ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফেনীতে ২২ প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করল পৌরসভা


ফেনীতে ২২ প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করল পৌরসভা

বহুতল ভবনের পার্কিং স্পেস ভাড়া দিয়ে দোকানপাট বসানোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন এবং পৌর প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৫টি ভবনের ২২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

গত ২১ মে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোমেল শর্মা এ আদেশ জারী করেন। বুধবার দুপুরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, ফেনী শহরের ট্রাংক রোড় ও শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের কয়েকটি বহুতল ভবনের বেজমেন্টে পার্কিং স্পেস ভাড়া দিয়ে দোকানপাট বসিয়েছে মালিকপক্ষ। এতে করে ওই ভবনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসা ক্রেতা ও সেবাগ্রহীতাদের পরিবহনগুলো রাস্তায় পার্কিং করতে বাধ্য হয়। যার কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে নিত্য যানজট লেগে থাকে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

প্রশাসন জানায়, বাণিজ্যিক ভবনে বিল্ডিং কোড মেনে পার্কিং স্পেসে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা সচল করতে ইতোপূর্বে ভবন মালিকদের কয়েকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। পার্কিং স্পেস এ স্থাপিত ব্যবসায়ীদেরকেও নানাভাবে অনুৎসাহী করা হয়েছে। কিন্তু এতে কোন পক্ষই কর্ণপাত করেনি। এক পর্যায়ে গত ২১ মে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোমেল শর্মা জনগুরুত্বপূর্ণ ৫টি বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং স্পেসে থাকা ২২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফেনী পৌরসভা থেকে বাতিল করেন।

বাতিলকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, ইত্যাদি হোটেল, ভাবনা সুজ, আনিকা সুজ, কে এস এন্ড কোং, তাজমোহন কোকারিজ, আরপি এন্ড কোং, সায়মা কসমেটিক্স, মা লেদার হাউস, চায়না লেদার হাউস, এস এম ফিল্টার হাউস, হিল ট্যাক্স, টাইলস ভুবন, সুমি কসমেটিকস, নিউ কেয়া বাজার এবং নাভানা সুজ। শেখ আহমদ টাওয়ার, ফাহাদ ভবন, সূচনা সেন্টার, গ্রীন টাওয়ার ও শাহ আলম টাওয়ারের পার্কিং স্পেসে অবস্থিত দোকানগুলোও এই আদেশের আওতাভুক্ত রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

ফেনী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দিন জানান, পার্কিং স্পেস খালি না রেখে, সেখানে অবৈধভাবে দোকান ভাড়া দেওয়ার অপরাধে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৮৬ ধারা অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতে শহরের সব মার্কেট ও ভবনের পার্কিং স্পেসে থাকা অবৈধ দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মার্কেট সিলগালা বা জরিমানার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

বিষয়টি জানার পর হাজী শাহ আলম টাওয়ারের বেজমেন্টে থাকা গার্ডেন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী নুরুল আফসার কবির শাহজাদা বলেন, আমাদের কোনো নোটিশ না দিয়েই ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আমরা পৌরসভার লাইসেন্সসহ ১১টি সরকারি সংস্থার ছাড়পত্র নিয়ে, কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে বৈধভাবে ব্যবসা শুরু করেছি। যদি এই জায়গাগুলো অবৈধই হয়ে থাকে, তবে ব্যবসা শুরুর সময় পৌর কর্তৃপক্ষ কেন যাচাই-বাছাই না করে তাদের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করেছিল?

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তার দাবি, ফেনী শহরে অন্তত ৫০টি সুউচ্চ টাওয়ার রয়েছে, যার অধিকাংশেরই নিচে পার্কিং স্পেস দখল করে 'মিনি মার্কেট' চালানো হচ্ছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানের মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গভর্নরের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


জাপানের মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গভর্নরের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। এ সাক্ষাতে অংশ নেন মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির ঢাকা ও টোকিও কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক নীতিগত অগ্রগতি, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ, মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, ডিজিটাল ব্যাংকিং, পেমেন্ট অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয় যে, প্রযোজ্য আইন, বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনমুখী আর্থিক উদ্যোগসমূহকে সময়োপযোগী এবং কার্যকরভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।

গভর্নর এ সময়ে বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক এবং সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাবে। তিনি বলেন, মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির গঠনমূলক যেকোনো উদ্যোগ প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ সাপেক্ষে যথাযথভাবে বিবেচিত হবে।

সভায় পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ স্কুলের সামনে সংঘর্ষ, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


হঠাৎ স্কুলের সামনে সংঘর্ষ, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ

পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ভেতরে আটকা পড়েন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। পরে খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদেরকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।

এই ঘটনা ঘটে বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের আহসানমারা সেতুর উত্তরপাড়ে সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের জগজীবনপুর গ্রামে।

সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে পুলিশ সাত জনকে আটক করেছে, এমনটি জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জগজীবনপুর গ্রামের মাওলানা গোষ্ঠীর কাসেম আলী লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব রয়েছে একই গ্রামের বাদশা গোষ্ঠীর দুলাল মিয়ার লোকজনের। কাসেম আলী ও দুলাল মিয়ার লোকজনের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলছে। পূর্ব বিরোধের প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এক পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয় ভবনের ছাদে অবস্থান নেয়।

এই সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সংঘর্ষের ঘটনাটি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদকে জানান। শিক্ষক হারুনুর রশিদ ৯৯৯ ফোন করার পরামর্শ দেন এবং বিষয়টি তিনি নিজে সদর থানার পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আটকে পড়া শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে আহত এবং পুলিশের হাতে আটককৃতদের নাম জানা যায়নি।

জগজীবনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী ভট্টাচার্য্য বলেন, গ্রামের দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছে। হঠাৎ করে বিকেলে স্কুলের সামনে মারামারি শুরু হয়। আমরা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ স্কুলে আসে এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মারামারিতে অনেকে আহত হয়েছে। স্কুলের ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয়ের সামনেই মারামারি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর শতাধিক শিশু ও শিক্ষককে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের হাত এড়াতে কচুরিপানার মধ্যে সাড়ে তিন ঘণ্টা আত্মগোপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


পুলিশের হাত এড়াতে কচুরিপানার মধ্যে সাড়ে তিন ঘণ্টা আত্মগোপন

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (দোকান) চুরি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে খালের কচুরিপানার মধ্যে সাড়ে তিনঘণ্টা নাক বের করে লুকিয়ে থেকেও শেষরক্ষা হয়নি এক চোরের। গ্রামবাসীর প্রাণপণ চেষ্টায় অবশেষে খালের কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে থাকা চোরকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামের। আটক চোর সুজন হাওলাদার (৩২) পাশের হাপানিয়া গ্রামের জলিল হাওলাদারের ছেলে।

 

বুধবার সকালে ওই গ্রামের বাসিন্দা সজিব হাওলাদার জানান, মঙ্গলবার দিনগত রাত ৩টার দিকে গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের দোকানের টিনের বেড়া কেটে চুরি করতে ঢুকে এক চোর। দোকানের মালামাল চুরি করার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ডাকচিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে পালিয়ে বাঁচতে দোকানের পাশে খালের কচুরিপানার মধ্যে ঝাঁপ দেয় ওই চোর। পরবর্তীতে সাড়ে তিনঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে বুধবার (পহেলা জুলাই) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে কচুরিপানার মধ্যে নাক বের করা অবস্থায় চোরকে আটক করা হয়।

 

 

তিনি আরও জানান, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকার কারনে চোর সুজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই তার চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার (সুজন) বড় ভাইয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

 

 

গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনও কেউ থানা পুলিশকে অবগত করেননি। চোরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় লড়াইয়ে বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন কোম্পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় লড়াইয়ে বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন কোম্পানি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে বিশ্বের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লক্ষ্যের প্রতি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থারই প্রতিফলন।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতে প্রবেশ করতে চাইছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দ্বিতীয় অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এই আগ্রহ দেখা গেছে।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যাত্রীসেবা সম্পর্কিত গ্রাউন্ড সার্ভিসের জন্য দ্বিতীয় একজন অপারেটর নিয়োগ করা হবে। তবে নতুন টার্মিনালের কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য ওঠানো-নামানোর দায়িত্ব এককভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হাতেই থাকবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, দ্বিতীয় হ্যান্ডলারের কাজ শুধু যাত্রী ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব এককভাবে বিমানের কাছেই থাকছে।

আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এমিরেটস গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডনাটা এবং সিঙ্গাপুরের স্যাটস। এই সবগুলোই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত বিমানবন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ মাফিদুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এতগুলো আন্তর্জাতিক এভিয়েশন কোম্পানির আগ্রহ দেখানোর ঘটনা বাংলাদেশে বিরল। এটি দক্ষিণ এশিয়ার এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বকেই প্রমাণ করে।

কূটনৈতিক তৎপরতায় আস্থার প্রতিফলন
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। সেখানে তারা নিজ নিজ দেশের কোম্পানির আগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

মাফিদুর রহমান বলেন, এই কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের সম্প্রসারণশীল এভিয়েশন বাজারকে বিশ্ব কতটা বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কতটা আস্থা রয়েছে।

একটি যুগান্তকারী সংস্কার
তৃতীয় টার্মিনালের এই সিদ্ধান্তটি একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। কারণ, গত কয়েক দশক ধরে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের একক দায়িত্ব ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর। এখন সেখানে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই খাতে আরও বেশি প্রতিযোগিতার দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, এর ফলে সেবার মান উন্নত হবে, উড়োজাহাজ প্রস্তুত করার সময় কমবে এবং বাংলাদেশের বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এয়ারলাইন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার, এমনকি এটি পরের ধাপে করা হলেও চলতো। তবে আপাতত যাত্রী সেবা হ্যান্ডলিংয়ে অন্তত প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত।

বিশিষ্ট এভিয়েশন উদ্যোক্তা এবং টাস এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হকও এই বৈশ্বিক আগ্রহকে একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন।

তিনি বলেন, কার্গো ভিলেজ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-উভয় কার্যক্রমই আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান মাফিদুর রহমানও মনে করেন, টার্মিনালের উন্নত কার্গো সিস্টেমের সর্বোচ্চ সুফল পেতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, যেসব যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে তা অত্যন্ত আধুনিক এবং এগুলো পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ অপারেটরের প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শুরুতেই বিমানের পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক অপারেটর কাজ করলে ভালো হতো। এতে করে পুরোপুরি স্থানীয়ভাবে পরিচালনার আগে আমাদের জনবল কাজগুলো শিখে নিতে পারত।

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দক্ষ পেশাদারদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে এভিয়েশন খাত নতুন গতি পাবে।

বিমানের আত্মবিশ্বাস
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, বিমান ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছে এবং তৃতীয় টার্মিনালের জন্য আরও ১ হাজারের বেশি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি আরও জানান, বিমান কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে কাজ করছে। তবে দ্বিতীয় যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা পাননি।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%