বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ এম
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপালটি ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ফলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বরিশালে কর্মসূচির সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষের ফলে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে জানা যায়, পটুয়াখালীতে এদিন সকালে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌরশহরের পৌরমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্য সচিব আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের হয়। শহরের বটতলা মোড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপালটি ধাওয়া শুরু হয়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই সংঘর্ষ ২০ মিনিট ধরে চলেছিল এবং এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এ সময় নেতাকর্মীরা হাবিব হোটেলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। ঘটনার পর গলাচিপা পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গলাচিপার ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, "আমিও সংঘর্ষের কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাইনি।" তিনি বিস্তারিত জানার জন্য ওসির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। কিন্তু গলাচিপার ওসি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন যুগান্তরকে জানান, "আমি মির্জাগঞ্জের একটি কর্মসূচিতে আছি। গলাচিপার ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানি না।"
বরিশালে, দুপুরে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মূলত মিছিলের সামনে যাওয়া ও স্লোগান দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতারা ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, "সামান্য উত্তেজনা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তা নিরসন করা হয়েছে।"
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ): প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে শ্রীনগর জমজম টাওয়ারের সামনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপুর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ: মহানগরের মিশনপাড়ায় বিএনপির মিছিল বের হয়ে চাষাড়া সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছানোর পর নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাইয়ানের নেতৃত্বে এ সময় শাহীন আহম্মেদ নামে একজনকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): দুপুরে কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে পাঁচ পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামোর দিকে ড্রোন এবং মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছিল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ভূখণ্ডে হামলা করে। কয়েক ঘণ্টা পর তেহরান পালটা হামলা শুরু করে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোন আসার খবর দিয়েছে। তারা বলেছে, যদি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, তবে এটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ড্রোন ভূপাতিত করার শব্দ হবে। তবে নিরাপত্তার কারণে সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে আইআরজিসি দাবি করেছে যে, তারা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্য করে একটি ‘ভারি’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, এই হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। কারিগরি অবকাঠামোর কিছু অংশে আগুন ধরে গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষতির বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে। এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে আইআরজিসি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল। তাদের দাবি, ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ক্যাম্পটির বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, এই হামলা হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবে করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করে।
অন্যদিকে, বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং যেসব স্থানে মার্কিন সেনারা জড়ো হয়েছে, সেগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে।
ইরাকেও মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানোর খবর দিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে বেশ কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাই মাসের পর রোববার রাতে প্রথমবার দুই দেশের সরাসরি পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার জবাবে ইরান যদি পালটা আঘাত হানে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ছয়টি জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, এসব অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাসও প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে জানানো হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এসব অঞ্চলের নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহে বিদ্যুতের লাইন মেরামত করতে গিয়ে মা ও ছেলেসহ তিনজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনার সময় তাদের রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন দাদি বুলি বেগম।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কাছে পুরাতন রেললাইন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রেললাইন এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রাজু (১৪) এবং তার স্ত্রী লাকী আক্তার (৪০)।
স্থানীয়দের মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বসতঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগে সমস্যা দেখা দেয়। রাজু নিজে তা মেরামত করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ছেলেকে বাঁচাতে মা লাকী আক্তার এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাদের বিপদে দেখে দাদি বুলি বেগম সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন, ফলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাজু ও লাকী আক্তারের মৃত্যু হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় বুলি বেগমকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং এ দুর্ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকালে জেলার মেলান্দহের কোনামালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসার ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ ইসলাম তায়েফের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলান্দহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম। ওই শিক্ষার্থী বিকালে মাদ্রাসা ঘরের টিনের চালে উঠলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। নিহত জুনায়েদ মেলান্দহ থানার হাজরাবাড়ী এলাকার সোলাইমান হোসেনের ছেলে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নন্দনে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, দেব, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, যিশু সেনগুপ্ত-সহ উত্তমকুমারের পরিবারের সদস্যরা।
উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে ইন্ডাস্ট্রিতে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, দেব, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, যিশু সেনগুপ্ত-সহ উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যরা। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে একাধিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠান চার দিন ব্যাপী চলবে।
কীভাবে এই অনুষ্ঠানগুলি আরও সুন্দর ও স্মরণীয় করে সাজানো যায়, সে বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রির অনেকের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। আনন্দবাজার ডট কমকে এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “কলকাতা শহরের নানা জায়গায় উত্তমকুমারের ছবি দিয়ে সাজানো হবে। ৩ সেপ্টেম্বর সকাল আটটায় আহিরিটোলায় উত্তমকুমারের মূর্তির সামনে শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করা হবে।”
রবীন্দ্র সদন চত্বরও সাজানো থাকবে। বৃহস্পতিবার সকাল ন’টায় টালিগঞ্জে উত্তমকুমারের মূর্তির সামনে মালা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রূপা। তিনি বলেন, “সকাল ন’টায় টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে মালা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ ছাড়াও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু, আবীর চট্টোপাধ্যায়, দেব-সহ ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।”
বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্টদের ছবি: সংগৃহীত।
উত্তমের ছবি দিয়ে তৈরি একটি কাটআউট তৈরি হচ্ছে, যা বিজলী সিনেমা হলের সামনে উদ্বোধন করা হবে। এই কাটআউট সকাল ১০টায় উদ্বোধন করবেন সন্দীপ রায়।
৩ সেপ্টেম্বর সারা দিন জুড়ে নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায়ও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান রূপা। তিনি বলেন, “সন্ধ্যা ৬টা থেকে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ইন্ডাস্ট্রির মানুষ তো থাকবেনই, তাঁরা ছাড়াও উত্তমকুমারের সঙ্গে কাজ করেছেন যে অভিনেতা, অভিনেত্রী, টেকনিশিয়ান, তাঁরাও আসবেন। সেই সময়ের সাংবাদিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এই দিন।” শোভাযাত্রাটি সমগ্র নন্দন চত্বর এবং রবীন্দ্র সদন মেট্রো-সংলগ্ন এলাকা পরিক্রমা করবে। এই শোভাযাত্রায় যোগ দেবেন লোকশিল্পীরাও এবং উত্তমকুমারের ছবি দিয়ে তৈরি টিশার্ট পরে অনেকেই অংশগ্রহণ করবেন।
সন্ধ্যা ৭টায় গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায় আয়োজিত হবে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকতে পারেন।
সাতটা পনেরো মিনিটে একতারা মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কেক কাটা এবং পায়েস খেয়ে উদ্যাপন করা হবে। এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন যিশু সেনগুপ্ত।
উত্তমকুমারকে শ্রদ্ধা জানাতে বেশ কয়েকটি ট্যাবলয়েড গাড়িও বানানো হয়েছে, যা সারা শহর জুড়ে ঘুরবে। উত্তমকুমারের নানা ছবির দৃশ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে সেই অভিনব গাড়ি।
উত্তম চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘নায়ক’। ছবি: সংগৃহীত।
শুধু ৩ সেপ্টেম্বরই নয়, ৪ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ শুক্রবারও বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। সিনিয়র টেকনিশিয়ানদের শ্রদ্ধা জানানো হবে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে এগারোটায় উত্তমকুমারের নামাঙ্কিত প্রস্তাবিত চলচ্চিত্র কেন্দ্রের উদ্বোধন হবে। এই অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রঞ্জিত মল্লিক, মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন।
বিকেল চারটেয় উত্তমকে নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা হবে। উদ্বোধনী ছবি ‘নায়ক’। রূপা জানান, নন্দন, রাধা স্টুডিও-সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে উত্তমের আরও বেশ কিছু ছবিও দেখানো হবে। কী কী ছবি দেখানো হবে, সেই তালিকা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে বলেও মঙ্গলবার জানান রূপা।
বিকেল পাঁচটায় ইন্ডিয়া পোস্টের তরফ থেকে রয়েছে একটি বিশেষ উদ্যোগ। তারা উত্তমকুমারকে নিয়ে তৈরি স্ট্যাম্প প্রকাশ্যে আনবে। রবীন্দ্র সদনের এই অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হবে মাধবী মুখোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তী, রঞ্জিত মল্লিক, প্রভাত রায়, দীপঙ্কর দে-সহ বর্ষীয়ান অভিনেতা অভিনেত্রীরা। শ্রদ্ধা জানাবেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও পূর্ণিমা চক্রবর্তী। পরে তাঁরা একটি আলচনাসভায় যোগ দেবেন।
সন্ধ্যা ৭টায় রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে মহানায়ককে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘মহানায়ক: আ সুপারস্টার জার্নি’ প্রদর্শিত হবে। ছবিটি তৈরি করেছেন স্বপন দাস।
উত্তম কুমারকে ইন্ডাস্ট্রির শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। ছবি: সংগৃহীত।
পাঁচই সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে চারটেয় একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। বিষয়— ‘নায়িকার চোখে উত্তম কুমার’। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন, অভিনেত্রী মমতাশঙ্কর, গার্গী রায়চৌধুরী, ইশা সাহা, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পৌলমী বসু, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাওলি দাম। অনুষ্ঠান এগিয়ে নিয়ে যাবেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।
এরপর বিকেল সাড়ে ছটায় পরের সেমিনারের বিষয় ‘অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার’। এই অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, ঋত্বিক চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, কুশল চক্রবর্তী এবং শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। এই অনুষ্ঠান সংযোজন করবেন পরিচালক অতনু ঘোষ।
সঙ্গীতের মাধ্যমে উত্তমকুমারকে শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন রয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান সৃজনে রয়েছেন দেবজ্যোতি মিশ্র ও ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ