০৮:৩৬ এম
টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারে থাকা আমদানি পণ্য নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের এই ইস্যুতে ক্ষতিপূরণ এবং 'অ্যাক্ট অব গড' নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন বেসরকারি অফডকে বৃষ্টির পানি ঢুকে কনটেইনারে থাকা পণ্যগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ 'অ্যাক্ট অব গড' উল্লেখ করে এই ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে চারটি ব্যবসায়ী সংগঠন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে নীতিগত সহায়তা চেয়ে যৌথ চিঠি জমা দিয়েছে।
পাঁচ দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পুরো চট্টগ্রাম নগরীর মতো বন্দরের ইয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ইয়ার্ডে রাখা অসংখ্য কনটেইনার আংশিক পানির নিচে submerged হয়ে গেছে। একই সংগঠনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি অফডকেও।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে কনটেইনারগুলি ডুবে থাকার কারণে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। ক্লিফটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে কাগজজাতীয় উপকরণ, লবণ, রাসায়নিকসহ অনেক সংবেদনশীল পণ্য রয়েছে। এসব পণ্যে পানি লাগার কারণে আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের জন্য ক্ষতির সম্ভবনা সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা কোনো বেসরকারি অফডক কর্তৃপক্ষ বৃষ্টির পানিতে কনটেইনারে থাকা পণ্যের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেনি। বরং টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার ফলে বন্দরে রাখা পণ্য, কার্গো বা কনটেইনারের ক্ষতি হলে 'অ্যাক্ট অব গড' অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না, এমন একটি নোটিশও জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেছেন, বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড বা শেডে সংরক্ষিত কনটেইনার বা পণ্যের ক্ষতি হওয়ার কোনো প্রতিবেদন এখনো আমাদের কাছে আসেনি।
বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেছেন, যদি কোনো আমদানিকারক বা রফতানিকারকের পণ্য সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ভাবনাতে আসতে পারে। তবে তার পূর্বে ক্ষতির যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ক্ষতিপূরণ থেকে রক্ষা পেতে 'অ্যাক্ট অব গড'-এর অজুহাত ব্যবহার নিয়ে ব্যবসায়ীরা অসন্তুষ্ট। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি সহায়তা চেয়ে সরকারকে যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্দরে ও অফডকে জলাবদ্ধতার কারণে আমদানিকৃত তুলা, সুতা, কাপড়, শিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক পণ্য এবং প্যাকেজিং সামগ্রী নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বিদ্যমান।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বিজিএমইএর পরিচালক এস এম আবু তৈয়েব বলেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বন্দরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। 'অ্যাক্ট অব গড' বলে দায় এড়িয়ে গেলে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
বিজিএমইএর পরিচালক এনামুল আজিজ বলেছেন, অতিবৃষ্টি কোনো অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে গণ্য হয় না। তাই এটিকে 'অ্যাক্ট অব গড' হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের মোট আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বন্দরের সাথে সংযুক্ত ২১টি বেসরকারি অফডক। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর মধ্যে পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবসায়ীরাও দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন