ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হোম অফিসের কথা বলে সিঙ্গাপুরে কাজ করা ব্যবসায়ী চাকরি হারালেন


হোম অফিসের কথা বলে সিঙ্গাপুরে কাজ করা ব্যবসায়ী চাকরি হারালেন

অস্ট্রেলিয়ার এক মুদ্রা ব্যবসায়ী হোম অফিসের অনুমতি নিয়ে সিঙ্গাপুরে বসে কাজ করার অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি তার কাজের ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করে বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চার্লস গ্রাহাম নামের ওই ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার এইচআইএফএক্সে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সিডনিতে নিজের বাড়ি থেকে কাজ করার কথা থাকলেও ওই দিন সিঙ্গাপুরের একটি হোটেলে তার ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত হয়। এর ফলস্বরূপ, একই বছরের ২ ডিসেম্বর তাঁকে চাকরিচ্যুত করে প্রতিষ্ঠানটি। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহাম এর আগেও দূর থেকে কাজ করার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছিলেন। একবার হোম অফিসের কথা বলে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে চলে যান তিনি। সে সময় তিনি ব্যবস্থাপককে জানিয়েছিলেন, বাড়িতে বাথরুমের সমস্যা সমাধানে প্লাম্বারের জন্য অপেক্ষা করছেন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রাহাম এক বছরের জন্য সিঙ্গাপুর থেকে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু তার কর্মস্থল সিডনিতে হওয়া এবং সিঙ্গাপুরে ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে।

পরে চোখে আঘাত পাওয়ার কথা জানিয়ে কয়েক সপ্তাহ বাড়ি থেকে কাজ করেন গ্রাহাম। এরপর বার্ষিক ছুটিতে যান তিনি। ছুটি শেষে কাজে ফেরার কথা থাকলেও তার অবস্থান নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। তখন ব্যবস্থাপক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে তার ল্যাপটপের অবস্থান যাচাই করতে বলেন।

গ্রাহামের ব্যবস্থাপক এক ই-মেইলে লিখেছিলেন, "আমাদের লোকটির আজ অনলাইনে থাকার কথা, ছুটির পর আজই তার প্রথম কর্মদিবস। তাই তোমার এফবিআইয়ের মতো তদন্ত করার দক্ষতা লাগবে।"

তদন্তে জানা যায়, সিডনিতে বাড়ি থেকে কাজ করার কথা থাকলেও গ্রাহাম তখন সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

নিজের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে গ্রাহাম জানান, ছুটিতে থাকাকালে তার সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এ কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে হয়েছিল তাদের।

গ্রাহামের দাবি, বিষয়টি ব্যবস্থাপককে জানানোর ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু অপঠিত ই-মেইল, ফোনকল এবং এক গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকের অভিযোগ সামলাতে গিয়ে তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে নিজের অবস্থানের বিষয়ে আর জানানো হয়নি।

তবে এক্সই তার এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, গ্রাহামের দেওয়া নথিপত্রে তার সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়টি যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি কেন নিজের অবস্থান গোপন রেখেছিলেন, তারও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

গত ৭ অক্টোবর গ্রাহামের অন্যায্যভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগের বিষয়ে রায় দেয় অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন। কমিশন মনে করে, গ্রাহাম মিথ্যা বলেছেন এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার যথেষ্ট কারণ ছিল প্রতিষ্ঠানের কাছে। তবে চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বার্তায় গ্রাহামকে নিয়ে ‘কৌশল’ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি তাকে বৈঠকে উপস্থিত হতে ‘কিছুটা আশা দেখানোর’ কথাও উল্লেখ ছিল। কমিশনের পর্যবেক্ষণে, এসব বার্তা থেকে মনে হতে পারে, তার বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করার আগেই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনের কমিশনার ম্যাথেসন বলেন, সিঙ্গাপুরে অবস্থানের বিষয়টি গোপন রেখে গ্রাহাম বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিদেশ থেকে কাজ করতে হলে অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন এ বিষয়টি তিনি জানতেন। কমিশনার তার এ আচরণকে ইচ্ছাকৃত অসততা হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলেও গ্রাহামকে পুনর্বহাল করা যথাযথ হবে না বলে মনে করেন কমিশনার ম্যাথেসন। তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত নোটিশের পরিবর্তে চার সপ্তাহের বেতন পাওয়ার অধিকারী হন গ্রাহাম।

ঘটনাটি নিয়ে ডেইলি মেইলও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ গ্রাহামের সমালোচনা করে বলেছেন, কর্মীদের সুযোগ দিলে কেউ কেউ তার অপব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

অন্যদিকে, কিছু পাঠকের মতে, কর্মীরা কোথা থেকে কাজ করছেন, তার চেয়ে তাদের কাজের ফলাফল মূল্যায়ন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব কাজ দূর থেকে করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে কর্মস্থলে উপস্থিতির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

এক পাঠক মন্তব্য করেন, ‘কাজ ঠিকমতো হলেই হলো, সে কোথা থেকে কাজ করছে, তাতে কার কী?’

তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, কাজের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা মেনে চলা এবং কর্মস্থল সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: লাইভ সম্প্রচারে প্রার্থনার সময় ক্রুশ পড়ে যাজক পাত্রিসিও আলফ্রেডো সানচেজ মোলিনারির মৃত্যু

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


ভ্রাম্যমাণ খাদ্য পরীক্ষার ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে, তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিচে অবস্থিত পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। তারা জানান, ভেজালবিরোধী অভিযানকে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার প্রকল্পের আওতায় ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারবাহী গাড়ি সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে।

খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য এসব গাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গাড়ির বাইরের দিকে স্থাপিত পর্দায় নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জনপ্রশাসনসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র

সন্তান হারানোর বেদনা কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অন্যান্য প্রাণীরাও কি প্রিয়জনের বিচ্ছেদে শোক অনুভব করে? অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের নিকটবর্তী এক মা হাম্পব্যাক তিমির আচরণ নতুন করে এই প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সদ্যোজাত শাবককে হারিয়ে প্রায় দুই দিন ধরে মা তিমিটি শাবকটির কাছাকাছি অবস্থান করে এবং তাকে বারবার স্পর্শ করার ঘটনা বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই। অস্ট্রেলিয়ার পাম বিচের কাছের সমুদ্রে প্রথমে দুটি পূর্ণবয়স্ক হাম্পব্যাক তিমিকে দেখা যায়। কিছু সময় পর একটি তিমি শাবকের জন্ম দেয়। তবে শাবকটির শরীরে জন্মের পর নড়াচড়া কিংবা শ্বাসপ্রশ্বাসের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে শাবকটি সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যায়।

এরপর নজরে আসে মা তিমির অস্বাভাবিক আচরণ। শাবকটিকে ছেড়ে দূরে সরে না গিয়ে বারবার সমুদ্রের গভীরে ডুব দিচ্ছিল মা তিমিটি। কখনো মাথা দিয়ে, কখনো বুকের লম্বা পাখনা দিয়ে প্রাণহীন শাবকটিকে স্পর্শ করছিল। এমনকি শাবকের চোখের কাছাকাছি নিজের চোখ রেখে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকার দৃশ্যও গবেষকদের দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকদের ক্যামেরায় এই বিরল মুহূর্তগুলো ধরা পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে মা তিমির এমন আচরণ নথিবদ্ধ করা হয়। পরবর্তী দুই দিনও ওই এলাকায় দুটি বড় তিমির উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটি ডিসকভার অ্যানিম্যালস সাময়িকীতে স্থান পায়।

গবেষকদের মতে, ডলফিনসহ কিছু দাঁতওয়ালা তিমির মধ্যে মৃত শাবককে ঘিরে এ ধরনের আচরণ আগেও দেখা গেছে। তবে হাম্পব্যাক তিমির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। শাবককে বারবার স্পর্শ করা এবং তার কাছাকাছি অবস্থান করার আচরণ মা ও শাবকের গভীর বন্ধনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে যায়, মা তিমিটি কি সত্যিই মানুষের মতো শোক অনুভব করছিল? নাকি শাবকের প্রতি সহজাত যত্নের প্রবৃত্তি থেকেই এমন আচরণ করছিল? পর্যবেক্ষণ থেকে নিশ্চিতভাবে এর উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রাণীদের আবেগ ও শোক নিয়ে গবেষণায় এই ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কোনো প্রাণীর আচরণকে মানুষের শোকের সঙ্গে পুরোপুরি এক করে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মা তিমির এই আচরণ একদিকে যেমন মাতৃত্বের গভীর বন্ধনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে তেমনি প্রাণীদের আবেগ সম্পর্কে বিজ্ঞানের সামনে নতুন প্রশ্নও তুলে ধরে।

অতল সমুদ্রের বুকে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়, প্রাণিজগতের আবেগ ও আচরণের অনেক কিছুই এখনো মানুষের অজানা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরায়েলের ‘হলুদ রেখা’ এগোচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা বারবার ঘরছাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


গাজায় ইসরায়েলের ‘হলুদ রেখা’ এগোচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা বারবার ঘরছাড়া

গাজায় ইসরায়েলের নির্ধারিত ‘হলুদ রেখা’ পশ্চিম দিকে ক্রমাগত এগিয়ে আসছে। এর ফলে নতুন করে ফিলিস্তিনিরা ঘরছাড়া হচ্ছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান সংকুচিত হয়ে আসায় পরিবারগুলোকে বারবার তাঁবু সরিয়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের অবসান ঘটছে না।

গাজার শুজাইয়া এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদ হারজিন ষষ্ঠবারের মতো তাঁবু সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ইসরায়েলের নির্ধারিত হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লক থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাঁবু গেড়েছেন। রেখাটি যত সামনে এগিয়ে আসে, বিপদ এড়াতে তিনি পরিবার নিয়ে তত পেছনে সরে যান।

আল জাজিরা কে তিনি বলেন, ‘প্রতিবার তারা একটু সামনে এগোয়, আমরাও একটু পেছনে সরে যাই।’ ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গাজার ভূখণ্ডকে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভাগ করতে ‘হলুদ রেখা’ নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ওই রেখার পেছনে সরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রেখাটি ক্রমে গাজার আরও ভেতরে এগিয়ে যাওয়ায় এখন ভূখণ্ডটির প্রায় ৬৫ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এক বছর আগে নির্ধারিত চুক্তিতে এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) গাজার পূর্বাঞ্চলীয় শুজাইয়া এলাকায় হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লকগুলো কয়েক মিটার পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এলাকাটির আরও বেশি অংশ ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো আবারও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করেন মাহমুদ। গত এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে কোথায় নিরাপদে থাকা যায়, সেই খোঁজেই কাটছে তার সময়। জেইতুন, সাহাত আল-শাওয়া ও আল-মুনতাজাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁবু সরিয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। সর্বশেষ এক জায়গায় তাঁবু গেড়ে মাত্র এক রাত ঘুমাতে পেরেছিলেন মাহমুদ। পরদিন সকালে রেখা আবার সামনে এগিয়ে আসায় বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে হয়।

তার ভাষ্য, শুধু কংক্রিটের ব্লক সরানোর সময়ই নয়, আশপাশে ড্রোন, হেলিকপ্টার, গোলাবর্ষণ ও এলোপাতাড়ি গুলির কারণে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। গোলার টুকরোও আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে রেখা এগিয়ে নেওয়ার সময় ট্যাংক, সেনাসদস্য ও ভারী গোলাবর্ষণের শব্দে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গত এক বছরে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজার অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপদ এলাকায় তাঁবু খাটানোর মতো জায়গা কমে গেছে। অন্যদিকে, বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মাহমুদের মতো অনেক পরিবারের পক্ষে নতুন আশ্রয় নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাতে পালানো, সকালে ফিরে আসা

শুজাইয়ার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী আসমা আলীর জীবনেও একই অনিশ্চয়তা বিরাজমান। তিন সন্তানের এই মা জানান, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে তাদের পরিবার সাত থেকে আটবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় কিছুদিন থাকার পর তারা শুজাইয়ার আল-মান্তার এলাকায় ফিরে বসবাসের চেষ্টা করেন। কিন্তু এক মাস পর আবার গোলাবর্ষণ শুরু হলে নিরাপত্তার আশঙ্কায় সেখান থেকেও সরে যেতে হয়।

প্রথমে একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন তারা। পরে একটি বাসস্টপের কাছে বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু এক রাতে তীব্র গোলাবর্ষণের পর ভোরে সেখান থেকেও চলে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় স্বজনদের কাছে আশ্রয় নেন তারা।

আসমা বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে পালাতে হতো, সকালে আবার ফিরে আসতাম। রাতটা কোথায় কাটানো যায়, সেই চেষ্টা করতে হতো; সকালে আবার ফিরে আসতাম।’ তার কথায়, হলুদ রেখা এগিয়ে আসার রাতগুলো সবচেয়ে ভয়ংকর। রাতের শুরু থেকে ভোর পর্যন্ত গুলির শব্দ চলতে থাকে। সব সময় মনে হয়, যেকোনো মুহূর্তে আবার পালাতে হতে পারে।

বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আসমার পরিবারের স্বর্ণালংকার, ঘরের জিনিসপত্র ও সন্তানদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। হারানো জিনিসের মধ্যে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য কেনা একটি বিশেষ সহায়ক বন্ধনীও ছিল। মাত্র দুই দিন আগে সেটি পেয়েছিলেন তিনি।

আসমা বলেন, ‘চোখের পলকেই সব হারিয়ে গেল।’ পরিবারের জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন তিনি। কিন্তু তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ গাজার দিকে চলে যাওয়াও সহজ নয়। সেখানে যাওয়ার যানবাহন পাওয়া কঠিন, আর পৌঁছানোর পর নিরাপদ জায়গা মিলবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আসমার চাওয়া খুব সাধারণ—সন্তানদের নিয়ে এমন একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে বারবার পালাতে হবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে সন্তানদের নিয়ে থাকতে পারব, বিশ্রাম নিতে পারব এবং নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারব।’

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবিবাহিতদের যেসব কথা রাগিয়ে দেয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


অবিবাহিতদের যেসব কথা রাগিয়ে দেয়

বন্ধুমহলে বিয়ের ধুম চলছে, এবং কেউ কেউ সংসার গুছিয়ে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যুগল ছবি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যারা এখনও অবিবাহিত, তাদের প্রায়শই বিভিন্ন প্রশ্ন ও মন্তব্যের সম্মুখীন হতে হয়। নিছক কৌতূহল বা মজার ছলে বলা এসব কথা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এমনকি, কাছের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কেও দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে।

"তোমার বিয়ের বয়স কিন্তু পার হয়ে যাচ্ছে" এই মন্তব্যটি অবিবাহিতদের জন্য সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবনযাপন, পছন্দ ও অগ্রাধিকার আলাদা। কেউ ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিতে চান, কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন, আবার কেউ মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে পান না। বয়সের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্তকে জুড়ে দিয়ে এমন মন্তব্য করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর অযাচিত মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আর কত বাছবিচার করবে?

জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ ও প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই বিষয়টিকে অতিরিক্ত বাছবিচার হিসেবে দেখেন। অথচ সারা জীবন একসঙ্গে কাটানোর জন্য উপযুক্ত মানুষ বেছে নেওয়া একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এমন মন্তব্য অবিবাহিত ব্যক্তির আত্মবিশ্বাসে আঘাত করতে পারে এবং তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

"বিয়ে না করলে একা একা বিষণ্ণ হয়ে পড়বে" এই ধারণা সঠিক নয়। আবার বিয়ে করলেই যে জীবনে একাকীত্ব থাকবে না, তারও নিশ্চয়তা নেই। অনেকেই অবিবাহিত জীবনেও পরিবার, বন্ধু ও পছন্দের কাজ নিয়ে পরিপূর্ণ জীবন কাটান। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য না করে বন্ধুর বর্তমান জীবন ও সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো জরুরি।

বিয়ে করো, জীবন অনেকটাই হালকা লাগবে

বিয়ের পর জীবনে নতুন আনন্দ ও অভিজ্ঞতা যুক্ত হতে পারে। তবে এর সঙ্গে বাড়ে দায়িত্ব, পারস্পরিক সমঝোতা ও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জও। মানসিক প্রস্তুতি ছাড়া কিংবা অনিচ্ছায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে জীবনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিয়েকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে তুলে ধরা বা কাউকে এ বিষয়ে চাপ দেওয়া উচিত নয়।

"তোমার তো কোনো দায়িত্ব নেই, দিন ভালোই কাটছে" এই ধারণা অবিবাহিতদের জীবনকে দায়িত্বহীন বা দুশ্চিন্তামুক্ত ভাবার সুযোগ দেয় না। পরিবার, কর্মক্ষেত্র, আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাদেরও নানা চাপ সামলাতে হয়। প্রত্যেকের জীবনের লড়াই আলাদা। তাই কারও বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে তার দায়িত্ব বা সমস্যাকে ছোট করে দেখা অনুচিত।

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সম্মান জরুরি

একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর বিয়ে না করলে অনেকের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অনুমান তৈরি হয়। কখনও বন্ধুদের আড্ডায়, কখনও পারিবারিক অনুষ্ঠানে এসব প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অবিবাহিতদের। কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা বা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বিয়ে প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কখন বিয়ে করবেন, আদৌ করবেন কি না, এটি নির্ধারণের অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই। বন্ধুত্বের জায়গা থেকে কাউকে চাপ না দিয়ে তার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভালো বন্ধুত্বের পরিচয় খোঁচা দেওয়া কথায় নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও মানসিক সমর্থনে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%