বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:০৪ পি.এম
ভোলার চরফ্যাশনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তার দুর্ভোগে থাকা শত শত গ্রামের মানুষ এখন ইটের সড়ক পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। এই পরিবর্তনের ফলে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র।
একসময় এসব এলাকার অধিকাংশ রাস্তা ছিল কাঁচা। বর্ষা মৌসুম এলেই হাঁটুসমান কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ত। প্রতিবছর সরকারি অর্থে মাটি ফেলে রাস্তা সংস্কার করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে সেই মাটি ধুয়ে যেত। ফলে পরবর্তী বছরে আবারও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হত স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এবার সেই চিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ হওয়ায় গ্রামের মানুষ এখন বছরের সমস্ত সময় সহজেই চলাচল করতে পারছেন। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ি থেকে বের হওয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বাজার, স্কুল, মসজিদ অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন সেই ভোগান্তি অনেকটাই দূর হয়েছে।
অতীতে কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কাঁচা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন বাড়ির সামনে পর্যন্ত যেতে পারত না। বর্তমানে ইটের সড়ক নির্মাণ হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন সরাসরি বাড়ির সামনে পৌঁছাতে পারছে। এটির ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও অনেক সহজ হয়ে গেছে।
শুধু রোগী পরিবহন নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যও এই উন্নয়ন বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। আগে বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে যেত। আবার অনেকে দুর্ভোগের কারণে নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারত না। এখন ইটের সড়ক হওয়ায় তারা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে সক্ষম হচ্ছেন।
মাদ্রাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা কালাম বলেন, আগে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হতো। দৈনন্দিন যাতায়াত এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনাও ছিল দুরূহ। এখন ইটের রাস্তা হওয়ায় সবকিছু সহজ হয়ে গেছে। এজন্য আমরা স্থানীয় এমপি ও উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
জিন্নাগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা কুলছুম বলেন, আগে কাঁচা রাস্তার কারণে চলাচলে খুব কষ্ট হতো। এখন ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় অনেক সুবিধা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ইটের সড়ক স্থায়ীভাবে পাকাকরণের দাবি জানাই।
উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, তিনটি প্রকল্পের আওতায় সাধারণত মাটির রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হয়। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সুপারিশে চরফ্যাশনের ২১টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামীণ সড়কে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মঞ্জুর হোসেন বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বরাদ্দ অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই নামমাত্র কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু নুরুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগ ও পরামর্শে এবার সেই বরাদ্দ দিয়ে কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি. এম. ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় তিন শতাধিক সড়কে ইটের সলিং নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে চরফ্যাশনে তিন শতাধিক সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে। কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ করায় স্থানীয় জনগণ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬ : মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলের হামলায় একটি পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই সংস্থাটি এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার জন্য ইরানের সমর্থিত হিজবুল্লাহ ২ মার্চ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালনা করে। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতে ২৫০ জনের বেশি শিশু সহ চার হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
বৈরুত থেকে এএফপি জানাচ্ছে যে, অ্যামনেস্টি ৬ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে বেসামরিক মানুষের তিনটি বাড়িতে পরিচালিত তিনটি হামলার বিশ্লেষণ করেছে। এসব হামলায় ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জন ছিল শিশু।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি অভিযোগ করেছে যে, এসব হামলায় ইসরাইল ‘সম্পূর্ণ পরিবার নিশ্চিহ্ন’ করেছে এবং এগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে।
এবং সংস্থাটি জানায়, তারা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায় যে, কিছু হামলা ‘হিজবুল্লাহর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ করা হয়েছিল এবং অন্য কিছু হামলা ‘পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে’।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অ্যামনেস্টিকে আরও জানায় যে, সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে অ্যামনেস্টি জানায়, পরবর্তী যোগাযোগ সত্ত্বেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী ওই তিনটি হামলা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি, এমনকি লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তাও জানায়নি।
এই প্রতিবেদনটি ১৫ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হামলার পর বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন, প্যারামেডিক, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সাংবাদিক এবং স্থানীয় কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তিসংগতভাবে মনে করে যে, প্রতিটি বিমান হামলায় ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হওয়া, বেসামরিক ব্যক্তি অথবা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো কিংবা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়া সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপপরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে মন্তব্য করেছেন যে, 'মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননে এক ডজন শিশুসহ পুরো পরিবারগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে, যা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।'
তিনি আরও বলেছেন, 'রাষ্ট্রগুলোর উচিত অবিলম্বে ইসরাইলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং সার্বজনীন ও বহির্দেশীয় বিচারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।'
গত মাসে লেবানন ও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসানে পথ সুগম করা।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যদিও এরপরও ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে মাঝে-মধ্যেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার কয়েকটি হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি শহরে ফুটপাতকে দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা প্রায় ২০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এই অভিযানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এস. এম. সাইফুল ইসলাম এবং এস. এম. আশরাফুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। অভিযানের সময়ে সহকারী কমিশনার এস এম সাইফুল ইসলাম, এস এম আশরাফুল ইসলাম এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনেক দিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ দখলের কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। এই অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শহরের সৌন্দর্য রক্ষার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের সতর্ক করে পুনরায় ফুটপাত দখল না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন জরুরি সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে।
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা থেকে পর্যটক পরিবহনকারী হাউসবোটের জন্য এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব নির্দেশনা তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, নির্দেশনাটি জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই জরুরি নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে যে, সুনামগঞ্জ জেলা এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে হাওরাঞ্চল ও নদীপথে নৌযান চলাচলে সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব হাউসবোট মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্টদের জন্য জরুরি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
জরুরি সতর্কতামূলক নির্দেশনায় সাতটি পয়েন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া বা নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে, তবে কোনো অবস্থাতেই পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা যাবে না। প্রতিটি হাউসবোটে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং এবং অন্যান্য জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, হাউসবোটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে। যাত্রা শুরুর আগে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
যদি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বা স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন মনে করে হাউসভোট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়, তবে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান এই সময় বলেন, অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই পর্যটক পরিবহনকারী হাউসবোটগুলোকে জেলা প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করা হবে এবং পর্যটকেরা ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে নিরাপদে ভ্রমণ করতে সক্ষম হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা রেলস্টেশন থেকে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যবান তিনটি স্বর্ণের বারসহ মাসুদ মোল্লা নামে একজন যুবককে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
সরকারি সংস্থা জানাচ্ছে যে, স্বর্ণের উৎস এবং এটি কি ধরনের চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সাতটার দিকে স্টেশন এলাকায় মাসুদকে সন্দেহজনক নিয়মে ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশ তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তার কাছে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালপত্র তল্লাশি করে তিনটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। আটক মাসুদ মোল্লা আসলে নড়াইল জেলার নড়াগাতি এলাকার বাসিন্দা।
রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাঁড়িয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ দাবি করেন যে, তিনি ঢাকা থেকে খুলনায় এসে নড়াইলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে অবস্থান করছিলেন। তবে তার বক্তব্য এবং উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেছেন, আটক মাসুদ মোল্লার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মামলা রয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং এ ঘটনায় সম্ভবত অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
খুলনা রেলওয়ে থানার ওসি মো. সেতু সালাম খান জানিয়েছেন, মাসুদ মোল্লাকে তিনটি স্বর্ণের বারসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ