০২:১৬ পি.এম
মাদারীপুরে শ্বশুরবাড়ির ধানের গোলায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ হত্যামামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজৈর উপজেলা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া মুন্টু হোসেন (৫০) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া থানা মোড় এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়। গত ২৩ জুলাই রাত ৯টার দিকে উপজেলার তেকালা গ্রামের মাঠে এক চা বিক্রেতা সামিরুল শাহ (৬০) মুন্টুর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সামিরুল তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, তার আদি বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়, কিন্তু তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই গ্রামে বসবাস করছিলেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ঘটনার পর, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে সামিরুলের বড় ছেলে আবু সাঈদ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করেন। মামলায় মুন্টু হোসেন প্রধান আসামি ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই মুন্টু পলাতক ছিলেন। তবে পুলিশ তৎপরতা থামায়নি। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে রোববার দুপুরে তাকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে কুষ্টিয়া আদালতে জবানবন্দিতে মুন্টু হত্যার ঘটনা কবুল করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, জবানবন্দিতে মুন্টু জানিয়েছেন, তিনি সামিরুলের কাছে কয়েক লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা ফেরত দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে সামিরুলকে হত্যা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যার পর মুন্টু রাতেই ফোন বন্ধ করে মেহেরপুরের গাংনীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় অন্য একটি আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। এর পর মুন্টু নতুন একটি সিম কিনে রাজৈর উপজেলায় তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে নতুন সিমের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়া পুলিশ রাজৈর থানার পুলিশের সহযোগিতায় মুন্টুর শ্বশুরবাড়িতে যায়। এ সময় মুন্টু ওই বাড়ির উঠানে রাখা ধানের গোলার ভেতর শুয়ে ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ গোলার ভেতর থেকে মুন্টুকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে পরে মুন্টুকে কুষ্টিয়া আদালতে পাঠানো হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্টু মোবাইলে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বৈঠক করার কথা বলে সামিরুলকে ডেকে নেন। তারপর রাতে তাকে নিয়ে তেকালা মাঠে সড়কের পাশে একটি মাচায় বসে সামান্য বিশ্রাম করেন। জায়গাটি নির্জন ছিল এবং আশপাশে কোনো বসতবাড়ি নেই।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
তিনি বলেন, গল্প করতে করতে একসময় সামিরুলের ঘুম এসে যায়। তিনি মাচায় শুয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে মুন্টু ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর ছুরিটি ঘটনাস্থল থেকে পাশের একটি ঝোপে ফেলে দেন। মুন্টুর দেখানো জায়গা থেকেই রোববার রাতে সেই ছুরিও উদ্ধার করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন