০২:৪৪ পি.এম
রক্তক্ষরণ ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুদের মুখোমুখি, অসংখ্য শিশু একমুঠো খাবারের জন্য আকুতি জানাচ্ছে, সেখানেই সুদূর বাংলাদেশ থেকে সীমানা পেরিয়ে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এইচসিএসবি) মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এই মানবিক সহায়তা কিভাবে গাজা ও সুদানে পৌঁছাচ্ছে, খাদ্য বিতরণ কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে, বিশুদ্ধ পানি কিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম কিভাবে চলছে, এসব তথ্য জানার জন্য করা খোঁজ-খবরের ভিত্তিতে উপরে উল্লেখিত কার্যক্রমের পেছনে বিস্তৃত নথিপত্র, প্রত্যয়ন, অডিট ও মাঠ পর্যায়ের ডকুমেন্টেশন রয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র বাণী অনুযায়ী মুসলিম উম্মাহ একটি দেহের মতো; দেহের একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে পুরো দেহ সেই কষ্ট অনুভব করে। এই আদর্শকে ধারণ করেই বাংলাদেশের মানুষের ঈমানি দায়িত্ববোধ ও আন্তরিক টান থেকে গড়ে উঠেছে এই মানবিক সেতুবন্ধন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে মিসরের দিকে যাওয়ার পথে গাজা ও সুদানের শরণার্থী ও ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন টিম হাফেজ্জী, পৃথক টিম গঠন করে গাজার অভ্যন্তরে কাজ চলছে।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, গণহত্যার শিকার মুসলমানদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সুপরিচিত সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুহসিন রশিদ, অ্যাডভোকেট নাজমুস সাদাত এবং এক্সিলেন্স ফার্মের আইনি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাভেলিং ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে সহায়তা কার্যক্রম চলছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পর্যালোচনায় দেখা যায়, গাজার ছয়টি হাসপাতালের লিখিত অনুমতির ভিত্তিতে সেখানে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে টিম হাফেজ্জী। গাজার লাইসেন্সপ্রাপ্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠান রাওয়াফিদ আল-খায়ের ইয়ুথ সেন্টারের অফিসিয়াল লেটারহেড, লাইসেন্স নম্বর ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে দেখা যায় যে, এইচসিএসবির অর্থায়নে গাজায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ফুড বাস্কেট বিতরণ পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া, মিসরের বিখ্যাত ইজিপশিয়ান ইয়ুথ কাউন্সিলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় মিসরে আশ্রয় নেওয়া গাজা ও সুদানের শরণার্থীদের মাঝেও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম করা হচ্ছে।
গাজার অভ্যন্তরে খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে সংস্থাটি জানায়, সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে কোনো ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের সুযোগ নেই। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা এমএটিডব্লিউ, এআইসিটি গ্লোবাল, ওয়ান উম্মাহ ও মুসলিম উম্মাহ যে পদ্ধতিতে স্থানীয় বাজার থেকে উচ্চমূল্যে খাদ্য সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, এইচসিএসবিও একই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। সংস্থাটির দাবি, গাজার কার্যক্রমের প্রতিটি ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গাজা বা সুদান নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা জুড়েও খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ উপহার প্রদান, হুইলচেয়ার বিতরণ, কুরবানি কর্মসূচি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এইচসিএসবি।
এইচসিএসবির কার্যক্রম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। আল জাজিরা গাজায় সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ন্যাশনাল টিভি, ফিলিস্তিন টিভি, সুদান ন্যাশনাল টিভি, আলজারকা টিভি, তাইবা টিভি এবং মিসর টাইমসে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
দেশের গণমাধ্যমের মধ্যে সময় টিভি, আরটিভি, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, নিউ নেশন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাংলাভিশন, নয়া দিগন্ত, আমার দেশ, দেশ রূপান্তর, মুসলিম টাইমস, এমবিএ টাইমস, ফেস দ্য পিপল ও ডেইলি অবজারভারসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এইচসিএসবির গাজা ও সুদান কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি সেবা কার্যক্রম ইউনিফর্ম পরিহিত টিম, ব্যানার এবং নির্দিষ্ট দিন, তারিখ ও মাস উল্লেখ করে ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করা হয়। সংস্থাটির দাবি, এই ধরনের পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টেশন গাজার সঙ্গে কাজ করা অন্যান্য অনেক সংস্থার ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। ফলে, কোনটি পুরনো এবং কোনটি নতুন ভিডিও সে ব্যাপারে বিভ্রান্তির সুযোগ থাকে না।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এছাড়া, গাজা মিশনের প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের, রসিদ, প্রত্যয়নপত্র, ট্রাভেলিং ডকুমেন্ট, পাসপোর্ট কপি এবং মাঠ পর্যায়ের সকল নথি প্রতি মাসে ফাইলিং করে সংরক্ষণ করা হয়। এই নথিপত্র পরে ডিভিসি হোল্ডার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে বাৎসরিক অডিট প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ হিসাবসহ উপস্থাপন করা হয়, সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির স্বচ্ছ ও নথিভিত্তিক কার্যক্রমের প্রতি আস্থা রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বর্তমানে সরাসরি এইচসিএসবির গাজা ও সুদান টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুসলমান হিসেবে গাজা ও সুদানের মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি ঈমানি দায়িত্ব। তাই প্রতিটি কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র সংরক্ষণ, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই পরিচালিত হচ্ছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের আস্থা, দোয়া ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি মজলুম উম্মাহর এই মানবিক কাফেলায় সবাইকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন