ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকায় বৃষ্টির আভাস, বজ্রপাতের শঙ্কা


ঢাকায় বৃষ্টির আভাস, বজ্রপাতের শঙ্কা

দিনের প্রথমার্ধে ঢাকা এবং এর আশপাশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে বজ্রপাতও হতে পারে।

 শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দুপুরে ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময় বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতও হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা হালকা কমতে পারে।

আজ ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৭ দশমিক ৬০ সেলসিয়াস এবং একই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ।

গত শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়া। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এদিকে, দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এই সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরাগে উদ্ধার মৃত সুমনের ফেসবুক পোস্টে মিছিলে অংশ নেওয়ার ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ এম


তুরাগে উদ্ধার মৃত সুমনের ফেসবুক পোস্টে মিছিলে অংশ নেওয়ার ছবি

তুরাগে উদ্ধার নিহত সুমনের ফেইসবুকে পোস্টে মিছিলে অংশ নেয়ার ছবি

সম্প্রতি তুরাগ নদের আশুলিয়া ঘাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাতজন নেতা-কর্মী গ্রেফতার হওয়ার সময় ধাওয়া খেয়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরে ওই নদীতে একাধিক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের গুজব, সন্দেহ এবং সমালোচনা ঘনীভূত হয়েছে।

২২শে জুনে ৬০-৬৫ জন নেতা-কর্মী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিল করতে তুরাগ নদে ট্রলার নিয়ে আশুলিয়া ঘাটে যান, কিন্তু সেখানে গ্রেফতার হন। তারা হামলা ও ধাওয়ার শিকার হয়ে পানিতে ডুবে সাতজন নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এরপর থেকে তুরাগ নদ থেকে চারদিনের মধ্যে তিনটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

আশুলিয়ায় কী ঘটেছিল, এ বিষয়ে যথাযথ ধারণা পেতে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, নিহতের পরিবারের সদস্য এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারী একজন আওয়ামী লীগ কর্মীর সাথে কথা বলা হয়েছে।

আশুলিয়া পুলিশ বলছে, সাতজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাস্থল থেকে তুরাগ নদে পড়ে নিখোঁজ হওয়া এবং মৃত্যুর অভিযোগ ভিত্তিহীন।

কিন্তু ওই ঘটনার পর তুরাগের বিভিন্ন স্থানে চারটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাদের পরিচয় নিয়ে জোরালো আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ২২শে জুনের পর তুরাগ নদে যাদের মরদেহ উদ্ধার হয়, তাদের অন্তত দুজন সে দিন মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

তুরাগে মিছিলে অংশ নেওয়া একজন আওয়ামী লীগ কর্মী বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছেন, তুরাগে উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে আরিফ এবং সুমন ২২শে জুনের মিছিলে অংশ নেওয়ার পর তুরাগে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, সুমন যুবলীগের সদস্য এবং আরিফ ছাত্রলীগের সাথী ছিলেন।

আশুলিয়ায় গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের সঙ্গে মিছিল করা ওই আওয়ামী লীগ কর্মী নিরাপত্তার কারণে নিজের নাম পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। ঘটনাস্থল থেকে তিনি নিজেই পানিতে লাফিয়ে আত্মগোপন করেছেন এবং এখনো পালিয়ে আছেন।

সৃত্র: বিবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমরা ছন্দহীন ও অগোছালো ছিলাম’: মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


‘আমরা ছন্দহীন ও অগোছালো ছিলাম’: মেসি

কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দর বিরুদ্ধে জয় পেতে আর্জেন্টিনাকে যে এত কাঠখড় পোড়াতে হবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি! শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে মায়ামিতে শেষ ৩২–এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো খেলায় আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়লাভ করেছে। শেষ ১৬–এর টিকিট নিশ্চিত করার পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি নিজের দলের পারফরম্যান্সের কঠোর সমালোচনা করেছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন জয় পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেছেন যে, দল প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে মেসি মন্তব্য করেন, 'এই দল অনেক দিন ধরে প্রমাণ করে আসছে যে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাবে। আজ আমরা সেট-পিস থেকে গোল করতে পেরেছি, যেটা সাম্প্রতিক সময়ে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছিলাম না। এমন ম্যাচে সেট-পিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দলে ভালো হেডার রয়েছে, আকাশে বল দখলে দক্ষ খেলোয়াড়দের রয়েছে। আজ আমরা সেটার সুবিধা নিতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিক থেকেই সেট-পিস নিয়ে কাজ করছি। এমন প্রতিযোগিতায় এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'

এরপর নিজের দলের দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, 'আমরা ঠিকভাবে প্রেস করতে পারিনি। অনেক সময় আমাদের লাইনগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি ছিল। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাছ থেকে প্রতিপক্ষের সেন্টার-ব্যাককে চাপে ফেলতে গেলে সেন্টার-ব্যাকদের অনেকটা পথ পারি দিতে হচ্ছিল।'

মেসি উল্লেখ করেন, 'আমরা ছন্দহীন ও অগোছালো ছিলাম। তারা সব সময় একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের সুবিধা পাচ্ছিল, কারণ আমরা তাদের সঙ্গে সমানভাবে ম্যাচ করতে পারিনি। তারা বল ছাড়া দূরত্বে আমাদের দৌড়ে ফেলেছে, কারণ আমরা কার্যকরভাবে প্রেসিং করতে পারিনি।'

মেসি কেপ ভার্দের প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, 'আমরা জানতাম ম্যাচটি খুব কঠিন হবে। এই দল যে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে হারেনি, সেটার কারণ আছে। আমরা প্রথম গোল করে সবচেয়ে কঠিন কাজটি করেছিলাম। ভেবেছিলাম এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে চলে আসবে। কিন্তু ঠিক উল্টোটা হয়েছে। আমরা বলের দখল হারিয়েছি, পিছিয়ে গেছি এবং ঠিকভাবে প্রেস করতে পারিনি।'

বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেন তিনি। মেসি বলেন, 'তারা শুরু থেকেই আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আমরা জানতাম এটি কঠিন ম্যাচ হবে। এটি এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে কেউ কাউকে কোনো সুযোগ ছাড়ে না। নামের কারণে আমরা অনেক সময় দলগুলোর মর্যাদা বিচার করি, কিন্তু আমরা জানতাম কেপ ভার্দেকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। এই বিশ্বকাপের বিশেষত্ব হলো, সব দলই খুব কাছাকাছি মানের। প্রতিটি ম্যাচই ভীষণ কঠিন। আজ আমরা বরাবরের মতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, ভালো খেলি বা খারাপ খেলি। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্রাম নেওয়া, সামনে কী আসছে তা নিয়ে ভাবা, ভালো দিকগুলো ধরে রাখা এবং আজ যেসব ভুল করেছি, আমার মতে সংখ্যা অনেক ছিল; সেগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে।'

আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক আবারও মেসি। তিনি এই ম্যাচে প্রথম গোলটি করেন, যার ফলে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২০। এছাড়া লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলে তিনি অ্যাসিস্ট করেন এবং শেষ গোলেও তার পাঠানো ক্রস থেকে প্রতিপক্ষে আত্মঘাতী গোল আসে, যা আর্জেন্টিনার ৩-২ জয় নিশ্চিত করে।

লিওনেল স্ক্যালোনির অধীনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কঠিন পরীক্ষায় পড়লেও শেষে গিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় তারা শেষ ষোলোতে মিশরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার বাতাসে আজ বড় চমক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


ঢাকার বাতাসে আজ বড় চমক

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের কবলে রয়েছে। তবে আজ বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ২৮তম। আর দূষণের মাত্রাও বর্তমানে একেবারেই কম।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে আইকিউএয়ারের সর্বশেষ সূচকে দেখা যায়, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) স্কোর ৬৯, যা সহনীয় বা মোটামুটি ভালো ধরা হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান কিছুটা ওঠানামা করতে পারে।

দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে কঙ্গো রয়েছে। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১৯৫, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সূচকে আরও রয়েছে- উগান্ডার কাম্পালা, পাকিস্তানের লাহোর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, ভারতের দিল্লি ও কলকাতা এবং চিলির শান্তিয়াগো।

এদিকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর শহরের মধ্যে রয়েছে- ইরাকের বাগদাদ, ইথোপিয়ার এডিস আবাব, চীনের চেংডু, ইসরাইলের জেরুজালেম ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজারো মানুষের ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজারো মানুষের ভিড়

আজ শনিবার ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষই ছবিতে দেখা যাচ্ছে: রয়টার্স।

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের বাইরে আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করে আছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় জনসাধারণের জন্য মোসাল্লা কমপ্লেক্স খুলে দেওয়ার আগেই শোকাহত মানুষের দীর্ঘ লাইন তৈরী হয়ে যায়। এই গ্র্যান্ড মোসাল্লাতেই গত শুক্রবার (৩ জুলাই) খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষমাণদের একজন সোমাইয়ে হামেদি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এসেছি। তাই এভাবে অপেক্ষা করা আমাদের কাছে কষ্টকর বা কঠিন মনে হচ্ছে না।’

খামেনির মৃত্যুতে ইরানজুড়ে কয়েকদিন ধরে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে হাজারও মানুষ তেহরানে এসে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

৩৭ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটেছে, কিন্তু অশ্রু আর স্মৃতিতে এখনও অম্লান আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তেহরান থেকে মাশহাদ, শেষ বিদায়ের প্রতিটি পথ পরিণত হচ্ছে শোক, শ্রদ্ধা আর বিশ্বাসের মহাসমুদ্রে।

আরও পড়ুন: খামেনির কফিনের ওপর লাল পতাকার অর্থ কী।

প্রয়াত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজায় এক কোটির বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে প্রশাসন আশা করছে। ১০০টির বেশি বিদেশি প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধা জানালে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তেহরান থেকে।

খামেনি ইরানের জনগণের কাছে শুধু একজন নেতা নয়, বরং গৌরব, সাহস আর শক্তির এক প্রতীক। প্রাণের অভিভাবকের জানাযা ও রাষ্ট্রীয় বিদায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হাজারো মানুষ।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা একজন বলছিলেন, ‘আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আমাদের হৃদয়ে, আমাদের আত্মায়, আমাদের অস্তিত্বের গভীরে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তিনি আমাদের সবার সঙ্গে, আমাদের প্রিয় ইরান এবং সমগ্র উম্মাহর সঙ্গে চিরকাল থাকবেন। তাই আমরা কখনোই তাকে বিদায় জানাব না।’

আরেকজন বর্ণনা করেন, ‘আমাদের শহীদ নেতা ছিলেন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান। শহীদ ইমাম ইরান এবং ইসলামের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে দূরদর্শিতা রেখে গেছেন, তা বিবেচনায় নিয়ে আমরা অবশ্যই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী।’

আরও পড়ুন: খামেনির লাশ এতদিন কোথায় ছিল।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন। একই হামলায় তার মেয়ে, নাতনি, জামাতা ও পুত্রবধূও নিহত হন। ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত চলতে থাকায় খামেনির দাফন অনুষ্ঠান কয়েকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির অবকাশে প্রায় চার মাস পর ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে খামেনির জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, খামেনির স্মরণে সাতদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ইরান ও ইরাকের একাধিক শহরে অনুষ্ঠিত হবে। যা গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতেই তেহরানের গ্রান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ আনা হয়। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক ও ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে ইরানের তিনটি সরকারি শাখার প্রধানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, সংসদীয় স্পিকার, বিশেষ দূত, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদরা শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর একে একে সেখানে হাজির হন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা। তারা নীরবে চোখের জলে দোয়া করেন প্রিয় নেতার জন্য। ইরানি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধি, প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদ পরিবার এবং আরব উপজাতীয় নেতারাও এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

আরও পড়ুন: খামেনির শেষ বিদায়ে সাতদিনের আনুষ্ঠানিকতায় কী কী থাকছে।

শুধু ইরানের নেতারাই নন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং ইরানের মিত্রদের পরিবারও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছেন। ভারতের শিখ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলও খামেনির মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং পরে ইরানের প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তবে এবার ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তেহরান থেকে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছে, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের প্রশ্নই ওঠে না। ফলে খামেনির শেষ বিদায়ের আয়োজন শোকানুষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান ও মিত্রতারও স্পষ্ট বার্তা হয়ে উঠেছে।

শোকযাত্রার প্রতিটি গন্তব্যই বহন করছে বিশেষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক তাৎপর্য। ক্ষমতার কেন্দ্র তেহরানের পর মরদেহ নেয়া হবে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কোমে, যেখানে অন্তত ২০ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এরপর ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ গন্তব্য হবে মাশহাদ। শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের মাজার এবং খামেনির জন্মস্থান হওয়ায় সেখানে আরও প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে ইরান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%