০৭:৫৮ পি.এম
মানিকগঞ্জে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা।
মানিকগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জেলায় মোট ৪ হাজার ৯৬৭টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছিল।
এবং একই বছরে তালাকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৬০টি। ২০২৫ সালে বিয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়ে যায় ৫ হাজার ২০৩টিতে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এক্ষেত্রে তালাকের সংখ্যাও বেড়ে গিয়ে হয় ২ হাজার ৫৮টি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬টি করে সংসার ভেঙে যাচ্ছে।
এটি কেবল একটি সংখ্যার হিসাব নয়, বরং এটি একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে, যা পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের নির্দেশ করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পারিবারিক জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ ও কার্যকর যোগাযোগের অভাব বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
এছাড়া, অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক কলহ, সামাজিক পরিবর্তন এবং অল্প বয়সে বিয়েও এই প্রবণতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল বাছেদ জানিয়েছেন, মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় ধৈর্য কমে গেছে।
তার মতে, ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সামান্য সমস্যাতেই অনেক দম্পতি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
তিনি উল্লেখ করেন, তাদের ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি তালাকের আবেদন জমা পড়ে।
মানিকগঞ্জ জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান জানাচ্ছেন, জেলার সব বিয়ে ও তালাকের তথ্য জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা পড়ে না।
অনেকে বিকল্প নিবন্ধন বই ব্যবহার করছে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।
তার দাবি, সরকারি তথ্যের তুলনায় প্রকৃত বিয়ে ও তালাকের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই তালাকের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি স্বামীদের মাদকাসক্তিকে দায়ী করছেন।
মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) শাহিনুর রহমান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে পরকীয়ার সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে।
এছাড়া, মাদকাসক্তি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব, সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতাও বিয়ে বিচ্ছেদের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
তিনি মন্তব্য করেছেন, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি পেলে বিয়ে বিচ্ছেদের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন