বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৯ পি.এম
মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি জানান, "বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে।"
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে, যা আমদানিকারকদের জন্য একটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, "হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।"
তিনি আরও জানান, "আমদানির উদ্দেশ্যে ওপারে তাদের ক্রয়কৃত ইলিশ রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এছাড়া আমদানি খরচের লোকশান তো রয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় একটি বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম নামক এক আসামির বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেছে। আদালত একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করেছে, অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে এই সাজা প্রদান করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটি একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট শহিদুল ইসলাম তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় বাড়িটি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে মোবাইলে ছবি দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন শহিদুল ইসলাম। ঘটনার পর শিশুটি বিবস্ত্র অবস্থায় দৌড়ে বাড়িতে ফিরে আসে। শিশুটির মা যখন বিষয়টি জানতে চান, তখন শিশুটি ইশারার মাধ্যমে শহিদুল ইসলামের নাম জানায়। পরে শিশুটির বাবা রশিদুল ইসলাম হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, "এটি একটি আলোচিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান মডেল থানা ও বনানী থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তারিখে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিএমপির আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরকে গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং মো. সালাউদ্দিনকে বনানী থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই আদেশে বনানী থানার পূর্বের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলামকে গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের কারণে গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে ক্লোজড করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি। এর ফলে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৮১৪ জন, যার মধ্যে ছাত্র ৪৮০৫ জন এবং ছাত্রী ৫০০৯ জন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটি ছাত্র হল এবং দুটি ছাত্রী হল রয়েছে। এসব হলে মোট ২৮৫৮ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের সুযোগ রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদের দুইটি হলে মোট আসন রয়েছে ১৪৯৪টি। এতে প্রায় ৩১.০৯ শতাংশ ছাত্র হলের সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, ছাত্রীদের দুটি হলে ১৩৬৪টি আসন রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭.২৩ শতাংশ ছাত্রী থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প আসনের হলগুলোতে বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, হলে সিট পাওয়া সহজ নয়। দ্বিতীয় বর্ষে সিট পেলেও নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। স্নাতকোত্তরে হলে সিট পেতে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, তবুও সবাই তা পান না।
এদিকে, আবাসন সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশে মেস ও ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা বেড়ে গেছে। এসব মেস ও বাসায় শিক্ষার্থীদের লোডশেডিং, বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের ভাড়া বাড়ি বা মেসে থেকে আসা-যাওয়া করেন। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, বাড়ি ও মেসের ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। খরচ জোগাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। মেসে খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়।
ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী ইরিন জাহান ইকরা বলেছেন, "বিদ্যুৎ সংকট এখন দেশের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। হলে সিট না হওয়ার কারণে বাইরে মেসে থাকতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিদ্যুৎ থাকলেও আমরা অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা চরম বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছি, যা আমাদের পড়াশোনায় ভীষণভাবে প্রভাব ফেলছে। মেসের ভাড়া এবং সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করার কারণে প্রতি মাসে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। যা বহন করা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে কষ্টকর বটে। এছাড়া বাহিরের মেছগুলোতে মেয়েদের নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও রয়েছে।"
নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ আসিফ আনাস জানিয়েছেন, "লোডশেডিং সমস্যা সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বাসাগুলোর পরিবেশ ও মান অনুযায়ী ভাড়া বেশি। কোনো কিছুর সুযোগ সুবিধা তেমন নেই বললেই চলে। বাসার কোনো সুবিধা নেই আবার কিছু খারাপ বা নষ্ট হলে নিজেরা কোনো দায়ভার নেয় না। বাড়িওয়ালাদের ব্যবহার শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। এসব কারণে পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে।"
এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেছেন, "আমাদের চারটি হল রয়েছে এবং আরও দুটি হল নির্মাণাধীন রয়েছে। আবাসিক সংকট রয়েছে, এ বিষয়ে আমি অবগত। আমরা এর আগেও প্রশাসনকে নির্মাণাধীন হল দুটি দ্রুত চালু করার জন্য জানিয়েছি। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, দ্রুতই হল দুটি চালু হবে। আশা করছি, হল দুটি চালু হলে আবাসিক সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।"
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেছেন, "অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমি মনে করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে। আমাদের চারটি হলে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করতে পারে। এছাড়াও আমাদের নতুন দুটি হল তৈরি হচ্ছে। আমাদের নতুন এই দুটি হল সেপ্টেম্বর মাসেই হস্তান্তর করার কথা।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা আশা করি, এ বছরই সেখানে অ্যালটমেন্ট দিতে পারব। হলের প্রায় সব কাজই শেষ। আমরা ফার্নিচারেরও অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এই মাসে হল দুটি বুঝে পেলে সেখানে আরও ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হবে। এতে আমরা ৫০ শতাংশ আবাসন সুবিধার আওতায় চলে আসব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ির স্লুইসগেটে একটি ড্রামের ভিতর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধের (৫০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে, স্থানীয় এলাকার লোকজন পানিতে একটি ড্রাম ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রামের ভেতরে মরদেহটি খুঁজে পায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যার পর মরদেহটি ড্রামে ভরে ফেলে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিচয় জানার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ