রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৮ পি.এম
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকায় একটি শক্তিশালী গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে একটি ভবন ধসে পড়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ধসে পড়া দুই তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারী দল মরদেহগুলো উদ্ধার করে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্ধারকৃত নথিপত্র ও ব্যক্তিগত মালামাল পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নিহত চার মার্কিন নাগরিকের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং দুজন নারী ছিলেন। তারা ওই ভবনে পর্যটক হিসেবে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে, নিহত অন্য দুজন ছিলেন দ্বিতীয় তলায় বসবাসকারী এক প্রবীণ দম্পতি, যাদের একজন ব্রিটিশ পুরুষ এবং অন্যজন গ্রিক নারী। এই ঘটনার ফলে পাশের ভবনের আরও দুজন আহত হয়েছেন।
এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস জানিয়েছেন, একটি বড় ধরনের গ্যাস লিক থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটি সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ে এবং আশপাশের বেশ কিছু স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভবনগুলো খালি করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গ্রিক দৈনিক 'কাঠিমেরিনি' জানায়, নিহত চার মার্কিন পর্যটকের গত শুক্রবার সকালে দেশে ফেরার ফ্লাইট ধরার কথা ছিল। কিন্তু তারা হোটেল ছেড়ে বের হওয়ার আগেই দুর্ঘটনার শিকার হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস লিক ও শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি ছিল। পৌর কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ সংস্থাকে বারবার সতর্ক করার পরও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোথা থেকে গ্যাসের বিস্ফোরণটি ঘটেছে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর কালাচ সাপ কামড় দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের নিচতলায় ১৩৮ নং রুমে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নূরনবী ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রুমমেট সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন নূরনবী। পরে ভোর সাড়ে চারটার দিকে কালাচ সাপ তাকে কামড় দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক বুঝতে পেরে রুমমেটদের জানালে তারা দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে তাকে রামেকে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রউপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। ইতোমধ্যে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হলের প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদেরও হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে। আমি সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মনিটর করছি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা সোয়ান এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে সাপটিকে বিষধর কালাচ সাপ বলে শনাক্ত করে।
বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ এই কালাচ (Common Krait)। এটি ফণাহীন, দেখতে শান্ত স্বভাবের নিশাচর সাপ। দিনের বেলা ঝোপঝাড়, ইঁদুরের গর্ত, পুরোনো বাড়ির ভাঙাচোরা দেওয়াল বা ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকে। রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয়ে অনেক সময় ঘুমন্ত মানুষকে কামড় দেয়। সমস্যা হচ্ছে- এই সাপটি কামড় দিলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় না, আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায় না। ফলে ঘুমন্ত ব্যক্তি টেরই পান না তিনি দংশনের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, কালাচের বিষ খুবই শক্তিশালী নিউরোটক্সিন। কামড়ানোর কয়েকঘণ্টার মধ্যে পেট ব্যথা, বমি, চোখ বন্ধ হয়ে আসা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। ফলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করাতে না পারলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই রাতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত হাসাপাতালে যেতে হবে।
সাপটির কবল থেকে বাঁচতে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জোহরা মিলা বলেন, সাপটির সামনে পড়লে তাকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। লাঠি দিয়ে আশেপাশে শব্দ করুন যাতে প্রাণীটি দূরে চলে যায়। কালাচ থাকতে পারে এমন স্থান যেমন ঝোপঝাড়, পুরাতন ভবনে ফাটল, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ইট-পাথরে হাত দেবেন না। উপদ্রব আছে এমন এলাকায় অন্ধকারে চলাচল করবেন না, সঙ্গে টর্চ লাইট রাখুন এবং ঘুমানোর আগে অবশ্যই বিছানার চারপাশে ভালোভাবে মশারি গুজে ঘুমাবেন।
সাপটি না মারতে অনুরোধ করে জোহরা মিলা আরও বলেন, প্রাণীটি ইঁদুর, বিভিন্ন পোকামাড়ক খেয়ে আমাদেরই উপকার করে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী কালাচ সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। তাই এটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরাও আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে একই হলের ১২১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থীর মশারির ওপর থেকে একটি বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ‘নরইস্টার’ নামক একটি শক্তিশালী ঝড়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে এই অঞ্চলে ব্যাপক প্লাবন এবং তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত ৪ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই ঝড়ের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে প্রবল বাতাস, উপকূলীয় এলাকায় অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ার এবং ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শুক্রবার নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির গভর্নররা নিউইয়র্ক সিটিসহ ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করেন। বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সৈকত ও উপচে পড়া খালের আশপাশ থেকে দূরে থাকার জন্য কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঝড়ের সতর্কবার্তা জারি করে বলেন, "এই দুর্যোগের সময়ে উপকূলের কাছাকাছি যাওয়া মানেই নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।" স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খালের পানি উপচে বিভিন্ন লোকালয় এবং ঘরবাড়ির উঠানে ঢুকে পড়েছে।
ফ্লাইট নজরদারি ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটঅ্যাওয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত ৪২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৩৩৮টিরও বেশি ফ্লাইটের সময়সূচি বিপর্যয়ে পড়েছে। এছাড়া, ম্যাসাচুসেটসে ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরানের নির্ধারিত কনসার্টটি আবহাওয়ার কারণে বাতিল করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঘন, লম্বা ও উজ্জ্বল চুল পেতে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন। তবে, চুলের যত্নের জন্য শুধুমাত্র বাইরের যত্ন নেওয়া যথেষ্ট নয়, চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায়ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু বীজে উপস্থিত আয়রন, জিঙ্ক, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে, মাত্র ১০ দিনে চুল দ্রুত লম্বা হওয়ার দাবি সমর্থনের জন্য শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চুলের যত্নে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে পাঁচ ধরনের বীজ-
১. কুমড়োর বীজ
কুমড়োর বীজে জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে, যেমন এক টেবিল চামচ কুমড়োর বীজ খাওয়া যেতে পারে।
২. সূর্যমুখীর বীজ
ভিটামিন ই, সেলেনিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভালো উৎস সূর্যমুখীর বীজ। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
৩. তিসির বীজ
উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উৎস তিসির বীজ। খাদ্যতালিকায় এটি রাখলে শরীরে প্রয়োজনীয় ফ্যাটসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যোগ হয়। তিসি হালকা ভেজে গুঁড়া করে খাওয়া যেতে পারে।
৪. তিল
তিলে ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক ও কপারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে তিল ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে তিল খাওয়া যেতে পারে।
৫. চিয়া সিড
চিয়া সিডে ওমেগা-৩, প্রোটিন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। সাধারণত পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে চিয়া সিড খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
সবগুলো একসঙ্গে খাওয়ার প্রয়োজন নেই
চুল ভালো রাখতে প্রতিদিন পাঁচ ধরনের বীজ একসঙ্গে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ২-৩ ধরনের বীজ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও জরুরি।
চুল পড়লে শুধু বীজের ওপর নির্ভর নয়।
চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি ছাড়াও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়লে শুধুমাত্র বীজ বা ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বাংলাদেশের পুনর্গঠন, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সহযোগিতায় দেশের ভূমিকা জোরদার করার জন্য একটি বিস্তৃত পথরেখা উপস্থাপন করেন।
জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মন্তব্য করেন, দেড় দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের ফলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি বিপর্যস্ত দেশের প্রেক্ষাপটে এই ভাষণ দিয়েছেন।
এই অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশ পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের কাঠামো হিসেবে সরকারের থ্রি-আর কৌশল—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনঃস্থাপন) ও রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)—উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, এই কৌশল বাস্তবায়নে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন হবে। মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত তিন শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে হবে।
মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের বোঝাও ক্রমে বেড়েছে। আগামী বছরগুলোতে সুদ পরিশোধ ও ঋণের কিস্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ঋণ নেওয়া কোনো সমস্যা নয়, যদি সেই ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা হয় এবং তা দেশের অর্থনীতিতে সুফল বয়ে আনে।’
জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন।
একইসঙ্গে মাহবুব উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বিদেশি সহায়তাকে প্রধান উপায় হিসেবে চিহ্নিত করেননি। বরং তিনি দেশের নিজস্ব প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এটিকে তিনি একটি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে মাহবুব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান একটি ‘বাড়তি চাপ’। তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনেও সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ড. মো. নুরুল আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে করা আগের আশ্বাসগুলোর কোনটিই টেকসই সমাধান আনতে পারেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীরা আগেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। তবে কয়েকটি কারণে এবারের ভাষণটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো।’
ড. কাজী মাহবুবুর রহমানও জনগণের ক্ষমতায়নের ওপর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী সক্রিয়ভাবে জনগণের ক্ষমতায়নের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে, আর বাংলাদেশের জনগণকে ক্ষমতায়িত করার প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেশের অভ্যন্তরীণ একটি প্রধান অগ্রাধিকারকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘থ্রি-আর’ (৩-আর) কৌশল এবং যুদ্ধবিগ্রহের প্রতি বাংলাদেশের বিরোধিতাই শান্তি ও পুনর্গঠনের প্রতি দেশের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, তার ভাষণে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোরালো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলা জাতীয় দৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা ও রক্তপাতের এই সময়ে বিশ্বশান্তির জন্য বাংলাদেশের আকাঙক্ষার জোরালো বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ভাষণটিকে বর্ণনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উক্তি- ‘ঘাতক অস্ত্র নয়, পৃথিবী বদলাবে মানবতায়’- উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ভাষণটি শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিন সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এই সমস্যার সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি এবং গোটা বিশ্বে নিরাপত্তা অর্জন করা কঠিনই থেকে যাবে।
মারুফ কামাল বলেন, তারেক রহমান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন, শিশু স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের চরম ঝুঁকির কারণে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগ বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলায় দেওয়া ১৭ মিনিটের এই ভাষণে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শক্তিশালী বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশগত সমস্যা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের মতো বাংলাদেশের মূল উদ্বেগের বিষয়গুলোর প্রতিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আবদাল আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাই আন্দোলন এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ হিসেবে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (৩-আর) কৌশল উপস্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন এবং সামরিক খাতের ব্যয় উন্নয়নমূলক খাতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে আবদাল আহমদ উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর জিয়া পরিবারের কোনো সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি ছিল বাংলায় দেওয়া তৃতীয় ভাষণ, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে এই পরিবারের গভীর সম্পৃক্ততাকে ফুটিয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসা জনমত অনুযায়ী, বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় বক্তব্য রাখার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামজিদ জানান, এই ভাষণটি তার প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছে, যা তাকে গর্বিত করেছে।
রাজধানীর নীলক্ষেতের দোকানি মোহাম্মদ শাহীন জানান, সাধারণ বাংলাদেশিদের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছেন- বিষয়টি তার ভালো লেগেছে।
পথচারী মোহাম্মদ জসিমও বাংলাদেশের মর্যাদা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর ভাষণে দেওয়া গুরুত্বের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন।
একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপের দরজা খোলা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে যেকোনো সমস্যার সমাধান সংলাপ, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ