বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৫৯ পি.এম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসির প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব (চ. দা.) এ এস এম ইকবাল হাসানের সই করা এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম-ঠিকানা সংবলিত প্রজ্ঞাপন আজ (৯ জুলাই) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভাগীয় কমিশনার (চট্টগ্রাম) এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শকসহ (ডিআইজি) ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে আজ জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এতে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। এখন তার নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে গত ২ জুলাই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
আদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন প্রথমে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করলে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচন করার সুযোগ বহাল রাখলেও রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং শপথ গ্রহণও স্থগিত ছিল। পরবর্তী সময়ে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর আজ হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায়ে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, সারোয়ার আলমগীর আজই শপথ গ্রহণ করবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের মধ্যে দেড়শ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার পর পর্যটকদের নিয়ে আসার কার্যক্রম শুরু করে বাঘাইহাট সেনা জোন।
সাজেক থেকে বাঘাইহাট পর্যন্ত তিনটি স্থানে পানি ওঠার কারণে সাজেকের সঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সেখানে সাড়ে পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ে যান। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর স্কটের মাধ্যমে পর্যটকদের সাজেক থেকে বাঘাইহাট পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়।
মাচালং, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজারে পানি ওঠার ফলে পর্যটকরা সাজেকে আটকা পড়েন। সেনাবাহিনী মোটরবাইক, সিএনজি অটোরিকশা ও মাহেন্দ্রার সাহায্যে তাদের সাজেক থেকে নিয়ে আসে। পথে মাচালং, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকা ও ভেলায় করে তাদের পারাপার করা হয়। প্রতিটি স্থান পার হওয়ার পর আবার মোটরবাইক, সিএনজি অটোরিকশা ও মাহেন্দ্রায় করে তাদের নিয়ে আসা হয়। এভাবে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দেড়শ জনকে সরিয়ে আনা সম্পন্ন হয়েছে বলে বাঘাইহাট জোনের সূত্রে জানা গেছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান কথা বলেন। তিনি জানান, সাজেকে আটকা পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর স্কটের মাধ্যমে ১৫০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাকি পর্যটকদেরও নিরাপদে সরিয়ে আনা হবে।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। খাগড়াছড়ি–সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানিতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা সেখানে আটকা পড়েছেন।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, আটকা পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র পানির বিল নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলার চরফ্যাশনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তার দুর্ভোগে থাকা শত শত গ্রামের মানুষ এখন ইটের সড়ক পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। এই পরিবর্তনের ফলে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র।
একসময় এসব এলাকার অধিকাংশ রাস্তা ছিল কাঁচা। বর্ষা মৌসুম এলেই হাঁটুসমান কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ত। প্রতিবছর সরকারি অর্থে মাটি ফেলে রাস্তা সংস্কার করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে সেই মাটি ধুয়ে যেত। ফলে পরবর্তী বছরে আবারও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হত স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এবার সেই চিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ হওয়ায় গ্রামের মানুষ এখন বছরের সমস্ত সময় সহজেই চলাচল করতে পারছেন। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ি থেকে বের হওয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বাজার, স্কুল, মসজিদ অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন সেই ভোগান্তি অনেকটাই দূর হয়েছে।
অতীতে কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কাঁচা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন বাড়ির সামনে পর্যন্ত যেতে পারত না। বর্তমানে ইটের সড়ক নির্মাণ হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন সরাসরি বাড়ির সামনে পৌঁছাতে পারছে। এটির ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও অনেক সহজ হয়ে গেছে।
শুধু রোগী পরিবহন নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যও এই উন্নয়ন বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। আগে বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে যেত। আবার অনেকে দুর্ভোগের কারণে নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারত না। এখন ইটের সড়ক হওয়ায় তারা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে সক্ষম হচ্ছেন।
মাদ্রাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা কালাম বলেন, আগে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হতো। দৈনন্দিন যাতায়াত এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনাও ছিল দুরূহ। এখন ইটের রাস্তা হওয়ায় সবকিছু সহজ হয়ে গেছে। এজন্য আমরা স্থানীয় এমপি ও উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
জিন্নাগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা কুলছুম বলেন, আগে কাঁচা রাস্তার কারণে চলাচলে খুব কষ্ট হতো। এখন ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় অনেক সুবিধা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ইটের সড়ক স্থায়ীভাবে পাকাকরণের দাবি জানাই।
উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, তিনটি প্রকল্পের আওতায় সাধারণত মাটির রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হয়। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সুপারিশে চরফ্যাশনের ২১টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামীণ সড়কে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মঞ্জুর হোসেন বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বরাদ্দ অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই নামমাত্র কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু নুরুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগ ও পরামর্শে এবার সেই বরাদ্দ দিয়ে কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি. এম. ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় তিন শতাধিক সড়কে ইটের সলিং নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে চরফ্যাশনে তিন শতাধিক সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে। কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ করায় স্থানীয় জনগণ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬ : মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলের হামলায় একটি পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই সংস্থাটি এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার জন্য ইরানের সমর্থিত হিজবুল্লাহ ২ মার্চ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালনা করে। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতে ২৫০ জনের বেশি শিশু সহ চার হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
বৈরুত থেকে এএফপি জানাচ্ছে যে, অ্যামনেস্টি ৬ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে বেসামরিক মানুষের তিনটি বাড়িতে পরিচালিত তিনটি হামলার বিশ্লেষণ করেছে। এসব হামলায় ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জন ছিল শিশু।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি অভিযোগ করেছে যে, এসব হামলায় ইসরাইল ‘সম্পূর্ণ পরিবার নিশ্চিহ্ন’ করেছে এবং এগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে।
এবং সংস্থাটি জানায়, তারা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায় যে, কিছু হামলা ‘হিজবুল্লাহর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ করা হয়েছিল এবং অন্য কিছু হামলা ‘পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে’।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অ্যামনেস্টিকে আরও জানায় যে, সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে অ্যামনেস্টি জানায়, পরবর্তী যোগাযোগ সত্ত্বেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী ওই তিনটি হামলা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি, এমনকি লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তাও জানায়নি।
এই প্রতিবেদনটি ১৫ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হামলার পর বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন, প্যারামেডিক, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সাংবাদিক এবং স্থানীয় কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তিসংগতভাবে মনে করে যে, প্রতিটি বিমান হামলায় ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হওয়া, বেসামরিক ব্যক্তি অথবা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো কিংবা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়া সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপপরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে মন্তব্য করেছেন যে, 'মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননে এক ডজন শিশুসহ পুরো পরিবারগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে, যা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।'
তিনি আরও বলেছেন, 'রাষ্ট্রগুলোর উচিত অবিলম্বে ইসরাইলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং সার্বজনীন ও বহির্দেশীয় বিচারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।'
গত মাসে লেবানন ও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসানে পথ সুগম করা।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যদিও এরপরও ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে মাঝে-মধ্যেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার কয়েকটি হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি শহরে ফুটপাতকে দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা প্রায় ২০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এই অভিযানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এস. এম. সাইফুল ইসলাম এবং এস. এম. আশরাফুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। অভিযানের সময়ে সহকারী কমিশনার এস এম সাইফুল ইসলাম, এস এম আশরাফুল ইসলাম এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনেক দিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ দখলের কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। এই অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শহরের সৌন্দর্য রক্ষার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের সতর্ক করে পুনরায় ফুটপাত দখল না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ