বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১১ পি.এম
গত আগস্ট মাসে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।"
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।"
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।"
মেধাবীদের উৎসাহিত ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশ পাবে। দেশ উপকৃত হবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে।"
সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।"
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে থাকলে যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।"
তিনি আরও বলেন, "সামনে হয়ত এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য তারা সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।"
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের হয়ত কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সবাই মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।"
সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।"
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন এবং মাওলানা রফিকুল ইসলামও ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ৪২ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
কমিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষক, হলসমুহের প্রভোস্ট, প্রশাসনিক দপ্তরের পরিচালক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ছাত্র-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এই কমিটি প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রস্তুতি, বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এ বিষয়ে কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান মন্তব্য করেন, "প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছি। সবাইকে নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করে আগাবো।"
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নিরাপত্তা জনিত ইস্যু নিয়ে কাজ করছি। সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিব। কোনো ধরনের যাতে ঘাটতি না থাকে সেই বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি।"
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনে আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির গাছ কাটার জন্য সরকারি অনুমোদন এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা দায়েরের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিংয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী, নিজ মালিকানাধীন জমির গাছ কাটার পূর্বে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তথা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, অনুমতি ছাড়া গাছ কাটলে আইন অনুযায়ী ১০ ধারায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা দায়ের করা হবে। আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে এ বিষয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন মন্তব্য করেন, গাছ কাটার জন্য অনুমোদনের এই প্রক্রিয়া কোনো ধরনের হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়। পরিবেশ সুরক্ষা এবং অপরিকল্পিত বৃক্ষনিধন প্রতিরোধের জন্য এ নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জমির মালিকরা যাতে সহজে অনুমোদন নিতে পারেন, সে বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় রান্নার কার্যক্রম নিয়মিত গ্যাস সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ পর্যাপ্ত না থাকায় ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতে প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
এই ক্যাফেটেরিয়ায় প্রতিদিন ৫-৬ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, রান্নার কার্যক্রম একটি গ্যাসলাইন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই লাইন থেকে আরও কয়েকটি স্থাপনায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সংযোগ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনে গেছে। ফলে ক্যাফেটেরিয়ায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নিয়মিতভাবে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসনসহ একাধিক স্থাপনায় একই গ্যাসলাইন থেকে সংযোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহারের ফলে রান্নার ব্যস্ত সময়ে ক্যাফেটেরিয়ায় গ্যাসের চাপ আরও কমে যায়।
ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সংকটের কারণে নিয়মিত রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হয়। লাকড়ির জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এর ফলে ক্যান্টিনের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে এবং ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, লাকড়ির চুলায় রান্না করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। ফলে শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে রান্নার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন খাবারের আইটেম চালু করা সম্ভব হবে।
তারা আরও জানান, গ্যাস সংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীসহ প্রশাসন সবাই অবগত আছেন, কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যাতে ক্যান্টিনে নিয়মিত পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায়।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রইচ উদ্দিন বলেন, "এখন দেশের প্রায় সব জায়গাতেই গ্যাস সংকট রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমাদের ক্যাফেটেরিয়ার মেইন লাইনটিও বৈধ কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমরা দ্রুতই চেষ্টা করছি, যেন সমস্যাটি স্থায়ী সমাধান করা যায়।"
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। এক শিক্ষার্থী বলেন, "অনেক সময় ক্যান্টিনে খাবার অর্ডার করার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত ক্লাস থাকলে খাবার খেয়ে সময়মতো ক্লাসে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গ্যাসের সমস্যার কারণে যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত দ্রুত এর সমাধান করা। আমরা সময়মতো খাবার পাচ্ছি না, অথচ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসায় অবৈধভাবে গ্যাসের সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও বেশি সজাগ থাকা উচিত।"
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "ক্যান্টিনে খাবারের আইটেমও খুব বেশি বৈচিত্র্যময় নয়। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে যদি নতুন নতুন খাবার যুক্ত করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে।"
ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে রান্নার সময় কমার পাশাপাশি খাবার তৈরির সক্ষমতাও বাড়বে। এতে শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে এবং নতুন নতুন খাবারের আইটেমও যুক্ত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত গ্যাস সংকটের কারণে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের ওপর। তাই ক্যাফেটেরিয়ার জন্য পর্যাপ্ত ও পৃথক গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসা গ্রহণের সময় রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন—এটাই সকলের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। তবে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। এই ক্ষতির অর্ধেকেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য বলেও জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস’। ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা’ এবং স্লোগান ‘জীবনের জন্য নিরাপদ সেবা’। অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ চিকিৎসা এবং জীবনভর নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার ওপর এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় চিকিৎসা, পরীক্ষা, ওষুধ সেবন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকতে হয়। এই কারণে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরিমাণও বেশি হয়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় ভুল রোগ নির্ণয়, ওষুধ ব্যবহারে ভুল, সংক্রমণ, চিকিৎসার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে বাধার কারণে রোগীরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৪ শতাংশই অসংক্রামক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রোগী সুরক্ষার ঝুঁকি হাসপাতালের শয্যায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক ও বহির্বিভাগের চিকিৎসাতেও ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। এর একটি বড় অংশ প্রতিরোধযোগ্য।
ওষুধ ব্যবহারে ভুল, রোগ নির্ণয়ে ভুল, অনিরাপদ অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে সংক্রমণ, রোগীর পরিচয় শনাক্তকরণে ভুল এবং অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন রোগী সুরক্ষার প্রধান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অনিরাপদ চিকিৎসার বোঝা আরও বেশি। শুধুমাত্র হাসপাতালেই এসব দেশে বছরে আনুমানিক ১৩ কোটি ৪০ লাখ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। রোগী সুরক্ষাসংক্রান্ত ক্ষতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও এসব দেশে ঘটে বলে জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
রোগী সুরক্ষা শুধুমাত্র চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়; এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, রোগীর তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় রোগী ও স্বজনকে সম্পৃক্ত করা—এসব ব্যবস্থা জোরদার করলে চিকিৎসাজনিত ক্ষতি কমানো সম্ভব।
চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিরাপদ চিকিৎসা পাওয়াও রোগীর অধিকার। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় পুরো চিকিৎসাযাত্রার প্রতিটি ধাপে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ