০৬:২১ পি.এম
নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রী ও মালবাহী ফেরি মাঝনদী থেকে ঘুরিয়ে আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে চলাচলকারী ফেরি ‘মহানন্দা’য় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেরিটির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।
অভিযোগ উঠেছে, সংসদ সদস্যকে বহন করতেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছেড়ে যাওয়া ফেরি ‘মহানন্দা’ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৩টায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে চেয়ারম্যানঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ফেরি ‘মহানন্দা’। প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর হঠাৎ ফেরিটি মাঝনদী থেকে ঘুরে আবার চেয়ারম্যানঘাটে ফিরে আসে। পরে সেখানে অপেক্ষমাণ সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। এরপর ফেরিটি পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, ফেরি ছাড়ার আগে সময় নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। পরে নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যায়। কিন্তু প্রায় ২৩ মিনিট পর আবার ঘাটে ফিরে আসে। পরে জানতে পারি, এমপি হান্নান মাসউদকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফেরিটি ফিরেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, ফেরি মাঝনদী থেকে হঠাৎ ফিরে আসায় তারা বিস্মিত হয়ে যান। পরে তারা দেখতে পান, এমপি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফেরিতে উঠছেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে সময়ও নষ্ট হয়েছে। একজন ভিআইপির জন্য শত শত যাত্রীকে অপেক্ষা করানো কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
ঘটনার পর রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, সরকারি কাজের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যানঘাটে পৌঁছানোর সময় ফেরিটি প্রায় দুই মিনিট আগে ছেড়ে যায়। তবে তখনও ফেরিটি ঘাট এলাকা থেকে খুব বেশি দূরে যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ফেরিটিকে ঘাটে ফিরিয়ে এনে তাকে উঠিয়ে নেয়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
তিনি আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি ছাড়া অন্য সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প কোনো যাতায়াতের সুযোগ ছিল না। এ অবস্থায় ফেরি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।
এমপি দাবি করেন, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ আগেই ফেরির মাস্টারকে ফোন দিয়ে তার আসার বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে ফেরির পূর্ববর্তী মাস্টার সম্প্রতি অন্যত্র বদলি হওয়ায় নতুন মাস্টারের মোবাইল নম্বর এমপির কাছে ছিল না। ফলে নির্ধারিত সময়েই ফেরি ঘাট ছেড়ে যায়। ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এমপি ঘাটে পৌঁছান। ওই সময় তিনি ঘটনার স্থানে ছিলেন। এমপির অনুরোধে ঘাট ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে ফেরির মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে এনে এমপিকে ওঠার ব্যবস্থা করেন।
সাজ্জাদুল ইসলাম আরও বলেন, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স ও ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরবর্তীতে আর কোনো নৌযান চলাচল করছিল না।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
অন্যদিকে ফেরির মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে জানতে পারি, ঘাটে এমপি এসেছেন। এরপর ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হই।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রা শুরু করা একটি ফেরিকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা যাত্রীসেবার নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বৈরী আবহাওয়া, বিকল্প নৌযান না থাকা এবং বিদ্যমান প্রটোকল বিবেচনায় ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন