ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এআইয়ের হাত ধরে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে বাজিমাত


এআইয়ের হাত ধরে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে বাজিমাত

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরকারের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশের মাধ্যমে এই তথ্য জানা গেছে।

তবে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। এর মানে হলো, আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এই খাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। ইলেকট্রনিক পণ্য, সূক্ষ্ম প্রকৌশল, পরিবহন প্রকৌশল এবং সাধারণ উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে রাসায়নিক ও জৈব চিকিৎসা খাতে উৎপাদন কমেছে।

এদিকে, নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ এবং তথ্য সংরক্ষণকেন্দ্র নির্মাণ এই খাতের সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছে।

অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও, বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ২০২৭ সালে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট চাহিদা কমে আসতে পারে।

সিঙ্গাপুরের মুদ্রা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটিতে মূল মূল্যস্ফীতির হার গড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। সংস্থাটি সুদের হার পরিবর্তনের পরিবর্তে মুদ্রার বিনিময় হারকে মুদ্রানীতি পরিচালনার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে। পাশাপাশি উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় সুদের হার বাড়তি পর্যায়ে থাকতে পারে, যা পণ্য ও সেবার চাহিদায় প্রভাব ফেলবে।

বিশ্বের অর্ধপরিবাহী শিল্পে সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট অর্ধপরিবাহী উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ এবং এ শিল্পের যন্ত্রপাতি উৎপাদনের ২০ শতাংশ আসে দেশটি থেকে। প্রযুক্তিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও দেশটি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

নানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক ইয়ো হুই চুয়া মন্তব্য করেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সিঙ্গাপুরের এই প্রবৃদ্ধি একটি উচ্চ আয়ের অর্থনীতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। ইলেকট্রনিক পণ্যের জোরালো চাহিদা উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট পাইকারি বাণিজ্যকে সহায়তা করছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরের অবস্থানও এ ক্ষেত্রে সুবিধা দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ান ছাড়া অন্য কোনো দেশের প্রবৃদ্ধি এর চেয়ে বেশি হবে না বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এর আগে ২০২৫ সালেও সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ৫ শতাংশ বেড়েছিল। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশটি। ২০১০ ও ২০১১ সালের পর এটি প্রথমবারের মতো টানা দুই বছর এমন প্রবৃদ্ধি দেখল সিঙ্গাপুর।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, চালু হচ্ছে চীন-উত্তর কোরিয়ার নতুন সেতু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, চালু হচ্ছে চীন-উত্তর কোরিয়ার নতুন সেতু

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন ইয়ালু নদী সেতু, যা চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নির্মিত হয়েছে।

এ তথ্য জানায় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া। সেতুটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগাযোগ জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

চীন ২০১৪ সালে সেতুটির নিজ অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের অংশের নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা জোরদারে বেইজিংয়ের সমর্থন দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু চালু হয়েছে।

চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্য সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর, উত্তর কোরিয়ায় চীনের রপ্তানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় এই রপ্তানি ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

২০১৮ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে আসছে চীন। চলতি বছরের জুনে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো পিয়ংইয়ং সফর করেন।

কোরীয় যুদ্ধের সময়, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন হয়। ১৯৬১ সালে দেশ দুটি বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট হিসেবে এখনো এ চুক্তি কার্যকর রয়েছে। চুক্তির অধীনে, কোনো একটি দেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য দেশ তাকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

দীর্ঘকাল ধরে, চীন ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রধান কূটনৈতিক অংশীদার এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাকারী। তবে ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার পক্ষে চীন অবস্থান নেওয়ায় সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক দেশটির কূটনৈতিক নির্ভরতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। এতে চীনের ওপর উত্তর কোরিয়ার নির্ভরতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৪ সালে, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার আলোচনা আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প আবারও কিমের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।

অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া এখনো চীনা নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় দেওয়া শুরু করেনি। একসময় বিদেশি পর্যটকদের বড় অংশই ছিলেন চীনের নাগরিক।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যে সামরিক সরঞ্জামের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেলেও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশটি তার বেসামরিক অর্থনীতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পণ্য পেতে পারে। নতুন সেতুটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোম অফিসের কথা বলে সিঙ্গাপুরে কাজ করা ব্যবসায়ী চাকরি হারালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


হোম অফিসের কথা বলে সিঙ্গাপুরে কাজ করা ব্যবসায়ী চাকরি হারালেন

অস্ট্রেলিয়ার এক মুদ্রা ব্যবসায়ী হোম অফিসের অনুমতি নিয়ে সিঙ্গাপুরে বসে কাজ করার অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি তার কাজের ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করে বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চার্লস গ্রাহাম নামের ওই ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার এইচআইএফএক্সে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সিডনিতে নিজের বাড়ি থেকে কাজ করার কথা থাকলেও ওই দিন সিঙ্গাপুরের একটি হোটেলে তার ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত হয়। এর ফলস্বরূপ, একই বছরের ২ ডিসেম্বর তাঁকে চাকরিচ্যুত করে প্রতিষ্ঠানটি। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহাম এর আগেও দূর থেকে কাজ করার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছিলেন। একবার হোম অফিসের কথা বলে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলে যান তিনি। সে সময় তিনি ব্যবস্থাপককে জানিয়েছিলেন, বাড়িতে বাথরুমের সমস্যা সমাধানে প্লাম্বারের জন্য অপেক্ষা করছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রাহাম এক বছরের জন্য সিঙ্গাপুর থেকে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু তার কর্মস্থল সিডনিতে হওয়া এবং সিঙ্গাপুরে ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে।

পরে চোখে আঘাত পাওয়ার কথা জানিয়ে কয়েক সপ্তাহ বাড়ি থেকে কাজ করেন গ্রাহাম। এরপর বার্ষিক ছুটিতে যান তিনি। ছুটি শেষে কাজে ফেরার কথা থাকলেও তার অবস্থান নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। তখন ব্যবস্থাপক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে তার ল্যাপটপের অবস্থান যাচাই করতে বলেন।

গ্রাহামের ব্যবস্থাপক এক ই-মেইলে লিখেছিলেন, "আমাদের লোকটির আজ অনলাইনে থাকার কথা, ছুটির পর আজই তার প্রথম কর্মদিবস। তাই তোমার এফবিআইয়ের মতো তদন্ত করার দক্ষতা লাগবে।"

তদন্তে জানা যায়, সিডনিতে বাড়ি থেকে কাজ করার কথা থাকলেও গ্রাহাম তখন সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন।

নিজের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে গ্রাহাম জানান, ছুটিতে থাকাকালে তার সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এ কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে হয়েছিল তাদের।

গ্রাহামের দাবি, বিষয়টি ব্যবস্থাপককে জানানোর ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু অপঠিত ই-মেইল, ফোনকল এবং এক গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকের অভিযোগ সামলাতে গিয়ে তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে নিজের অবস্থানের বিষয়ে আর জানানো হয়নি।

তবে এক্সই তার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, গ্রাহামের দেওয়া নথিপত্রে তার সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়টি যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি কেন নিজের অবস্থান গোপন রেখেছিলেন, তারও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

গত ৭ অক্টোবর গ্রাহামের অন্যায্যভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগের বিষয়ে রায় দেয় অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন। কমিশন মনে করে, গ্রাহাম মিথ্যা বলেছেন এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার যথেষ্ট কারণ ছিল প্রতিষ্ঠানের কাছে। তবে চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বার্তায় গ্রাহামকে নিয়ে ‘কৌশল’ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি তাকে বৈঠকে উপস্থিত হতে ‘কিছুটা আশা দেখানোর’ কথাও উল্লেখ ছিল। কমিশনের পর্যবেক্ষণে, এসব বার্তা থেকে মনে হতে পারে, তার বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করার আগেই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের কমিশনার ম্যাথেসন বলেন, সিঙ্গাপুরে অবস্থানের বিষয়টি গোপন রেখে গ্রাহাম বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিদেশ থেকে কাজ করতে হলে অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন এ বিষয়টি তিনি জানতেন। কমিশনার তার এ আচরণকে ইচ্ছাকৃত অসততা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলেও গ্রাহামকে পুনর্বহাল করা যথাযথ হবে না বলে মনে করেন কমিশনার ম্যাথেসন। তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত নোটিশের পরিবর্তে চার সপ্তাহের বেতন পাওয়ার অধিকারী হন গ্রাহাম।

ঘটনাটি নিয়ে ডেইলি মেইলও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ গ্রাহামের সমালোচনা করে বলেছেন, কর্মীদের সুযোগ দিলে কেউ কেউ তার অপব্যবহার করেন।

অন্যদিকে, কিছু পাঠকের মতে, কর্মীরা কোথা থেকে কাজ করছেন, তার চেয়ে তাদের কাজের ফলাফল মূল্যায়ন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব কাজ দূর থেকে করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে কর্মস্থলে উপস্থিতির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

এক পাঠক মন্তব্য করেন, ‘কাজ ঠিকমতো হলেই হলো, সে কোথা থেকে কাজ করছে, তাতে কার কী?’

তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, কাজের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা মেনে চলা এবং কর্মস্থল সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে, তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিচে অবস্থিত পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। তারা জানান, ভেজালবিরোধী অভিযানকে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার প্রকল্পের আওতায় ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারবাহী গাড়ি সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে।

খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য এসব গাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গাড়ির বাইরের দিকে স্থাপিত পর্দায় নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জনপ্রশাসনসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র

সন্তান হারানোর বেদনা কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অন্যান্য প্রাণীরাও কি প্রিয়জনের বিচ্ছেদে শোক অনুভব করে? অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের নিকটবর্তী এক মা হাম্পব্যাক তিমির আচরণ নতুন করে এই প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সদ্যোজাত শাবককে হারিয়ে প্রায় দুই দিন ধরে মা তিমিটি শাবকটির কাছাকাছি অবস্থান করে এবং তাকে বারবার স্পর্শ করার ঘটনা বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই। অস্ট্রেলিয়ার পাম বিচের কাছের সমুদ্রে প্রথমে দুটি পূর্ণবয়স্ক হাম্পব্যাক তিমিকে দেখা যায়। কিছু সময় পর একটি তিমি শাবকের জন্ম দেয়। তবে শাবকটির শরীরে জন্মের পর নড়াচড়া কিংবা শ্বাসপ্রশ্বাসের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে শাবকটি সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যায়।

এরপর নজরে আসে মা তিমির অস্বাভাবিক আচরণ। শাবকটিকে ছেড়ে দূরে সরে না গিয়ে বারবার সমুদ্রের গভীরে ডুব দিচ্ছিল মা তিমিটি। কখনো মাথা দিয়ে, কখনো বুকের লম্বা পাখনা দিয়ে প্রাণহীন শাবকটিকে স্পর্শ করছিল। এমনকি শাবকের চোখের কাছাকাছি নিজের চোখ রেখে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকার দৃশ্যও গবেষকদের দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকদের ক্যামেরায় এই বিরল মুহূর্তগুলো ধরা পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে মা তিমির এমন আচরণ নথিবদ্ধ করা হয়। পরবর্তী দুই দিনও ওই এলাকায় দুটি বড় তিমির উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটি ডিসকভার অ্যানিম্যালস সাময়িকীতে স্থান পায়।

গবেষকদের মতে, ডলফিনসহ কিছু দাঁতওয়ালা তিমির মধ্যে মৃত শাবককে ঘিরে এ ধরনের আচরণ আগেও দেখা গেছে। তবে হাম্পব্যাক তিমির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। শাবককে বারবার স্পর্শ করা এবং তার কাছাকাছি অবস্থান করার আচরণ মা ও শাবকের গভীর বন্ধনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে যায়, মা তিমিটি কি সত্যিই মানুষের মতো শোক অনুভব করছিল? নাকি শাবকের প্রতি সহজাত যত্নের প্রবৃত্তি থেকেই এমন আচরণ করছিল? পর্যবেক্ষণ থেকে নিশ্চিতভাবে এর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রাণীদের আবেগ ও শোক নিয়ে গবেষণায় এই ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কোনো প্রাণীর আচরণকে মানুষের শোকের সঙ্গে পুরোপুরি এক করে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মা তিমির এই আচরণ একদিকে যেমন মাতৃত্বের গভীর বন্ধনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে তেমনি প্রাণীদের আবেগ সম্পর্কে বিজ্ঞানের সামনে নতুন প্রশ্নও তুলে ধরে।

অতল সমুদ্রের বুকে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়, প্রাণিজগতের আবেগ ও আচরণের অনেক কিছুই এখনো মানুষের অজানা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%