০৬:৩৪ পি.এম
ভোলার চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় নকল করতে না পেরে কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষার কেন্দ্রের ওপর হামলা ও ভাঙচুর করেছে।
এই ঘটনায় বাসার শিক্ষক, গভর্নিংবডির সভাপতি, এবং পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হামলাকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হলে শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে কলেজের গেইটে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে তারা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষসহ অন্যান্য কক্ষে ভাঙচুর চালাতে শুরু করে। পুলিশ পরে গিয়ে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, তার কেন্দ্রে ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন নিয়মিত পরীক্ষা করছে। এই পরীক্ষার্থীরা সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। আজ তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা ছিল। প্রশ্ন কমন না হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা নকলের চেষ্টা করতে গেলে কক্ষ পরিদর্শকেরা তাদের বাধা দেন। এতে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে পরীক্ষা দেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর পরীক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য শান্ত হলেও সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়ার পর আবারও কক্ষ পরিদর্শকদের সাথে খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। তারা হॉल এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পুলিশ পরে সেখানে অতিরিক্ত আসে।
দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সবাই কলেজের প্রধান গেইটে অবস্থান নেয়। সকলেই একযোগে কলেজের গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতে থাকে। তা ব্যর্থ হয়ার পর তারা পিছনের গেটে ভেঙে এবং ওয়াল টপকিয়ে কলেজের বিভিন্ন কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর করতে থাকে। এক পর্যায়ে, তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে করে কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ ৪-৫ জন শিক্ষক আহত হন।
হামলাকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে আরও বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছে। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেলে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। যদি মামলা হয় তবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ার কারণে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবসহ জরুরি বৈঠক করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্রের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন