ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে উঠে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য


অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে উঠে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রায় দেড় বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে এ মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপ্রতিমের পরিবার দাবি করেছে, ওই অভিযানের সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতিশোধের বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে ফাহাদসহ সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। এ সময় সহকারী প্রক্টররাও উপস্থিত ছিলেন। পরে জব্দ করা গাঁজা ধ্বংস করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

আটক কিশোরদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায়, ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শর্তে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এর প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার ফাহাদ চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ইলেকট্রিকের দোকানে কাজ নেয়। অপ্রতিমের বাবা নিশ্চিত করেছেন, ২০২৫ সালে তার স্ত্রী ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আটক হওয়া কিশোরদের একজনই এই ফাহাদ।

এদিকে অপ্রতিমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম।

তিনি বলেন, "আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে ধরেছি। ওই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত নির্মম। আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক, কিন্তু আমার নিষ্পাপ বাচ্চা সন্তানকে কেন মেরে ফেলা হলো?"

নাহিদা বেগম আরও বলেন, তার ছেলেকে অপরাধীদের সঙ্গে জড়িয়ে এমন একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে অপ্রতিমও তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার দাবি, অপ্রতিম এসব বিষয়ে কিছুই বুঝত না।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

তিনি বলেন, "আমি শুধু আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই না, এসব অপরাধী জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে, সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল এবং ২০২৫ সালের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়ার ঘটনার সঙ্গে এ হত্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, এসব বিষয় এখন তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন?

সম্পর্কটি অনেক দিন আগে শেষ হয়ে গেছে। জীবনও তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলেছে। আপনি জানেন, সেই মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না। কেন সম্পর্কটি টেকেনি বা কেন দূরে সরে এসেছিলেন, সেই বিষয়গুলোও হয়তো আপনার মনে স্পষ্ট রয়েছে।

তবুও, মাঝরাতে, হঠাৎ করে কোনো গান শুনে কিংবা একা থাকার সময় প্রাক্তনের কথা মনে পড়ে যায়। কখনো কখনো মনে হয়, পুরনো দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে।

কিন্তু এমনটি কেন ঘটে? প্রাক্তনকে মনে পড়ার পেছনে কিছু কারণ থাকতে পারে।

মানুষটিকে নয়, সেই সময়টাকেই হয়তো মনে পড়ছে।

অনেক সময় প্রাক্তন মানুষটিকে নয়, বরং তার সঙ্গে কাটানো সময়টাকেই বেশি মনে পড়ে। সেই সময়ে আপনি যেভাবে অনুভব করতেন, সেটাই হয়তো এখন মনে পড়ছে।

হয়তো তখন আপনি বেশি হাসতেন, নিজের প্রতি ভালো লাগা অনুভব করতেন কিংবা জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোও আনন্দের মনে হতো। সেই ভালো লাগার স্মৃতির সঙ্গে মানুষটিও জড়িয়ে থাকায় তাকে মনে পড়ে যেতে পারে।

সম্পর্কের শেষটা ঠিকভাবে হয়নি

সব সম্পর্ক সুন্দরভাবে শেষ হয় না। অনেক সম্পর্কের ইতি ঘটে অনেক কথা না বলেই। বিচ্ছেদের পর সেই না-বলা কথাগুলো বারবার মনে পড়তে পারে।

মনে হতে পারে, সেদিন কথাগুলো বলা উচিত ছিল। অন্যভাবে কথা বললে হয়তো ফল ভিন্ন হতো। সেদিন সিদ্ধান্তটি বদলালে কী হতে পারত—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর না পাওয়াও পুরনো সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।

সময়ের সঙ্গে খারাপ স্মৃতি ঝাপসা হয়ে যায়।

সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সময় যত গড়ায়, ততই কষ্টের মুহূর্তগুলো কিছুটা ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। তখন ঝগড়া, অভিমান কিংবা কষ্টের বদলে মনে পড়ে রাত জেগে কথা বলা, একসঙ্গে হাসা বা ছোট ছোট আনন্দের স্মৃতি।

ফলে মনে হতে পারে, সম্পর্কটি হয়তো এতটা খারাপ ছিল না। কিন্তু ভালো সময়গুলোর কথা মনে পড়ছে বলেই যে সম্পর্কটি আপনার জন্য ভালো ছিল, এমন নয়। অনেক সময় স্মৃতির সুন্দর অংশটুকুই বেশি মনে থাকে।

মানুষটিকে নয়, তার সম্ভাব্য রূপকে মনে পড়ছে।

কখনো বাস্তবে মানুষটি যেমন ছিলেন, তাকে নয়; বরং তিনি যদি একটু বদলাতেন, আরও বুঝতেন কিংবা সম্পর্কটিকে একটু বেশি গুরুত্ব দিতেন—তাহলে সবকিছু কত সুন্দর হতে পারত, সেই ভাবনাটিই মনে থাকে।

অর্থাৎ বাস্তব মানুষটির চেয়ে তার একটি কল্পিত রূপের সঙ্গে আপনার আবেগ জড়িয়ে থাকতে পারে।

প্রাক্তনকে মনে পড়া মানেই ফিরে যেতে চাওয়া নয়।

সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রাক্তনের কথা মনে পড়া অস্বাভাবিক নয়। কাউকে মনে পড়া এবং তার সঙ্গে আবার সম্পর্কে ফিরতে চাওয়া এক বিষয় নয়।

পুরনো স্মৃতি, অভ্যাস, অসমাপ্ত কথা কিংবা সেই সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতির কারণে প্রাক্তনের কথা মনে পড়তে পারে। তাই হঠাৎ কাউকে মনে পড়লেই নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘কুত্তা শ্রাবণ’ ও তিন সহযোগী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৫ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘কুত্তা শ্রাবণ’ ও তিন সহযোগী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী শ্রাবণ, যিনি ‘কুত্তা শ্রাবণ’ নামেও পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে, এসআরবি-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শ্রাবণ দীর্ঘ সময় ধরে রূপগঞ্জ এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করছিল। চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে তিন সহযোগীসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর কাওরানবাজারে অবস্থিত এসআরবি (সাবেক র‌্যাব) মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ভয়ানক ফাঁদ পাতছে অপরাধীরা কৌশলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ভয়ানক ফাঁদ পাতছে অপরাধীরা কৌশলে

পাকিস্তানের কিশোরী জারা শাহর (ছদ্মনাম) অনলাইনে কম্পিউটার গেম খেলতে গিয়ে এক অপরিচিত ব্যক্তির সাথে পরিচিত হয়। প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা চললেও পরে ওই ব্যক্তি জারার কাছে নগ্ন ছবি চাওয়ার প্রস্তাব দেয়। ছবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল শুরু করে অপরাধী। সে জারাকে মানসিকভাবে চাপ দিতে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ চলতি মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, পাকিস্তানে গত এক বছরে আনুমানিক ১৫ লাখ শিশু অনলাইনে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ১৭ বছর বয়সী জারা তাদের মধ্যে একজন।

জারা জানায়, ‘অনলাইনে গেম খেলার সময় আমাদের কথাবার্তা শুরু। প্রথম দিকে সে আমার সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করে। কিছুদিন পর সে দেখা করার কথা বলে এবং একপর্যায়ে আমার নগ্ন ছবি চাইতে শুরু করে।’

সে আরও জানায়, ছবি দিতে রাজি না হওয়ায় ওই ব্যক্তি হুমকি দেয়, অনলাইনে তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে তাদের জানিয়ে দেবে তাদের মধ্যে কী ধরনের কথা হয়েছে।

ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিশুদের ৮৫ শতাংশের ক্ষেত্রে নিপীড়ক ছিলেন তাদের পরিচিত কেউ। বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন, অনলাইন গেম খেলার সময় পরিচয়, উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, অর্থের প্রলোভন কিংবা প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে শিশুদের ফাঁদে ফেলে অপরাধীরা।

ইউনিসেফের বৈশ্বিক প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড্যানিয়েল কারডেফেল্ট এএফপিকে বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথন, গেম খেলার সময় আলাপ, উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, অর্থ কিংবা প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে নিপীড়ন শুরু হতে পারে।’

অপরাধীরা সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের প্রকাশ করা ব্যক্তিগত তথ্য কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় কয়েক মাসও লেগে যায়। পরে সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গোপন ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেয় তারা।

এরপর এসব কনটেন্ট পরিবার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে আরও ছবি বা ভিডিও পাঠাতে, শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে কিংবা অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। এ ধরনের অপরাধকে ঘিরে একটি সংগঠিত শোষণচক্র গড়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

লাহোরভিত্তিক শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা পহচানের পরিচালক মেহেক নাঈম জানান, এক বছরে নথিভুক্ত হওয়া যৌন নিপীড়নের প্রায় ৪৪ শতাংশই অনলাইনে ঘটেছে। এসব ঘটনায় হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্ম বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।

রক্ষণশীল সামাজিক পরিবেশের কারণে মেয়েরা এ ধরনের অপরাধের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ঝুঁকিতে থাকে। ঘটনা প্রকাশ পেলে অনেক সময় তাদের চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, এমনকি স্কুল ছাড়তেও বাধ্য করা হয়।

জারার ক্ষেত্রেও পরিবারের কাছে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয়ই তাকে নীরব থাকতে বাধ্য করে। তার আশঙ্কা ছিল, পরিবার জানতে পারলে হয়তো তার স্কুলে যাওয়া কিংবা বাড়ির বাইরে বের হওয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৭৪ শতাংশ নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে শিশুদের সুরক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। চলতি মাসে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস করেছে।

ডিজিটাল অধিকারকর্মী ওসামা খিলজি এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আমি এ নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে একমত নই। এটি কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন এবং শিশুরা ভিপিএন ব্যবহার করে খুব সহজেই এ বাধা এড়িয়ে যাবে। তা ছাড়া শিশুদের মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা রয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা তা কেড়ে নেবে।’

প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ দমনে পাকিস্তানে আইন থাকলেও এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অলাভজনক সংগঠন মুসলিম হ্যান্ডসের মুখপাত্র তাহিরা আফ্রাসিয়াব বলেন, ‘এটির কোনো বাস্তবায়ন নেই।’

আইনজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান আইনেও রয়েছে নানা ফাঁকফোকর। মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী সালমান আফ্রিদি বলেন, শিশুদের অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে মাত্র ১০ হাজার রুপির বিনিময়ে তাদের দিয়ে যৌন কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তির এমন এক অপব্যবহার দেখছি, যেখানে শিশুদের প্রলুব্ধ করা, ব্ল্যাকমেইল, কনটেন্ট তৈরি ও তা বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পুরো একটি চক্র কাজ করছে। একে স্পষ্টভাবেই শোষণের একটি বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেম বলা যায়।’

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লোকলজ্জা, পরিবার ও সমাজের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে পাকিস্তানে গত এক বছরে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া ৭১ শতাংশ শিশু বিষয়টি কাউকে জানায়নি। জরিপে অংশ নেওয়া কোনো শিশুই পুলিশ, হেল্পলাইন বা সমাজকর্মীদের মতো আনুষ্ঠানিক কোনো মাধ্যমে অভিযোগ করেনি।

ফলে অনলাইনে গেম বা সাধারণ কথোপকথন দিয়ে শুরু হওয়া পরিচয় অনেক শিশুর জন্য দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে। জারার ভাষায়, ‘আমি তখনো যেমন ভয় পেয়েছি, এখনো পাচ্ছি। আমি আসলে এক চরম আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে আছি।’

সূত্র: এএফপি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রহ্মপুত্রের উপর চিনের ৬০ হাজার মেগাওয়াটের মেগা ড্যাম প্রকল্পের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৬ পি.এম


ব্রহ্মপুত্রের উপর চিনের ৬০ হাজার মেগাওয়াটের মেগা ড্যাম প্রকল্পের পরিকল্পনা

চিন তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। মেডোগ প্রকল্পের ক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট, যা নিয়ে ভারত কৌশলগত ও পরিবেশগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশিষ্ট কৌশলগত বিশেষজ্ঞ ব্রহ্মা চেলানি এবার এই প্রকল্পের বিষয়ে ভারতের কৌশল এবং চিনা বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রহ্মা চেলানি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, "ভারত যদি চিনের সীমান্তের ঠিক উপরে এমন বিশাল প্রকল্প তৈরি করত, তাহলে বেইজিং পরিবেশ, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং বৈজ্ঞানিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক স্তরে কত বড় প্রচার চালাত, আন্দাজ করুন তো একবার?" তিনি মনে করেন, চিনের বিজ্ঞানীরা যে উদ্বেগের কথা সামনে এনেছেন, ভারতকেও তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা উচিত।

ব্রহ্মপুত্রের উপর নির্মাণাধীন ৬০ হাজার মেগাওয়াটের প্রকল্পটি তিব্বতের মেডোগ কাউন্টিতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উপর তৈরি হচ্ছে। এই নদী ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করার পর সিয়াং এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত হয়।

প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট বলে জানা গেছে, যা চিনের থ্রি গর্জেস ড্যামের থেকেও বেশি হবে। প্রকল্পটি এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ইয়ারলুং সাংপো নদী নামচা বারওয়া পর্বতের কাছে বিশাল একটি বাঁক নিয়ে ভারতের দিকে প্রবাহিত হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন ২০২৫ সালে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করবে। প্রকল্পটির বিশাল আকার এবং ভারতের সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থান এটিকে শুধুমাত্র একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; এটি নদীর জলপ্রবাহ, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।

ব্রহ্মা চেলানি তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, মেডোগ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে একটি চিনা ভূতাত্ত্বিক গবেষণার পর। ওই গবেষণায় প্রকল্প এলাকার নীচে একটি সক্রিয় পাইঝেন ফল্ট অর্থাৎ পৃথিবীর ভূত্বকের একটি সক্রিয় ফাটল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিনের সরকারি ভূতাত্ত্বিক জরিপের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ওই এলাকার শিলাস্তরে ফাটল রয়েছে এবং সেগুলির গঠন তুলনামূলকভাবে দুর্বল। গবেষকরা আরও সতর্ক করেছেন যে ভূমিকম্পজনিত কার্যকলাপ এবং ফল্টের নড়াচড়ার কারণে জলাধারের আশপাশে ভূমিধস ও শিলাখণ্ড সরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রিপোর্টে ২০১৭ সালে তিব্বতের নিংচি এলাকায় হওয়া ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ওই ভূমিকম্প একই ফল্ট সিস্টেমের সক্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তবে এই বৈজ্ঞানিক সতর্কতার অর্থ এই নয় যে ড্যামটি নিশ্চিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অথবা ভবিষ্যতে এটি ভেঙে পড়বেই। গবেষণাগুলি মূলত ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে।

ভারতের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু জলপ্রবাহ নিয়েও। মেডোগ প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগ শুধু ড্যামের নিরাপত্তা নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্ন রয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের উজানে নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ফলে চিনের হাতে কতটা ক্ষমতা চলে আসবে।

চিন এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর জলপ্রবাহের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে ভারতের কৌশলগত মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার সময় জলপ্রবাহের পরিবর্তন, হঠাৎ জল ছেড়ে দেওয়া বা জল ধরে রাখার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ব্রহ্মপুত্র ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। এর জলপ্রবাহের পরিবর্তন বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নদীতীরবর্তী মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে চিনের এই মেগা প্রকল্পকে ভারত শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প হিসেবে দেখছে না, বরং এর সঙ্গে জলনিরাপত্তা, পরিবেশ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কৌশলগত স্বার্থও জড়িত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

এই পরিস্থিতিতে ব্রহ্মা চেলানির বক্তব্য হল, চিনা বিজ্ঞানীদের প্রকাশ করা ভূতাত্ত্বিক ও পরিবেশগত উদ্বেগগুলি ভারতের আন্তর্জাতিক মহলে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে ভারতের উচিত প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা এবং ব্রহ্মপুত্রের জলপ্রবাহ ও পরিবেশের উপর এখন থেকেই নজরদারি আরও বাড়ানো।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%