বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:০৪ পি.এম
ফেসবুক লাইভে এসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মানিকগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান তালুকদার।
তিনি আগেই এনসিপি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে পদত্যাগের বিষয়টি সকলের সামনে প্রকাশ করেন।
লাইভে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাহিদুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘এনসিপির কর্মপরিবেশ বা ওয়ার্ক এনভায়রনমেন্টের সঙ্গে আমি হয়তো নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারিনি, অথবা এনসিপিও আমার সঙ্গে এডাপ্টেবল নয়।’
তিনি আরও জানান, তিনি একজন রাজনৈতিক সচেতন মানুষ এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও, এই মুহূর্তে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জাহিদুর রহমান জানান, জুলাইয়ের চেতনা থেকে প্রশাসনিক, শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, যদি ভবিষ্যতে কোনো দলকে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত মনে হয়, তাহলে সে দলে যোগদানের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক সালিম আল-আশকার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন, এই খবরটি জানিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)।
বুধবার (২ জুলাই) পিএফএর দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে সালিম আল-আশকার নিহত হন।
মূলত, সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজার যুদ্ধে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শত শত ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এক হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট নিহত হওয়ার কথাও পিএফএর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মনে রাখা উচিত, মাত্র পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন ৩২ বছর বয়সী সালিম আল-আশকার। মৃত্যুর সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন প্রথম সন্তানের জন্মের অপেক্ষায়।
তার মৃত্যুর পর, স্বজন, সতীর্থ এবং ফিলিস্তিনের ক্রীড়াঙ্গনসহ আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চিলির ফুটবল ক্লাব দেপোর্তিভো প্যালেস্তিনো এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, ৩২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক সালিম আল-আশকারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকিত। তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। এমন ঘটনার ধারাবাহিকতায় আমরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ন্যায়বিচার ও শান্তির আহ্বান জানাচ্ছি।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আল-আশকারের মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া প্রবেশপত্র দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় এ ঘটনাটি ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)।
কসবা তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাসফিয়া রহমান জান্নাত তার এক পরিচিত যুবকের সহযোগিতায় এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড তৈরি করেন এবং তা ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন। পরীক্ষা শুরুর আগে প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় অ্যাডমিট কার্ডে উল্লেখিত কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বোর্ড থেকে নিশ্চিত হয় যে অ্যাডমিট কার্ডটি সম্পূর্ণ ভুয়া। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।
কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির জানান, টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাসফিয়া রহমান জান্নাত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তার সহযোগীর সহায়তায় একটি জাল প্রবেশপত্র তৈরি করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার চেষ্টা করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তিনি ধরা পড়েন। তদন্তে জানা যায়, ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরিতে ইনজামুল হক তাকে সহায়তা করেছেন।
এই অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত উভয়কে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়াবেন না এই মর্মে তাদের কাছ থেকে কঠোর মুচলেকা নেয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের আলোচিত টিকটকার আলী হায়দরাবাদী সম্প্রতি তার স্ত্রী জয়নাব আলীকে তালাক দেওয়ার মুহূর্তের ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে আলীকে তার ভাইদের উপস্থিতিতে জয়নাবকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, "আমি আমার ভাইদের আগে তোমাকে তালাক দিচ্ছি।" তারপরই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও প্রকাশের পর জয়নাব আলীও একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়ে বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে আমার আবেদন, আমাকে এই দানবের হাত থেকে বাঁচান। অনুগ্রহ করে আমাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিন। আমার জীবন চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে।"
জয়নাবের অভিযোগ, তালাক দেওয়ার পাশাপাশি আলী তাকে গুরুতর পরিণতির হুমকিও দিয়েছেন। তার দাবি, আলী বলেছেন যে তার লাখ লাখ অনুসারী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, যার প্রভাব খাটিয়ে তার ক্ষতি এমনকি হত্যাও করা হতে পারে।
এসব অভিযোগ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিকটকার আলী হায়দরাবাদী। পরে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হাতে পবিত্র কুরআন নিয়ে তিনি জয়নাবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের জবাবে আলী বলেন, তিনি কখনোই জয়নাবের হাত বা আঙুল ভাঙেননি। এছাড়া তালাকের ভিডিও ধারণের বিষয়ে তার দাবি, এটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়; বরং ভবিষ্যতের প্রয়োজনে প্রমাণ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।
আলীর ভাষ্য, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগে থেকেই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। সে কারণেই তিনি তালাকের পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওতে ধারণ করেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জয়নাবের পরিবার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে আলী বলেন, "আমি কখনোই ভাবিনি যে জয়নাব এত নিচে নামতে পারে।"
এ ঘটনায় এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ আওয়ামী লীগের একজন কর্মীকে ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর পুলিশের সঙ্গে দেনদরবার ও সমঝোতার মাধ্যমে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর হ্যান্ডকাফটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপুল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মুলাদী থানায় সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে এসআই মনির হোসেন একটি মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি রাসেদুল ইসলাম সেতু ভূঁইয়া। বুধবার বিকেলে বাজারে তাকে দেখে পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পরপরই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে চারদিকে ঘিরে ফেলে। সর্বশেষ তারা পুলিশের কাছ থেকে সেতুকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেয়।
এদিকে হ্যান্ডকাফ ফেরত পেতে স্থানীয়দের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছালে, গভীর রাতে পুলিশের দেওয়া চাবি নিয়ে হ্যান্ডকাফটি খুলে স্থানীয়রা ফেরত দেয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খন্দকার সোহেল রানা।
তিনি জানান, 'ঘটনার পরপরই তারা হ্যান্ডকাফ ফেরত পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা করেছে। সেতু ভূঁইয়া ওই মামলার ৫ নম্বর আসামি। তাকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার এসআই মনির হোসেন থানায় নতুন একটি মামলা দায়ের করেছেন।'
ওসি জানিয়েছেন, নতুন মামলার পর আসামি সেতু ভূঁইয়া সহ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ