প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপালটি ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ফলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বরিশালে কর্মসূচির সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষের ফলে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে জানা যায়, পটুয়াখালীতে এদিন সকালে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌরশহরের পৌরমঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা ও সদস্য সচিব আলতাব হোসেনের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের হয়। শহরের বটতলা মোড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপালটি ধাওয়া শুরু হয়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই সংঘর্ষ ২০ মিনিট ধরে চলেছিল এবং এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এ সময় নেতাকর্মীরা হাবিব হোটেলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। ঘটনার পর গলাচিপা পৌরশহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গলাচিপার ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, "আমিও সংঘর্ষের কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাইনি।" তিনি বিস্তারিত জানার জন্য ওসির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। কিন্তু গলাচিপার ওসি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন যুগান্তরকে জানান, "আমি মির্জাগঞ্জের একটি কর্মসূচিতে আছি। গলাচিপার ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানি না।"
বরিশালে, দুপুরে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মূলত মিছিলের সামনে যাওয়া ও স্লোগান দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে জ্যেষ্ঠ নেতারা ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, "সামান্য উত্তেজনা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তা নিরসন করা হয়েছে।"
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ): প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ঘিরে শ্রীনগর জমজম টাওয়ারের সামনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপুর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ: মহানগরের মিশনপাড়ায় বিএনপির মিছিল বের হয়ে চাষাড়া সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছানোর পর নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাইয়ানের নেতৃত্বে এ সময় শাহীন আহম্মেদ নামে একজনকে মারধর করতে দেখা যায়। পরে মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): দুপুরে কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে পাঁচ পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন