বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০১ পি.এম
আকিজ বশির গ্রুপ কর্তৃক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: এক্সিকিউটিভ
বিভাগ: ব্র্যান্ড, মার্কেটিং
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর বা এমবিএ
অন্যান্য যোগ্যতা হিসেবে ব্র্যান্ড মার্কেটিং ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে দক্ষতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কমপক্ষে ১ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: ২৪ থেকে ৩২ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা (বনানী)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড, ভ্রমণ ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মোবাইল বিল, গ্র্যাচুইটি, দুপুরের খাবার সুবিধা, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট, বছরে ২টি উৎসব বোনাস, এবং ছুটির যাতায়াত ভাতা।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (বেরোবিসাস) উদ্যোগে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গ্যালারি রুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তাবিউর রহমান প্রধান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক ইউসুফ আলী, জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক এহতেরামুল হক এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন উপলক্ষে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, "আসলে একজন সাংবাদিক হতে গেলে কী কী দরকার বা কাকে সাংবাদিক বলব, তার অবশ্যই একটি মাপকাঠি থাকা দরকার। সাংবাদিক সমিতি যে আয়োজন করেছে, এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী মন্তব্য করেন, "যদি তুমি সাংবাদিক হও তাহলে তোমাকে চিন্তা করতে হবে তুমি এ পথের জন্য উপযুক্ত কিনা। এ পথে কি মেসেজ দিয়ে জাতিকে আমি সমৃদ্ধ করতে পারি। জাতির নিকট আমি আমার দায়বদ্ধতার জায়গাটা থেকে দেখাতে পারি এটা আমার দায়িত্ব কর্তব্য জাতিকে জানানোর।"
এছাড়াও তিনি তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তাবিউর রহমান প্রধান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক ইউসুফ আলী, জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক এহতেরামুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর প্রশিক্ষণের প্রথম ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাসটি পরিচালনা করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। তিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের রেজিস্ট্রেশন এখনো চলছে। এতে শুদ্ধ উচ্চারণ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, কলাম রাইটিং, লাইভ রিপোর্টিং, নিউজ লেখা সহ বিভিন্ন বিষয় শেখানো হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার শিশু মো. রায়হানকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর একটি চক্র তার পা কেটে দিয়েছে বলে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য এবং ঘটনার অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এর সঙ্গে কোনো ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, রায়হানের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে, যা ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ঘটেছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১ জুন ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গোসল করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ফেরার পথে রায়হান ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর রায়হানকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ জুলাই রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তার একটি পা কেটে ফেলা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। পরে মাথায় আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা রেলওয়ে থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রায়হান কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে থাকার সময় আল আমিন নামে এক যুবকের সঙ্গে লভ্যাংশের বিনিময়ে পানি বিক্রি করত। পাশাপাশি সে ভিক্ষাবৃত্তিও করত।
ওই কর্মকর্তা জানান, অস্ত্রোপচারের পর রায়হানকে প্রায় দেড় মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। এ সময় তার পরিচর্যার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একজন আয়াকে দেওয়া হয়। আরেছা নামের ওই আয়াই প্রায় দেড় মাস শিশুটির দেখাশোনা করেন।
পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রায়হান কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের জরিনা নামের এক নারীর কাছে আশ্রয় নেয়। স্টেশনে তাকে সবাই ‘মালির মা’ নামে চিনতেন। সেখান থেকেই রায়হান ভিক্ষা করত।
পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে রায়হান তাদের জানায়, তার মা মারা গেছেন এবং সে বাড়ি যেতে চায়। পরে তার বন্ধু জাকির তাকে যাত্রাবাড়ীতে নিয়ে যায় এবং একটি বাসে তুলে দেয়।
রায়হানকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশের কনস্টেবল রিয়াজুল করিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। একইভাবে স্টেশনের মিনা নামের এক নারীও শিশুটির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে দাবি তার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর রায়হানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে হাসপাতালের মেঝেতে বসে রায়হানকে বলতে শোনা যায়, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে সে আহত হয়েছে। একই ভিডিওতে সে জানায়, তার মা-বাবা নেই। তার মাথা ও পেটে আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়।
রায়হান চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার নাজিম উদ্দীনের ছেলে। ১২ বছর বয়সী রায়হান একটি হেফজখানায় পড়াশোনা করত। প্রায় সাত মাস আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরে চুনতি এলাকার একটি মাহফিলে স্থানীয় বাসিন্দারা রায়হানকে দেখতে পান। পরে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে সেখানে গিয়ে শিশুটিকে শনাক্ত করেন তার বাবা।
রায়হানের বাবা পেশায় দিনমজুর। তার মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়েছে এবং বর্তমানে দুজনের আলাদা সংসার রয়েছে। বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার আগে রায়হান তার সৎমায়ের সঙ্গে থাকত।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার আগেই রায়হানের ডান পা ছিল না। শরীরের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের চিহ্ন দেখা যায়। এরপরই তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে রাজধানীর কোনো একটি চক্র তার পা কেটে দিয়েছে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পুলিশের দেওয়া ঘটনাক্রমে দেখা যাচ্ছে, রায়হান ১১ জুন ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং ২ জুলাই চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার একটি পা কেটে ফেলা হয়।
এসব তথ্যের বিষয়ে জানতে রায়হান ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। বর্তমানে তারা হাসপাতালে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। শিক্ষার অধিকার, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা এবং সেই আন্দোলনে ছাত্রদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিবছর বাংলাদেশে দিনটি মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।
পাকিস্তান সরকার ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষাসচিব এস এম শরীফকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। পরবর্তী বছর ২৬ আগস্ট কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিভিন্ন সুপারিশ পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
শরীফ কমিশনের প্রতিবেদনে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে অবাস্তব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা দেওয়ার বিরোধিতা করা হয় এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা এসব প্রস্তাবকে শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত করা এবং বৈষম্য বৃদ্ধি করার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
১৯৬২ সালের আগস্ট মাস থেকে এসব সুপারিশের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হতে শুরু করে। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পিকেটিং ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে যোগ দেন।
আন্দোলন দমাতে পুলিশ গুলি চালালে নবকুমার হাইস্কুলের ছাত্র বাবুল নিহত হন। গুলিতে আহত হন বাসের কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ। পরে ওয়াজিউল্লাহও মারা যান।
প্রাণহানির ঘটনার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয়। পরে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত হলে ধীরে ধীরে আন্দোলনের তীব্রতা কমে আসে।
শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলন এবং এতে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃন্ময় চক্রবর্তীকে মারধর, গালিগালাজ ও ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি প্রদান করে ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীরা।
এ ঘটনা ঘটে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে।
মৃন্ময় চক্রবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড এক্সটেনশন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানার সময় ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীরা মৃন্ময়ের মাথায় চাপ দিয়ে ধরে শরীরে আঘাত করে এবং গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। পরে কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রেখে প্রচুর গালিগালাজ ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেয়।
মৃন্ময় চক্রবর্তী বলেন, বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী আসার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামার কথা থাকলেও তা থামেনি। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য চেইন টানতে গেলে টিটি ও তার সহযোগীরা পিছন থেকে তার মাথার চাপ দিয়ে ধরে শরীরে আঘাত করে এবং গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। এরপর কন্ট্রোলরুমে নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে রাখে।
তিনি আরও বলেন, এ সময় তারা তাকে প্রচুর গালিগালাজ করে এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেয়। তারা আরও বলে যে তার পড়ালেখা কীভাবে হয়, সেসব দেখবে। তার নামে মামলা হবে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু ট্রেনের টিটি বলে ভিসি, প্রক্টর, আম্মার এসে তারপর নিয়ে যাবে। এরপর ওসি স্যার আসেন এবং তিনি চেষ্টা করেন যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। কিন্তু ট্রেনের লোকজন বলে, আম্মার এসে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে নিয়ে যেতে হবে।
মৃন্ময় আরও জানান, পরবর্তীতে রাকসু প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলাম সাঈমকে জানালে তিনি এজিএস সালমান সাব্বির ভাইকে জানান এবং সালমান সাব্বির ভাই প্রশাসনের সাথে কথা বলে তাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
তিনি বলেন, তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। মৃন্ময়ের ভাই ট্রেন থামার বিষয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যে, তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে থামবে। তাহলে কেন আজকে থামলো না এবং কেন তাকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হলো? তার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চান তিনি।
এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তারা রাজশাহী আসার সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হন। প্রথমে তারা আন্দাজ করতে না পারলেও পরে বুঝতে পারেন এটি ট্রেনের টিটি ও তার সহযোগীদের পরিকল্পিত ছিল। দুই তিন দিন আগে তারা দেখেছেন যে সাগরদাঁড়ি ট্রেন স্টেশন বাজারে থামছে। আজকে ট্রেন প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা লেট ছিল এবং বাইরে বৃষ্টিও হচ্ছিল। তারা বেশ কয়েকজন ছিলেন। চেইন টানার পরে যখন টিটি তাদের ধরে, তখন তারা সারেন্ডার করেন যে তারা ভুল করছেন। একটি অন্যায় তাদের হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, তখন তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে গায়ে হাত দেয়। তাদের কথা ছিল যে তাদের ভুল হয়েছে, রেলের যে আইন আছে, সে অনুযায়ী চেইন টানলে ২০০ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে অন্যান্য শাস্তি। তাদের তো সেই শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে। কিন্তু কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে তারা শিক্ষা নিয়ে বাজে কথা বলবে? এই জাতীয় কথা বলা, গায়ে হাত তোলা, হুমকি দেওয়া এগুলো খুবই জঘন্য কাজ।
এর আগে, গত ২১ জুলাই রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে টিটি মারধর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাকসু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমঝোতা করা হয়। এ সময় রাকসু ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রাথমিকভাবে পদ্মা এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ