০৩:৫১ পি.এম
রাজধানীর বাড্ডায় পূর্ব শত্রুতার কারণে এক অটোরিকশাচালককে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এ বিষয়ে বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহমুদুল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মো. উলিউর রহমান অলি (২৪) পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মৃত আসাদ মিয়া এবং নাজমা বেগমের ছেলে। বর্তমানে তিনি পূর্ব বাড্ডার জোড়াখাম্বা এলাকায় কামরুল নামে এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকতেন।
এসআই মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব বাড্ডার একটি পরিত্যক্ত জমিতে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় অলির মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মাটিচাপা দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে ওই মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নিহতের মাথার পেছনে, বাম কানের নিচে এবং মাথার উপরের অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ছাড়া তার মুখমণ্ডল শক্ত করে একটি ফুলহাতা শার্ট দিয়ে বাঁধা ছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের খালাতো ভাই রুবেল জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই থেকে অলি নিখোঁজ ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেছেন।
এ সময় অলির অটোরিকশাটি উদ্ধার হলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন পূর্ব বাড্ডার বালুর মাঠ এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে অলির ব্যবহৃত একটি স্যান্ডেল এবং রক্তমাখা একটি পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। পরে এই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা অনুসন্ধান চালিয়ে অলির মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
রুবেলের দাবি, অলির বন্ধু জাহিদ, যিনি কাপড়ের ব্যবসা করেন, কয়েক মাস আগে অলির মা নাজমা বেগমের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন