০৯:১০ পি.এম
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও মোংলা সফরে যাচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন পরিদর্শন করবেন এবং মোংলা বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলও দেখবেন।
এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের পর প্রথম খুলনা ও মোংলা সফর। স্থানীয়দের মধ্যে তার সফর নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তারা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শনের পর দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি কোস্টগার্ডের দ্রুতগতির নৌযানে আকরাম পয়েন্ট হয়ে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
আরও পড়ুন: ভেসে যাচ্ছিলেন একজন, উদ্ধারে একে অপরের হাত ধরে শেকল তৈরি করেও রক্ষা হয়নি
নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিদ্যালয় মাঠ ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।
খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নলিয়ান সফর সরকারি কর্মসূচির অংশ। সেখানে স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। তবে তার আগমন উপলক্ষে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নলিয়ান থেকে নৌপথে আকরাম পয়েন্টের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। দাকোপে তার কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।
মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সভায় অংশ নেবেন এবং বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। এসব স্থাপনা ঘিরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি আইন সংশোধনে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
মোংলা বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম, এটি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বন্দরটিকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, জেটি ও পণ্য ওঠানো-নামানোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং আধুনিক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, মোংলাসংলগ্ন প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনও এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরিবেশের ভারসাম্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী আবারও খুলনা সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সেদিন তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন।
সুন্দরবন, মোংলা বন্দর এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও ত্বরান্বিত হবে।
আরও পড়ুন: ইশরাকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম, মন্তব্য নিলোফার মনি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন