বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৫৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর কাজ দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা ইরানজুড়ে ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত। এই খবরটি পাওয়া গেছে আল–জাজিরা থেকে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই তীব্র বোমাবর্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরপরাধ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়া। বুধবার (৮ জুলাই) গভীর রাতে আগের রাতের ধারাবাহিকতায়, মার্কিন বাহিনী ইরানজুড়ে এই বিমান হামলা চালানো শুরু করে। ফলে অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর তথ্য পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর জানান, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ৭ ও ৮ জুলাই পর্যন্ত ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়ে গেছে। এসব হামলার ফলে এখনও পর্যন্ত ১৪ জন শহীদ এবং ৭৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় তেহরানের সঙ্গে যুক্ত রেলপথের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরান-তেহরান রেল করিডরের মূল রেলপথও। বুশেহরে অবস্থিত দেশের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকাতেও হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানি হামলার কারণে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ‘শেষ’ হয়ে গেছে, এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন। হামলার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে বোমাবর্ষণের ভিডিও পোস্ট করে নতুন করে দেশটিকে হুমকি দেন।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি গতকাল (মঙ্গলবার) জাহাজে ইরানের বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ। যদি এটি আবার ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হবে!’ ট্রাম্প এর কয়েক ঘন্টা পূর্বে প্রতিশ্রুতি দেন যে এই হামলা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে যাবে না, বরং এটি হবে ‘খুবই দ্রুতগতির’।
এদিকে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত। ইরানের হামলার সতর্কতার জন্য দেশটিতে অন্তত তিনবার সাইরেন বেজে ওঠে। এর পাশাপাশি, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থানকেও লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। অন্যদিকে, জর্ডানের আকাশসীমার ভেতরে প্রবেশ করা ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটির সাজেকে আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনা সহায়তায় সাজেক ছেড়ে গেছেন ১৫০ পর্যটক। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলের সময়ে তারা সাজেক ত্যাগ করেন।
বাঘাইহাট সেনা জোন থেকে জানানো হয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে সড়ক ডুবে যাওয়ায় মোট ৫৬১ জন পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছিলেন। এদের মধ্যে ১৫০ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ত্যাগ করেন। এই ১৫০ পর্যটকের মধ্যে ১০০ জন পুরুষ, ৪০ জন নারী এবং ১০ জন শিশু রয়েছেন। যাদের সড়কের বিভিন্ন জায়গায় নৌকা দিয়ে পার করা হয়েছে। অন্যদিকে, যাদের এখনও ফিরতে পারেনি তাদের বিষয়েও পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন জানিয়েছেন, যারা জরুরি কাজ নিয়ে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়ে গেছেন। বাকিরা এখনও সেখানে রয়েছেন এবং সড়ক থেকে পানি সরে গেলে তারা ফিরে আসবেন।
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, "পানি কিছুটা কমে আসায় ও যারা জরুরি কাজ আছে, তাদের ১৫০ পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক সর্বশেষ সময় ছেড়েছেন। আমরা রিসোর্ট মালিকদের সাথে আলোচনা করে প্রথম দিন রুম সার্ভিস ফ্রি দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছি। পরে সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সাথে কথা বলে তাদের থাকার খাবারও ফ্রি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।"
কিছু দিনের টানা বর্ষণের জন্য খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থান ডুবে যাওয়ার ফলে সেখানে আটকা পড়েন পর্যটকরা। অতি ভারী বর্ষণের কারণে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে সাজেক ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। তবে আটকা পড়া পর্যটকরা তার পূর্বেই সাজেকে পৌঁছেছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট ও সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হানের স্বাক্ষর করা একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল ৮ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর গ্রীন রোডে পানি ভবনের দ্বিতীয় তলায় কেন্দ্রটির কার্যালয়ে দিনরাত কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে।
এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে।
এর জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া, ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের মাঝেরচরে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় লোকালয় এবং ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।
গত তিন দিন ধরে ভারী বর্ষণ এবং জোয়ারের পানির চাপে চরের ঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধের ৪০ থেকে ৫০ ফুট অংশ ভেঙে গিয়েছে। এতে করে চরের প্রায় ১০০ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের মাঝেরচরে ২২০টি পরিবার বসবাস করে। তাদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ ও মাছ ধরা। বন্যা এবং জোয়ারের পানি থেকে চরের কৃষিজমি রক্ষার জন্য এই বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। हाल ही में বলেশ্বর নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির চাপে ঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধের ৪০ থেকে ৫০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। এর ফলে চরের ভেতরে পানি ঢুকে ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি চরের অনেক বাসিন্দা দুটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মাঝেরচর এলাকার সিপিপির সদস্য হালিম মোল্লা জানান, বলেশ্বর নদের পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট বেড়ে গেছে। এতে কিছু বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের প্রশাসক মো. মোজাম্মেল হক জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তারা জেনে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নড়াইল জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের যাকাতের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা কার্যালয়ের সভাকক্ষে একটি অনুষ্ঠানে অসহায়, গরিব ও দুস্থদের মাঝে এসব চেক বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু বাকির রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি.এম. রাহসিন কবির।
এ সময় জেলা মডেল মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাওলানা জাকারিয়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ এবং সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রে জানা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতি অর্থবছরে যাকাত তহবিলের আওতায় অসহায়, গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।
এবারের উদ্যোগের মাধ্যমে ৬১ জন নারী ও পুরুষ সুবিধাভোগীকে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫২ টাকা সমমূল্যের যাকাতের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু বাকির রিয়াজুল হক বলেন, যাকাত অর্থ সহায়তা নয়, বরং এটি দারিদ্র্য বিমোচনের একটি কার্যকর হাতিয়ার।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘকাল ধরে এই মহৎ উদ্যোগ পরিচালনা করছে, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক। সঠিকভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা করা গেলে দেশের দরিদ্র জনগণের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হবে।
যাকাতের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সুবিধাভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সামাজিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এই অনুষ্ঠানে ঈমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ৬ জনকে সুদমুক্ত লোন হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ