মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০৩ পি.এম
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ভাতিজার বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে মোকসেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, তার নাতি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং সে পালিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানার নব্ধিগঞ্জ কলাবাড়ী এলাকার মৃত সজর উদ্দিন সরকারের ছেলে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে হত্যাকাণ্ডের খবর জানানো হয়। খবর পেয়ে উলিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বড় বোন মাজেদা বেগম মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী জানান, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে তিনজন সন্দেহভাজন হাম রোগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে নিশ্চিত হাম রোগে এ সময়ের মধ্যে কারও মৃত্যু হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৮ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৯৯৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৬ জন। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র লাভ করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হাম রোগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হাম রোগে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগে মোট ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আলোর মুখ দেখার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড.শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশ দিয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া কৃষি মহাবিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে সুনির্দিষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাবনা-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস নির্বাচনে পাবনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি অব্যাহত রাখেন। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।
পাবনা একটি কৃষি প্রধান জেলা। জেলাটিতে পেঁয়াজ, চাল, গম, সবজি, ডাল ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যাপক উৎপাদন হয়। ফলে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে, উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং দক্ষ কৃষিবিদ তৈরিতে তা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, "পাবনার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখে আসছে। নির্বাচনের সময় আমি সাধারণ মানুষকে কথা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা পাবনাবাসীর স্বপ্নের প্রথম বড় জয়।"
"এটি দ্রুত বাস্তবায়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।"
এ ব্যাপারে দোতলা কৃষি ব্যবস্থাপনার আবিষ্কারক কৃষিবিদ জাফর সাদেক বলেন, "১৯৮০ সাল থেকে পাবনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে এটির অগ্রগতি দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক অগ্রগতির খবরটি পাবনার মত কৃষিভিত্তিক জেলার জন্য সুখবর।" তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়টি হলে কেবল শিক্ষা নয়, সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ অঞ্চলে জমি ও অবকাঠামোগত সুযোগ তৈরি করা সহজ হবে।"
ইউজিসি’র সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন দ্রুত শেষ করে জমি অধিগ্রহণ ও আইন প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে এবারের দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের নতুন কালীবাড়ি মন্দির, আবাহন, মহেশ্বরী ও ত্রিনয়নীসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাংলাদেশি হিসেবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—আমরা এই সম্প্রীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাব।" তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছেন। এবারের দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মন্ত্রী পরিদর্শনকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং পূজার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনিল কুমার দাশসহ অন্যান্যরা।
পরে মন্ত্রী বিকেল ৩টায় শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাক হোসেনের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে সাংবাদিকদের সমালোচনা করেছেন ইসলামী বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তিনি মন্তব্য করেন, "তার পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতিটা খারাপ ছিল, উদ্দেশ্য মহৎ ছিল।" তবে তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সম্পর্কে বলেন, "এগুলোকে কুত্তার মতো পোটানো দরকার।" তিনি অভিযোগ করেন যে, সাংবাদিকরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ইতিবাচক দিক প্রচার করেনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী আরও বলেন, ইশরাক হোসেনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি অবশ্যই এটি সঠিক বলে মনে করেন, কিন্তু তার পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতি খারাপ ছিল, যদিও উদ্দেশ্য মহৎ ছিল।
এই সময় সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ইতিবাচক দিক প্রচার না করে পিস্তল হাতে দৌড়ানোর বিষয়টি সামনে এনেছেন।" তিনি সাংবাদিকদের একাংশকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
আব্বাসী আরও বলেন, "যদি সাংবাদিকেরা ইতিবাচক সংবাদ প্রচার করতেন, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত।" তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে মাদকের বিস্তার মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তব্যের অন্য অংশে তিনি রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ