তাকে মূলত মনে রাখি বিষাক্ত ইয়র্কার ও সুইং বোলিংয়ের জন্য, কিন্তু শেখুপুরের সেই দিনটি প্রমাণ করে দিয়েছিল—তিনি শুধু বল হাতে বিশ্বসেরা ছিলেন না, ব্যাট হাতেও ইতিহাস গড়ার অসাধারণ ক্ষমতা তার ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের একটি বিশাল অংশ পিএইচপি নামে পরিচিত একটি জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। সম্প্রতি, এই ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত সিকিউরিটি আপডেট করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যারা আপাতত আপডেট করতে সক্ষম হচ্ছেন না, তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা।
এই সতর্কতা জারির পর, ফিনল্যান্ড সরকার, নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়ার কিছু অংশ এবং বিবিসির বেশ কিছু জনপ্রিয় অনুষ্ঠানসহ বিশ্বের অনেক সাইট তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে থাকা এই বিপজ্জনক ত্রুটিগুলো মানুষ নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে খুঁজে বের করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পিএইচপি-র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা সহজেই মূল সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে অথবা পুরো সাইট অচল করে দিতে পারে।
হোয়াইট হাউস, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধান সাইবার সংস্থাগুলো এই ঝুঁকি মোকাবেলায় একত্রিত হয়ে কাজ করছে। হ্যাকাররা ইতোমধ্যে কিছু সাইটে আক্রমণ শুরু করেছে বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই ব্যবহারকারীদের দ্রুত তাদের সিস্টেম আপডেট করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ জানিয়েছেন, সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি, বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিভাবে ফেক নিউজ, মনগড়া (কনককটেড) নিউজ ও বিকৃত (ডিস্টোর্টেড) নিউজকে আইনের আওতায় আনা যায়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সব জায়গাতেই একটি সমস্যা। এখানে একটি ব্যালেন্স তৈরি করতে হবে।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "একটি হলো স্বাধীন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা (ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন), অন্যটি হলো এই ধরনের আজেবাজে নিউজ। আমার বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই এটি একটি পরিণত পর্যায়ে পৌঁছাবে।"
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ভোলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নেত্রকোনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার বিচার প্রসঙ্গে আশ্বাস প্রদান করে মন্ত্রী বলেন, "এ বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঠিক তদন্ত করবে এবং আইন সবার জন্যই সমান। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইন সমান। তাই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সারদীয় উৎসবের সার্বিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি যে জাতীয়তাবাদী সরকার সহমত ও সহ-অবস্থানে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে হিন্দু মুসলমান অত্যন্ত সুন্দরভাবে আন্তরিকভাবে একই ছাদের নিচে থাকতে পারি। আমরা নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারি।"
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিন তরুণের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে নির্জন সৈকতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের মধ্যে রোহান ও জিশান ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। অপরজন আকাশ চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাংলাবাজারের বাসিন্দা। নিখোঁজ দুজন হলেন ঢাকার উত্তরার নিবিড় ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার হারুন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ পর্যটক এবং ঢাকা থেকে আসা সাত পর্যটক ওই সময় সৈকতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের একজন সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকলে বাঁচার জন্য চিৎকার শুরু করেন। তাকে উদ্ধার করতে অন্যরা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তারা পরস্পরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ করে বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ঢেউয়ের তোড়ে কয়েকজন একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে তলিয়ে যান।
বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে বিপদে
নিহত রোহানের খালু মো. জাহিদ বলেন, তারা সমুদ্রে গোসল করতে নেমেছিলেন। তাদের থেকে কিছুটা দূরে থাকা এক পর্যটক পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলেন। তখন তার চার-পাঁচজন বন্ধু তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। একে অপরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে তাকে টেনে আনার চেষ্টা করেন।
জাহিদ আরও বলেন, উদ্ধারের চেষ্টা চলাকালীন হঠাৎ একটি বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। তখন তারা পানির নিচে পা রাখতে পারছিলেন না। ঢেউয়ের ধাক্কায় একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সবাই স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সাঁতার না জেনেও সমুদ্রে নামেন পর্যটকেরা।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবু জাফর বলেন, সাঁতার জানেন না এমন ব্যক্তিদের জন্য, সাঁতার জানা ব্যক্তিদেরও বঙ্গোপসাগরের মতো উত্তাল সমুদ্রে নামার সময় সতর্ক থাকা উচিত। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
আবু জাফর জানান, পর্যটকদের তাঁরা সাঁতার জানেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। তারা কেউই সাঁতার জানেন না বলে জানান। এরপর সাঁতার না জেনে এত সমুদ্রে কেন নেমেছেন, জানতে চাইলে পর্যটকেরা তাঁকে বলেন, ‘তারা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন সেখান থেকে জানানো হয়েছিল, সেখানে নামলে কোনো সমস্যা হবে না।’
উদ্ধার অভিযান চলছে
রামুস্থ হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলাইমান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও রামু থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের নিষেধ সত্ত্বেও পর্যটকেরা ওই স্থানে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে দুর্ঘটনা ঘটলে অন্যান্য পর্যটকেরা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, দুজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের মালিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সঙ্গে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রিসোর্টগুলোর নিয়মকানুন না মানা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনার উপর ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়েছে। এই হামলা বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঘটে, যার ফলে দুইজন প্রবাসী কর্মী প্রাণ হারান এবং আরও দুইজন আহত হন, এমনটি নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেলক্ষেত্রের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আসা ড্রোনটি সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করা হয়। তবে হামলার সময় তেলক্ষেত্রের সীমানার বাইরে অবস্থিত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনার ফলে সৌদি আরামকোর মূল পরিচালন কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
নিহত দুই প্রবাসী কর্মীর মধ্যে একজন ফিলিপাইন এবং অপরজন নেপালের নাগরিক। আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে, দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।
সূত্র: সৌদি গ্যাজেট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ