১০:৩০ পি.এম
বহুতল ভবনের পার্কিং স্পেস ভাড়া দিয়ে দোকানপাট বসানোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন এবং পৌর প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৫টি ভবনের ২২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
গত ২১ মে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোমেল শর্মা এ আদেশ জারী করেন। বুধবার দুপুরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, ফেনী শহরের ট্রাংক রোড় ও শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের কয়েকটি বহুতল ভবনের বেজমেন্টে পার্কিং স্পেস ভাড়া দিয়ে দোকানপাট বসিয়েছে মালিকপক্ষ। এতে করে ওই ভবনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসা ক্রেতা ও সেবাগ্রহীতাদের পরিবহনগুলো রাস্তায় পার্কিং করতে বাধ্য হয়। যার কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে নিত্য যানজট লেগে থাকে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
প্রশাসন জানায়, বাণিজ্যিক ভবনে বিল্ডিং কোড মেনে পার্কিং স্পেসে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা সচল করতে ইতোপূর্বে ভবন মালিকদের কয়েকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। পার্কিং স্পেস এ স্থাপিত ব্যবসায়ীদেরকেও নানাভাবে অনুৎসাহী করা হয়েছে। কিন্তু এতে কোন পক্ষই কর্ণপাত করেনি। এক পর্যায়ে গত ২১ মে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোমেল শর্মা জনগুরুত্বপূর্ণ ৫টি বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং স্পেসে থাকা ২২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফেনী পৌরসভা থেকে বাতিল করেন।
বাতিলকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, ইত্যাদি হোটেল, ভাবনা সুজ, আনিকা সুজ, কে এস এন্ড কোং, তাজমোহন কোকারিজ, আরপি এন্ড কোং, সায়মা কসমেটিক্স, মা লেদার হাউস, চায়না লেদার হাউস, এস এম ফিল্টার হাউস, হিল ট্যাক্স, টাইলস ভুবন, সুমি কসমেটিকস, নিউ কেয়া বাজার এবং নাভানা সুজ। শেখ আহমদ টাওয়ার, ফাহাদ ভবন, সূচনা সেন্টার, গ্রীন টাওয়ার ও শাহ আলম টাওয়ারের পার্কিং স্পেসে অবস্থিত দোকানগুলোও এই আদেশের আওতাভুক্ত রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
ফেনী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দিন জানান, পার্কিং স্পেস খালি না রেখে, সেখানে অবৈধভাবে দোকান ভাড়া দেওয়ার অপরাধে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৮৬ ধারা অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতে শহরের সব মার্কেট ও ভবনের পার্কিং স্পেসে থাকা অবৈধ দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মার্কেট সিলগালা বা জরিমানার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
বিষয়টি জানার পর হাজী শাহ আলম টাওয়ারের বেজমেন্টে থাকা গার্ডেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী নুরুল আফসার কবির শাহজাদা বলেন, আমাদের কোনো নোটিশ না দিয়েই ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আমরা পৌরসভার লাইসেন্সসহ ১১টি সরকারি সংস্থার ছাড়পত্র নিয়ে, কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে বৈধভাবে ব্যবসা শুরু করেছি। যদি এই জায়গাগুলো অবৈধই হয়ে থাকে, তবে ব্যবসা শুরুর সময় পৌর কর্তৃপক্ষ কেন যাচাই-বাছাই না করে তাদের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করেছিল?
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
তার দাবি, ফেনী শহরে অন্তত ৫০টি সুউচ্চ টাওয়ার রয়েছে, যার অধিকাংশেরই নিচে পার্কিং স্পেস দখল করে 'মিনি মার্কেট' চালানো হচ্ছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন