বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:০৬ পি.এম
ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬ : মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলের হামলায় একটি পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই সংস্থাটি এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার জন্য ইরানের সমর্থিত হিজবুল্লাহ ২ মার্চ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালনা করে। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতে ২৫০ জনের বেশি শিশু সহ চার হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
বৈরুত থেকে এএফপি জানাচ্ছে যে, অ্যামনেস্টি ৬ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে বেসামরিক মানুষের তিনটি বাড়িতে পরিচালিত তিনটি হামলার বিশ্লেষণ করেছে। এসব হামলায় ২৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জন ছিল শিশু।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি অভিযোগ করেছে যে, এসব হামলায় ইসরাইল ‘সম্পূর্ণ পরিবার নিশ্চিহ্ন’ করেছে এবং এগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে।
এবং সংস্থাটি জানায়, তারা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায় যে, কিছু হামলা ‘হিজবুল্লাহর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ করা হয়েছিল এবং অন্য কিছু হামলা ‘পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে’।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অ্যামনেস্টিকে আরও জানায় যে, সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে অ্যামনেস্টি জানায়, পরবর্তী যোগাযোগ সত্ত্বেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী ওই তিনটি হামলা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি, এমনকি লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তাও জানায়নি।
এই প্রতিবেদনটি ১৫ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হামলার পর বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন, প্যারামেডিক, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সাংবাদিক এবং স্থানীয় কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তিসংগতভাবে মনে করে যে, প্রতিটি বিমান হামলায় ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হওয়া, বেসামরিক ব্যক্তি অথবা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো কিংবা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়া সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপপরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে মন্তব্য করেছেন যে, 'মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননে এক ডজন শিশুসহ পুরো পরিবারগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে, যা বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে।'
তিনি আরও বলেছেন, 'রাষ্ট্রগুলোর উচিত অবিলম্বে ইসরাইলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং সার্বজনীন ও বহির্দেশীয় বিচারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।'
গত মাসে লেবানন ও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসানে পথ সুগম করা।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যদিও এরপরও ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে মাঝে-মধ্যেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার কয়েকটি হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি শহরে ফুটপাতকে দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা প্রায় ২০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এই অভিযানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এস. এম. সাইফুল ইসলাম এবং এস. এম. আশরাফুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। অভিযানের সময়ে সহকারী কমিশনার এস এম সাইফুল ইসলাম, এস এম আশরাফুল ইসলাম এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনেক দিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ দখলের কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। এই অবস্থায় জনদুর্ভোগ কমানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শহরের সৌন্দর্য রক্ষার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের সতর্ক করে পুনরায় ফুটপাত দখল না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন জরুরি সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে।
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা থেকে পর্যটক পরিবহনকারী হাউসবোটের জন্য এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব নির্দেশনা তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, নির্দেশনাটি জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই জরুরি নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে যে, সুনামগঞ্জ জেলা এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে সুরমা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে হাওরাঞ্চল ও নদীপথে নৌযান চলাচলে সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব হাউসবোট মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্টদের জন্য জরুরি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
জরুরি সতর্কতামূলক নির্দেশনায় সাতটি পয়েন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া বা নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে, তবে কোনো অবস্থাতেই পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা যাবে না। প্রতিটি হাউসবোটে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং এবং অন্যান্য জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, হাউসবোটে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে। যাত্রা শুরুর আগে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
যদি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বা স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন মনে করে হাউসভোট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়, তবে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান এই সময় বলেন, অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই পর্যটক পরিবহনকারী হাউসবোটগুলোকে জেলা প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করা হবে এবং পর্যটকেরা ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে নিরাপদে ভ্রমণ করতে সক্ষম হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা রেলস্টেশন থেকে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যবান তিনটি স্বর্ণের বারসহ মাসুদ মোল্লা নামে একজন যুবককে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
সরকারি সংস্থা জানাচ্ছে যে, স্বর্ণের উৎস এবং এটি কি ধরনের চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সাতটার দিকে স্টেশন এলাকায় মাসুদকে সন্দেহজনক নিয়মে ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশ তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তার কাছে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালপত্র তল্লাশি করে তিনটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। আটক মাসুদ মোল্লা আসলে নড়াইল জেলার নড়াগাতি এলাকার বাসিন্দা।
রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাঁড়িয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ দাবি করেন যে, তিনি ঢাকা থেকে খুলনায় এসে নড়াইলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে অবস্থান করছিলেন। তবে তার বক্তব্য এবং উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেছেন, আটক মাসুদ মোল্লার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মামলা রয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং এ ঘটনায় সম্ভবত অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
খুলনা রেলওয়ে থানার ওসি মো. সেতু সালাম খান জানিয়েছেন, মাসুদ মোল্লাকে তিনটি স্বর্ণের বারসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে আরো শক্তিশালী টাইফুন বাভি চীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ১৯৮৭ সালের পর এটি সবচেয়ে বড় আকারের টাইফুন হতে পারে। সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মোকাবেলায় চীন ও তাইওয়ান ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাইওয়ানে ২৯ হাজার সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, টাইফুন বাভি সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে একটি বিধ্বংসী ক্রান্তীয় ঝড় হতে পারে। এটি আঘাত হানতে প্রস্তুত হচ্ছে, যখন টাইফুন মায়সাকের ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে চীনের বিভিন্ন অঞ্চল।
তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তাইপের আশেপাশে উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য বিপর্যয়ের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ২০২৪ সালের কং রে টাইফুনের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী ঝড় হবে। ওই টাইফুনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৮৭ সালের পর এটি হতে পারে সবচেয়ে বড় টাইফুন যা তাইওয়ানে আঘাত হানছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইফুন বাভি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে আগামী শনিবার সন্ধ্যে নাগাদ চীনের পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাস কর্মকর্তা জেসন চ্যাং রয়টার্সকে বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের ঝড় খুব কমই দেখা গেছে। তিনি মনে করেন, এটি ১৯৮৭ সালের পর দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ঝড় হতে পারে যা তাইওয়ানে আঘাত হানছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে টাইফুন মায়সাকে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীন, জাপান এবং তাইওয়ান ক্রমশ আরো শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বছর এল নিনোর প্রভাব অনুভূত হতে পারে, যার কারণে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়ার এই অবস্থান আরো ঘন ঘন এবং শক্তিশালী টাইফুন সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।
বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে বাভির বাতাসের গতি কিছুটা কমবে। তবে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে এটি একটি বিপজ্জনক ঝড় হিসেবেই আঘাত হানবে।
অন্যদিকে, শুক্রবার ও শনিবার জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভূমিধস, বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।
বেইজিং নিউজ জানিয়েছে, টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে বিনইয়াং কাউন্টির একটি খামারে দুই দিন পানির নিচে থাকার পর অনেকগুলো শূকর মারা গেছে।
গ্লোবাল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, গুয়িগাং চিড়িয়াখানার বন্যার পানিতে তিনটি সিংহ মারা গেছে। এছাড়াও দুটি জেব্রা, চারটি সজারু, অসংখ্য টিয়া পাখি এবং উত্তর আমেরিকার দুটি র্যাকুনসহ প্রায় ১০০টি প্রাণী এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানার পরিচালনাকারী ওয়াং লিয়ুয়ান।
ধেয়ে আসা টাইফুনের কারণে জাপান এয়ারলাইন্স শুক্রবারের ৪৮টি অভ্যন্তরীণ ও দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৬১০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও শুক্রবার ৩৪টি এবং শনিবার ৩৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দুই দিনে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ঘূর্ণিঝড় বিষয়ক গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, বাভি দীর্ঘ সময় ধরে উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করায় প্রচুর শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, উপকূলে আঘাত হানলেই এর ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে এবং ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রায় বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ