ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা


দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তারা বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে দুজন প্রেস অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের অতীতে ভারতবিরোধী ও বিতর্কিত পোস্ট দেয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিক্রিয়া কি? জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং আমরা আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে এখানকার হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।’ সংবাদ সম্মেলনে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের আসন্ন ঢাকা সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সোয়াল জানান, এ নিয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক সাংবাদিক ইতালির ঐ অফিসারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে আলোচনা করবেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী পুলিশ সদস্যদের নেতৃত্বে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন দিগন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


নারী পুলিশ সদস্যদের নেতৃত্বে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন দিগন্ত

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবারের মতো নারী সদস্য নিয়োগের পাঁচ দশকেরও অধিক সময় পর নারীরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন।

একসময় সহায়ক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নারী পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে বাহিনীর প্রতিটি স্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিউনিটিতে টহলরত কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তার পর্যন্ত তারা সকল স্তরে নিজেদের সক্রিয়ভাবে উপস্থিত করছেন।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

তিনি জানান, ‘কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত নারীরা অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছেন। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। কর্মদক্ষতার দিক থেকে তারা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।’

শিল্প পুলিশের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে অধিকাংশ শ্রমিক নারী হওয়ায় শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলায় নারী পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের অবদান ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হতো।

শিল্প পুলিশ ইউনিট-৩, চট্টগ্রামে কর্মরত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, তার ১৬ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, বাহিনীর নারী সদস্যদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা তাকে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে নারী কর্মকর্তারা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের মতো উচ্চ পদে পৌঁছেছেন, যা আরও অধিক নারীকে পুলিশে যোগদানে উৎসাহিত করছে।

অপরাধ বিভাগে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মাহমুদা বলেন, ধর্ষণ বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা আমাদের কাছে এলে অনেক বেশি খোলামেলা কথা বলেন, কারণ তারা আমাদের অনুভূতি বোঝেন বলে মনে করেন।

তিনি জানান, অনেক নারী ও শিশু ভুক্তভোগী পুরুষ কর্মকর্তাদের সামনে তাদের ট্রমার অভিজ্ঞতা বলতে সংকোচবোধ করেন। নারী তদন্তকারী হিসেবে দ্রুত আস্থা অর্জন সম্ভব হয়, যা তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের মান উন্নত করে।

পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলছেন, আগের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমানে নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তার ভাষায়, ‘জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তারা নবীন সহকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিলে, তা পুরো বাহিনীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এখন বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া তরুণীরা জানেন, নিষ্ঠা ও পেশাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।’

শিল্প পুলিশে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহমুদা জানাচ্ছেন, নারী পোশাকশ্রমিকরা নারী কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং তিনি সবসময় তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।

তিনি জরুরি পরিস্থিতিতে বা পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে নারী শ্রমিকদের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার পরামর্শ দেন।

যদিও নারী সদস্যদের সংখ্যা ও দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবুও নেতৃত্ব, তদন্ত ও অপারেশনাল পুলিশিংয়ে সমান প্রতিনিধিত্ব অর্জনের পথ এখনও অনেক দূর বলে মনে করেন নারী কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশের পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নবিষয়ক ঢাকা বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশে ১৯৭৪ সালে প্রথম নারী সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় তাদের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক ও সীমিত পরিসরের ছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে নারীরা প্রাতিষ্ঠানিক নানা বাধা অতিক্রম করে আজ কনস্টেবল থেকে শুরু করে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), উপপরিদর্শক (এসআই), পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার (এসপি), উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত রয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীতে ১৭ হাজার ৯৭০ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যা মোট জনবলের ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।

নারী সদস্যরা বর্তমানে মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য সর্বনারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশংসা অর্জন করেছে।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

সংগঠনটির পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হলো— সব পর্যায়ে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদে উন্নীত করা, পেশাগত ও তদন্ত দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদার করা।

কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশিক্ষণ-২) মোছা. শাহালা পারভীন নারী কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় সাইবার অপরাধ তদন্ত, সাইবার সচেতনতা, মানসিক সুস্থতা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিং বিষয়ে কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন এবং তদন্তে জেন্ডার-সংবেদনশীল পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিপিডব্লিউএন ও ইউএন উইমেনের প্রশিক্ষণে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক তদন্ত, ট্রমা-সচেতন সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং নারী ও শিশুদের জন্য সমন্বিত সহায়তা সেবার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মহানগর পুলিশ ইউনিটে কর্মরত একজন নারী উপপরিদর্শক মন্তব্য করেন, নারী কর্মকর্তারা বড় ধরনের অপারেশন পরিচালনায় সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব বেড়েছে। তবে গোয়েন্দা কার্যক্রম, অপরাধ তদন্ত ও অপারেশনাল নেতৃত্বের সুযোগও বাড়াতে হবে। নারী কর্মকর্তারা বারবার প্রমাণ করেছেন যে আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে জটিল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।

ঢাকা বিভাগীয় কর্মশালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এনরিকো লরেনজোন বলেন, বিপিডব্লিউএনের কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন ইউনিটের ব্যবস্থাপক শ্রাবণা দত্ত নারী কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতার ঘাটতি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।

বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন কার্যক্রমে নারীদের ক্রমেই কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ তদন্ত জোরদার, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিং সম্প্রসারণ এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে বাহিনী ধীরে ধীরে তার কার্যক্রমে নতুন রূপ দিচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মোট সদস্যের মাত্র ৯ শতাংশের কিছু বেশি নারী হলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ নেতৃত্ব, উন্নয়ন সহযোগী এবং নারী কর্মকর্তারা মনে করেন, নিয়োগ বৃদ্ধি, নেতৃত্বের সুযোগ সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল দায়িত্ব বাড়ানো হলে কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নারীরা আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন।

বিপিডব্লিউএনের ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা আশা করছেন, তাদের অগ্রযাত্রার আগামী অধ্যায় শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং সমান সুযোগ, আরও শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং জনগণের বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করে এমন একটি আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে চিহ্নিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একসঙ্গে তিন বোন একই যুবককে বিয়ে করলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের অমরোহা জেলায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪০ এম


একসঙ্গে তিন বোন একই যুবককে বিয়ে করলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের অমরোহা জেলায়

আপন তিন বোনের একই যুবককে বিয়ে করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ১৭ জুলাই ভারতের উত্তরপ্রদেশের অমরোহা জেলায়, স্থানীয় একটি মন্দিরে হিন্দু রীতি মেনে ওই তিন বোন একসঙ্গে বিকাশ নামে ওই যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অমরোহার হাসানপুরের ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরোজ, সাবিত্রী ওSantosh দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিল ও ভিডিও তৈরি করতেন। বিকাশ তাদের ভিডিওর চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তিন বোনই বিবাহের সিদ্ধান্ত নেন।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, শাড়ি ও ঘোমটা পরা তিন বোন বরের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন। হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাশ তিনজনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত পাক ঘোরেন। অনুষ্ঠানে পুরোহিত ছাড়া উভয়পক্ষের কোনো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু উপস্থিত ছিলেন না।

তিন বোনের দাবি, ছোটবেলা থেকে সবসময় একসঙ্গে বড় হয়েছেন তারা। বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার চিন্তা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।

বড় বোন সরোজ জানান, একসময় তারা আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত নেন, আলাদা না হয়ে একজনকেই সবাই বিয়ে করবেন।

তাদের দাবি, তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে বিকাশ জানান, গত ছয় মাস ধরে তিনি তিন বোনের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও একসঙ্গে থাকার ইচ্ছাকে সম্মান দিয়েই তিনি বিয়েতে রাজি হয়েছেন।

তার ভাষায়, ওরা বারবার বলছিল, বিয়ের পর আলাদা থাকতে চায় না। আমি ওদের আবেগকে সম্মান দিয়েছি। আমাদের সিদ্ধান্ত পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই হয়েছে।

যদিও এই বিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, তবে এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী, বিয়ের সময় কোনো পক্ষের জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকলে নতুন করে বিয়ে বৈধ নয়। অর্থাৎ, হিন্দুদের ক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী বা একাধিক স্বামী— দুই ধরনের বহুবিবাহই আইনত স্বীকৃত নয়। ফলে এই বিয়ের আইনি মর্যাদা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সমালোচনার মুখে তিন বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনিতে একাধিক জীবনসঙ্গীর নজির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে রাজা দশরথের তিন রানির কথা উল্লেখ করে তারা প্রশ্ন তোলেন, ‘তখন কি সেটা অপমানজনক ছিল?’

তবে অনেকেই পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে বর্তমান আইনের তুলনা করা যায় না। সূত্র: আনন্দবাজার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে নিখোঁজ একজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


বান্দরবানে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে নিখোঁজ একজন

বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু বড় পাথর (রাজাপাথর) এলাকায় সাঙ্গু নদীতে একটি নৌকা ডুবির ঘটনার ফলে মো. জাওয়াদ উল ইসলাম (২৮) নামের এক পর্যটক নিখোঁজ হয়ে গেছেন।

এই দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে। রাত সাড়ে ৮টার সময় থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিখোঁজ ব্যক্তি মে. জাওয়াদ উল ইসলাম ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

জানা যাচ্ছে যে, শুক্রবার দুপুরে আলীকদম-থানচি সড়ক দিয়ে ২৩ কিলোমিটার এলাকা অতিক্রম করে ১৩ জন পর্যটক তিন্দু বাজারে পৌঁছান। পরে স্থানীয় গাইড গর্জেন ত্রিপুরা তাদের গ্রহণ করেন। বিকেলের দিকে, তিন্দু ঘাট থেকে দুটি নৌকায় করে তারা রেমাক্রির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। একটি নৌকায় ছয়জন এবং অন্যটিতে সাতজন পর্যটক ছিলেন। রেমাক্রির পথে তিন্দু বড় পাথর (রাজাপাথর) এলাকায় পৌঁছালে সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতে একটি নৌকা ডুবে যায়, যেখানে ছয়জন আরোহী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, জাওয়াদ নিখোঁজ হয়ে যান। তাকে উদ্ধার করতে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতি জে ওয়াই প্রু মারমা গণমাধ্যমে বলেছেন, পর্যটকরা আলীকদম-থানচি সড়ক ব্যবহার করে তিন্দুতে এসে গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা থানচি উপজেলা প্রশাসনের দ্বারা নির্ধারিত নিবন্ধন এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই রেমাক্রির উদ্দেশ্য রওনা হন। ফলস্বরূপ, নিখোঁজ পর্যটকের নাম-পরিচয়সহ তাদের কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পর্যটকরা থানচিতে এসে প্রশাসনিক নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন না করায় নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কপোতাক্ষে সাঁকো ভেসে গেছে, দুর্ভোগে অর্ধশত গ্রামের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


কপোতাক্ষে সাঁকো ভেসে গেছে, দুর্ভোগে অর্ধশত গ্রামের মানুষ

যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি জড়িত কপোতাক্ষ নদীর ওপরের কাঠের সাঁকোটি বৃষ্টির পানির প্রবাহের কারণে ভেসে গেছে। সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার ১২ দিন পরেও কর্তৃপক্ষ এখনও সাঁকোটি মেরামত করতে সক্ষম হয়নি। এর ফলে, দুই পাড়ের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক অসহায় মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে।

ভারি বর্ষণের ফলে নদীতে সৃষ্টি হওয়া প্রবল স্রোত এবং ওপরের পানির কারণে এই সাঁকোটি গত ১৩ জুলাই রাতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যশোরের কেশবপুর এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মধ্যে এটি ছিল একমাত্র সংযোগ। এই ঘটনায়, দুই পাড়ের প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা যায়, সাগরদাঁড়ি বাজারের মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালা উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য ২০১১ সালে স্থানীয় বাজার কমিটির উদ্যোগে কপোতাক্ষ নদীর দুই পাড়ের মানুষের কাছ থেকে বাঁশ ও অর্থ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই নদীর অপর পাড়ের শার্শা, সানতলা, কৃষ্ণনগর, পাঁচপাড়া, সেনেরগাতী, সাারুলিয়া, ধানদিয়া, জয়নগর এবং এ পাড়ের সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর, রেজাকাটিসহ দুই পাড়ের প্রায় ৫০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ওই সাঁকোটি ব্যবহার করে আসছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে নদীর অন্য পাড়ের মানুষ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজার এবং সওদাসহ সব কার্যক্রম সাগরদাঁড়ি বাজারে চালিয়ে আসছেন।

২০২৪ সালের শেষের দিকে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পরিবর্তে কাঠ দিয়ে নতুন সাঁকোটি নির্মাণ করেছিলেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকসহ শত শত মানুষ সাগরদাঁড়িতে আগমন করেন এবং তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই যাতায়াতের জন্য ওই সাঁকোটি ব্যবহার করেন।

সাঁকোর মাথার বাসিন্দা সাগরদাঁড়ি গ্রামের আকবর আলী জানান, ২০২৪ সালের শেষে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেলে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাঠ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১ লাখ টাকা ছিল সরকারি বরাদ্দ। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার ফলে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সাগরদাঁড়ি বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকসহ অনেক মানুষ সাগরদাঁড়িতে আসেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কপোতাক্ষ নদে নৌকা ভ্রমণ ও সাঁকো ব্যবহার করতেন। জরুরি ভিত্তিতে সাঁকোটি নতুন করে নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব রয়েছে। সরকারী অর্থ ছাড়া সাঁকোটি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস মন্তব্য করেছেন, সাঁকোটি ভাঙার কারণে সাতক্ষীরা জেলার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে প্রতিষ্ঠান আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সুভাষ দেবনাথ জানিয়েছেন, ওপারের গ্রামগুলোর অর্থনৈতিক ও ব্যবসার প্রতিষ্ঠান সাগরদাঁড়ি বাজার কেন্দ্রিক। সাঁকোটি ভাঙার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী এম এ জাসির বলেন, সাঁকোটি জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে এটি মেরামত হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণের প্রজেক্টে রয়েছে, কিন্তু এর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন উল্লেখ করেছেন, সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদীতে নির্মিত কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়লেও এই মুহূর্তে সংস্কার করা হচ্ছে না। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%