ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় ২টি প্রশ্নে আপত্তি, বোর্ড ব্যাখ্যা দিল


এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় ২টি প্রশ্নে আপত্তি, বোর্ড ব্যাখ্যা দিল

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্রে 'ভুল' ছিল বলে অভিযোগ করেছেন। এই সম্পর্কে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনায় যদি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসংগতি প্রমাণিত হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা পূর্ণ নম্বর পাবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে যে অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে উঠেছে, সেটি বোর্ড কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তখন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হন। প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

একইসাথে, এই বিষয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে।

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা এবং অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার প্রেক্ষিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা ও আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০০ এম


দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ

দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানো হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সদ্য নির্ধারিত দামে।

গত ১৩ জুলাই সকালে স্বর্ণ ও রুপার দাম সম্পূর্ণভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দিন ভরিতে এই মূল্যবান ধাতু দুটি যথাক্রমে ২ হাজার ২১৬ টাকা এবং ১১৭ টাকা কমানো হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রূপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনার পর স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, নতুন দাম ১৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায়।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। এমনকি স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, গত ১০ জুলাই সকালে বাংলাদেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন প্রতি ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ওই দিন সকাল ১০টা থেকে।

এখন পর্যন্ত চলতি বছরে দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৯০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ৪৪ বার বাড়ানো হয়েছে, ৪৫ বার কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; সেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, অন্যদিকে ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি দেশে রুপার দামও কমানো হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বছরের এখন পর্যন্ত দেশে রুপার দাম ৫৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ২৮ বার বাড়ানো হয়েছে এবং অন্য ২৮ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গবিতে পরীক্ষার স্থগিতি, তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির মধ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ এম


গবিতে পরীক্ষার স্থগিতি, তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির মধ্যে

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা রাজধানীসহ সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংকটময় পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) চলতি সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। এছাড়াও, অন্যান্য সেশনের শিক্ষার্থীদেরও একই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ক্লাসের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে যেতে হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে চলমান জানুয়ারি-জুন সেশনের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ১২ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে। তবে অন্যান্য সেশনের শিক্ষার্থীদের ক্লাস এখনো কার্যকর রয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি কমানোর জন্য এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মতে, সাভার পৌর এলাকা, আশুলিয়ার জামগড়া, ভাদাইল, বাইপাইল, গাজীপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্ষাকালে প্রায় প্রতি বছর একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ার কারণে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে তাদের। কিছু এলাকায় পানি পার হয়ে মূল সড়কে উঠতে হচ্ছে, যা ভোগান্তির অন্যতম একটি কারণ। কোথাও কোথাও গণপরিবহনও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে না।

ভোগান্তি সহ্য করে কর্মস্থলে আসার বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আহমেদ তন্বী জানান, ‘আমার বাসার সামনের রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান থাকায় গতকালের অতিবৃষ্টিতে রাস্তাজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানি ভেঙে বড় রাস্তায় গিয়ে অনেক কষ্টে একটি রিকশা পেয়েছিলাম। পাকিজা মোড়েও হাঁটুসমান পানি, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, আবার ২০ মাইল এলাকায়ও হাঁটুসমান পানি। গাড়ি রাস্তায় অর্ধেক ডুবে যায়, ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও আমাদের যেতে হচ্ছে। সরকারের উচিত অন্তত দুই দিনের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা। তবে এ সম্পর্কে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ভোগান্তি হচ্ছে, কিন্তু এভাবেই যেতে হচ্ছে।

কৃষি অনুষদের সিনিয়র প্রভাষক লাবণী ইয়াসমিন বলেছেন, বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতার কারণে সকালে ক্যাম্পাসের বাস ধরা এবং নিয়মিত যাতায়াত করা আমাদের সবার জন্য চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। বাস মিস হয়ে গেলে জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় কোনো গাড়ি পাওয়ার উপায় থাকে না। যেসব দিন পরীক্ষার সময় থাকে না, সেসব দিন অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস গ্রহণের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পড়াশোনার ক্ষতি হবে না। এর মাধ্যমে ভোগান্তিও কমবে।

আইন বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, আমরা যারা মানিকগঞ্জ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করি, তাদের প্রতিদিনের যাত্রাপথ এরই মধ্যে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর হয়ে থাকে। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নোংরা পানির মধ্যে যাতায়াত করতে গিয়ে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। জলাবদ্ধতার জন্য রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট লেগে থাকে। ফলস্বরূপ, সময়মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ভোগান্তির বিষয়ে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের নবম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. সাঈদ হাসান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত হলেও অক্টোবর সেশনের সব ক্লাস নিয়মিত চলছে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হাঁটুপানি উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে আসছেন। অতিরিক্ত পানির কারণে এনায়েতপুরের ফকিরবাড়ী মোড়ে রিকশা থেমে যায়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে যেতে পারলে ক্লাসের জন্য কীভাবে যাবে? একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত হলেও ক্লাস চলমান রয়েছে, বিষয়টি সবার কাছে বেমানান মনে হয়।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে আসতে পারবে না, তারা কোর্স শিক্ষকের কাছে জানালে পরে ক্লাস করার সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা বিবেচনা করে চলমান সেমিস্টারের পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদ্দুজামান জানান, দেশের বর্তমান বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আপাতত চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত হচ্ছে। ক্লাসের বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা ক্লাস নেবেন কি না, সেটি তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে উপস্থিতির বিষয় সম্পর্কে এখনো কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও দুই-এক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত এড়িয়ে সাময়িকভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করে জরুরি প্রশাসনিক কাজ অনলাইনে পরিচালনা করা সম্ভব কি না—এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিস বন্ধ রাখার কোনো নিয়ম নেই। এখনো পর্যন্ত অফিস বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। তারা গাড়িতে করে আসবেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কেউ সমস্যায় পড়লে বা আসতে না পারলে আবেদন করবেন। আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা ও ক্লাস দুটি আলাদা বিষয়। কেউ যদি ভিজে ভিজে পরীক্ষা দিতে আসে, তাহলে টানা তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই আমরা আপাতত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ক্লাসের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্লাস স্থগিতের আবেদন করতে পারে। এতে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ সম্পর্কে জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ এম


আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ সম্পর্কে জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগেই ফলাফলের বিষয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা প্রখ্যাত ক্রীড়া জ্যতিষী জর্জিও আরমাসের দ্বারা উত্থিত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরমাসের দাবি है যে, নির্ধারিত ৯০ মিনিট কিংবা অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও ম্যাচের নিষ্পত্তি হবে না। তার মত অনুযায়ী, ফাইনালের টিকিট পেনাল্টি শ্যুটআউটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

আরমাস জানান, তার পূর্বের একটি ভবিষ্যদ্বাণী ইতোমধ্যেই সত্য হয়েছে, যার কারণে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে পেনাল্টি শ্যুটআউটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখন থেকেই পেনাল্টি ঠেকানোর প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল বা কোন দল জয়ী হবে, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি এই ক্রীড়া জ্যোতিষী। বরং তিনি বলছেন, দুটি দলের শক্তিমত্তা এতটাই কাছাকাছি যে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়াতে পারে।

এদিকে, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্যও এই জ্যোতিষী একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। আরমাসের বিশ্বাস, এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে মেসি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে সক্ষম হবেন।

জ্যোতিষীর এই মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তার পূর্বের ভবিষ্যদ্বাণীর সাফল্য উল্লেখ করে নতুন দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে নিছক অনুমান বলে মনে করছেন। তবে সব মিলিয়ে সম্ভাব্য পেনাল্টি শ্যুটআউটের পূর্বাভাস ম্যাচটিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, জর্জিও আরমাসের এই মন্তব্য জ্যোতিষভিত্তিক পূর্বাভাস, যা ম্যাচের প্রকৃত ফলাফল মাঠের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করবে।

সূত্র: মার্কা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বছরে দুইবার ভুট্টা ঘাস উৎপাদন,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ এম


বছরে দুইবার ভুট্টা ঘাস উৎপাদন,

বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বছরে একবার দানার জন্য ভুট্টা চাষের পরিবর্তে পশুখাদ্য হিসেবে বছরে দুইবার ভুট্টা ঘাস চাষ করলে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে সারা বছর গবাদিপশুর খাদ্যের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এছাড়া, মৌসুমি বন্যাকালীন সময়ে জীবিকা নির্বাহ সহজ হয় এবং গবাদিপশু পালন আরও টেকসই হয়। বর্ষাকালে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা জলমগ্ন অবস্থায় পশুখাদ্যের তীব্র সংকট মোকাবিলায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, হাওর বাস্তুতন্ত্র প্রায় ২০ লাখ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যা বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১৪ শতাংশ। বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এই অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে থাকায় গবাদিপশু তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ে। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে কৃষকেরা অনেক সময় কম বয়সেই গবাদিপশু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। ফলে পারিবারিক আয় ও গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা—উভয়ই হ্রাস পায়।

এমতাবস্থায় কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) গবেষণা অনুদানের আওতায় পশুখাদ্য সংরক্ষণের একটি টেকসই প্রযুক্তি প্রবর্তন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের গবেষণার পর এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বছরে দুইবার ভুট্টা ঘাস উৎপাদন এবং সাইলেজ (সংরক্ষিত পশুখাদ্য) তৈরির ওপর ভিত্তি করে একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। দানার জন্য ভুট্টা সংগ্রহের পরিবর্তে কৃষকেরা শুষ্ক মৌসুমে দুইবার সম্পূর্ণ ভুট্টাগাছ সবুজ ঘাস হিসেবে চাষ করেন এবং বর্ষাকালে গবাদিপশুকে খাওয়ানোর জন্য তা সাইলেজ হিসেবে সংরক্ষণ করেন।

এই দ্বৈত-চক্র ভুট্টা ঘাস উৎপাদন পদ্ধতির ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এতে প্রতি একরে প্রায় ৩২ দশমিক ৭ টন বায়োমাস উৎপাদিত হয়েছে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় আট গুণেরও বেশি। যদিও এ পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেশি, তবু শুধুমাত্র দানার জন্য ভুট্টা উৎপাদনের তুলনায় এতে চার গুণেরও বেশি মুনাফা অর্জিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত ভুট্টার সাইলেজ দুগ্ধবতী গরুর জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে খাওয়ানোর মাধ্যমে দেখা গেছে, সাইলেজ ব্যবহারের ফলে বন্যা মৌসুমে গরুর দৈহিক ওজন হ্রাস রোধের পাশাপাশি দৈনিক গড় দুধ উৎপাদন প্রতি গরুতে ৩ দশমিক ৭ লিটার থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৫৮ লিটারে উন্নীত হয়েছে। গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, হাওর অঞ্চলে গবাদিপশুর প্রচলিত খাদ্য ধানের খড়ের তুলনায় ভুট্টার সাইলেজ অনেক বেশি প্রোটিন ও শক্তি সরবরাহ করে।

ড. সাইফুল জানান, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর, মহিষারকান্দি ও উরিঅন্দ গ্রামের তিন শতাধিক কৃষক এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেন। যদিও শুরুতে কৃষকদের কাছে সাইলেজ তৈরির বিষয়টি অপরিচিত ছিল, তবু বর্ষাকালে গবাদিপশুর উন্নত স্বাস্থ্য, অধিক দুধ উৎপাদন এবং খাদ্যসংকট কমে যাওয়ার সুফল প্রত্যক্ষ করার পর তারা দ্রুত এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, সাইলেজের এই ধারণা হাওর অঞ্চলে ভুট্টা চাষবিষয়ক প্রচলিত চিন্তাধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। শুধুমাত্র ভুট্টার দানার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে কৃষকেরা সম্পূর্ণ ফসলকে উচ্চমানের সাইলেজে রূপান্তর করতে পারেন। এর ফলে বন্যা মৌসুমে গবাদিপশুর জন্য নিরবচ্ছিন্ন খাদ্যের নিশ্চয়তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক মুনাফাও অর্জন করা সম্ভব। ফসল ও গবাদিপশুর সমন্বিত এই পদ্ধতি হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

তবে গবেষকের মতে, কৃষকদের সচেতনতার অভাব, সাইলেজ তৈরির যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, উন্নত মানের ভুট্টার বীজের ঘাটতি, সংরক্ষণ উপকরণের অভাব, ঋণপ্রাপ্তির সীমিত সুযোগ এবং কৃষি সম্প্রসারণ সেবার দুর্বলতা এই প্রযুক্তি বিস্তারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জানা গেছে, কেজিএফের অর্থায়নে ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি শুরু হয়। এতে প্রধান গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম। পাশাপাশি কেজিএফের একটি কারিগরি দল প্রকল্পটি নিবিড়ভাবে তদারকি করছে। দলটিতে রয়েছেন নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. নাথু রাম সরকার, জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ (জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদ) ড. মো. মনোয়ার করিম খান, জ্যেষ্ণ বিশেষজ্ঞ (উদ্যান ফসল) ড. এম. নাজিরুল ইসলাম এবং জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ (প্রাণিসম্পদ) ড. মো. এরশাদউজ্জামান।

সম্প্রতি তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়, সাইলেজ তৈরি ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং হাওর অঞ্চলে এ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে উৎসাহ প্রদান করেন।

গবেষকেরা মনে করেন, এটি কেবল একটি নতুন শস্য উৎপাদন পদ্ধতি নয়; বরং বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ হাওর এলাকায় শস্য উৎপাদন ও গবাদিপশু পালনকে সমন্বিত করার একটি সম্ভাবনাময় জীবিকা কৌশল। সরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তায় এ প্রযুক্তি দেশের বন্যাপ্রবণ জলাভূমি এলাকায় টেকসই কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%