প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি জড়িত কপোতাক্ষ নদীর ওপরের কাঠের সাঁকোটি বৃষ্টির পানির প্রবাহের কারণে ভেসে গেছে। সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার ১২ দিন পরেও কর্তৃপক্ষ এখনও সাঁকোটি মেরামত করতে সক্ষম হয়নি। এর ফলে, দুই পাড়ের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক অসহায় মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে।
ভারি বর্ষণের ফলে নদীতে সৃষ্টি হওয়া প্রবল স্রোত এবং ওপরের পানির কারণে এই সাঁকোটি গত ১৩ জুলাই রাতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যশোরের কেশবপুর এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মধ্যে এটি ছিল একমাত্র সংযোগ। এই ঘটনায়, দুই পাড়ের প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা যায়, সাগরদাঁড়ি বাজারের মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালা উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য ২০১১ সালে স্থানীয় বাজার কমিটির উদ্যোগে কপোতাক্ষ নদীর দুই পাড়ের মানুষের কাছ থেকে বাঁশ ও অর্থ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই নদীর অপর পাড়ের শার্শা, সানতলা, কৃষ্ণনগর, পাঁচপাড়া, সেনেরগাতী, সাারুলিয়া, ধানদিয়া, জয়নগর এবং এ পাড়ের সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর, রেজাকাটিসহ দুই পাড়ের প্রায় ৫০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ওই সাঁকোটি ব্যবহার করে আসছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে নদীর অন্য পাড়ের মানুষ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজার এবং সওদাসহ সব কার্যক্রম সাগরদাঁড়ি বাজারে চালিয়ে আসছেন।
২০২৪ সালের শেষের দিকে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পরিবর্তে কাঠ দিয়ে নতুন সাঁকোটি নির্মাণ করেছিলেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকসহ শত শত মানুষ সাগরদাঁড়িতে আগমন করেন এবং তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই যাতায়াতের জন্য ওই সাঁকোটি ব্যবহার করেন।
সাঁকোর মাথার বাসিন্দা সাগরদাঁড়ি গ্রামের আকবর আলী জানান, ২০২৪ সালের শেষে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেলে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাঠ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১ লাখ টাকা ছিল সরকারি বরাদ্দ। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার ফলে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং সাগরদাঁড়ি বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকসহ অনেক মানুষ সাগরদাঁড়িতে আসেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কপোতাক্ষ নদে নৌকা ভ্রমণ ও সাঁকো ব্যবহার করতেন। জরুরি ভিত্তিতে সাঁকোটি নতুন করে নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব রয়েছে। সরকারী অর্থ ছাড়া সাঁকোটি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস মন্তব্য করেছেন, সাঁকোটি ভাঙার কারণে সাতক্ষীরা জেলার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে প্রতিষ্ঠান আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সুভাষ দেবনাথ জানিয়েছেন, ওপারের গ্রামগুলোর অর্থনৈতিক ও ব্যবসার প্রতিষ্ঠান সাগরদাঁড়ি বাজার কেন্দ্রিক। সাঁকোটি ভাঙার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী এম এ জাসির বলেন, সাঁকোটি জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে এটি মেরামত হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণের প্রজেক্টে রয়েছে, কিন্তু এর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন উল্লেখ করেছেন, সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদীতে নির্মিত কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়লেও এই মুহূর্তে সংস্কার করা হচ্ছে না। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন