ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরায়েলকে টার্গেট করাই ছিল দুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের আসল লক্ষ্য


ইসরায়েলকে টার্গেট করাই ছিল দুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের আসল লক্ষ্য

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টার পেছনে ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার এবং ঘটনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়োজাহাজে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে। সন্দেহভাজন হামাম আল-হামামি ওই উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট ছিলেন। তিনি প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার দিয়ে হামলা করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন, এমনটি জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি।

তবে পাইলট এবং কয়েকজন যাত্রী মিলে তাকে আটকাতে সক্ষম হন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে সক্ষম হন। ফলে ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা এবং সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েল নিয়মিত তথ্য পাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই সন্দেহভাজনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজ প্রথমে জানায়, তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরই ছিনতাইয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে একটি প্রশ্নও উঠেছে। যদি আল-হামামির লক্ষ্য ইসরায়েলের কোনো বিমানবন্দর হয়ে থাকে, তাহলে সৌদি আরবের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় তিনি কেন প্রধান পাইলটকে হামলা করেছিলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ছিনতাইয়ের সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দেশটির নিয়মিত জরুরি ব্যবস্থার অংশ, যখন বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন আল-হামামি সম্ভবত একাই এই হামলার চেষ্টা করেছিলেন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েল এমন কোনো তথ্য পায়নি, যা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন বা হামলা সংগঠনের যোগসূত্র নির্দেশ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, দুই দেশের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পার হয়ে কীভাবে আল-হামামি উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন।

সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আল-হামামি এর আগে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় পাইলট হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তবে তার উগ্র মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তাকে পাইলটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক কাজে স্থানান্তর করা হয়, এমনটি একটি সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছে না।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার, বিমান সংস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর থাকে। পাইলটের লাইসেন্স ও নিরাপত্তা অনুমতিপত্র সাধারণত জাতীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং দেশভেদে এ সংক্রান্ত নিয়ম আলাদা।

ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ছাড়ার আগেই সব যাত্রী ও ক্রুর নাম ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল। তবে ক্রু সদস্যদের যাচাইয়ের বিষয়ে প্রশ্ন পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাও এ বিষয়ে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় উড়োজাহাজের ক্রুদের নাম যাচাই করা হয় না। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য এসব নাম ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সব ক্রু সদস্যের ইসরায়েলে প্রবেশের জন্য ভ্রমণ অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক। ওমানের পাসপোর্ট নিয়ে থাকা ব্যক্তির পরিচয় বিমানবন্দরে যাচাইয়ের সময় সতর্ক সংকেত দেওয়ার কথা ছিল। তবে তাদের নিয়মিত নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো পাইলটের কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবিলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন: লাইভ সম্প্রচারে প্রার্থনার সময় ক্রুশ পড়ে যাজক পাত্রিসিও আলফ্রেডো সানচেজ মোলিনারির মৃত্যু

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মায়ের পেটে শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


মায়ের পেটে শিশুর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকদের অসাধারণ সাফল্য

চীন ও হংকংয়ের চিকিৎসকরা মায়ের পেট থেকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অস্ত্রোপচার করে একটি অনাগত শিশুর জীবন রক্ষা করেছেন। গর্ভে থাকা শিশুটির বুকে দ্রুত বেড়ে ওঠা টিউমারের চিকিৎসায় সফলভাবে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

শেনজেনের বাওয়ান ওমেনস অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ জটিল অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের ২০ আগস্ট ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনিকোলজি’ জার্নালে।

চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের সময় ৪০ বছর বয়সী এক নারী উপস্থিত ছিলেন, যিনি ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরীক্ষায় তার গর্ভে থাকা শিশুর মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন (সিপিএএম) শনাক্ত করা হয়।

এটি একটি বিরল জন্মগত সমস্যা, যেখানে ভ্রূণের ফুসফুসের স্বাভাবিক টিস্যুর পরিবর্তে অসংখ্য ছোট সিস্ট বা তরলপূর্ণ থলি তৈরি হয়। দ্রুত বৃদ্ধি পেলে, এ ধরনের টিউমার ভ্রূণের হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে হার্ট ফেইলিওর এবং শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।

স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা যায়, শিশুটির বুকের ডান পাশে প্রায় পুরো অংশজুড়ে ৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি টিউমার রয়েছে। এই টিউমারের চাপে শিশুটির হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে শিশুটির পেটে বিপজ্জনক মাত্রায় তরল জমে অ্যাসাইটিস দেখা দেয়।

সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে বড় তরলপূর্ণ সিস্ট খালি করা কিংবা টিউমারের প্রধান রক্ত সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই শিশুর টিউমারটি ছিল অসংখ্য ক্ষুদ্র সিস্টে গঠিত এবং এর কেন্দ্রে কোনো বড় রক্তনালী ছিল না। ফলে প্রচলিত পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কম।

এ অবস্থায় চিকিৎসকরা অভিনব একটি পদ্ধতি বেছে নেন। হাই-ডেফিনিশন ও রিয়েল-টাইম আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে টিউমারে পৌঁছানোর নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা হয়। এরপর মায়ের পেট, জরায়ুর দেয়াল এবং ভ্রূণের বুকের দেয়াল ভেদ করে একটি সূক্ষ্ম অ্যাবলেশন নিডল সরাসরি টিউমারের কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়।

এরপর মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে টিউমারের ভেতরের পানির অণুগুলোকে দ্রুত উত্তপ্ত করে টিস্যু ধ্বংস করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে মাত্র দুই মিনিট।

অস্ত্রোপচারের পুরো সময় আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে টিউমারের ছড়িয়ে পড়া তাপের মাত্রা ও পরিসর পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসকরা, যাতে অনাগত শিশুর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন দিন পর সুফল দেখা যায়। টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং নতুন করে তরল জমাও বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত সফলভাবে গর্ভধারণের পর ওই নারী সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ২ দশমিক ৯ কেজি। নবজাতকের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের অ্যাপগার স্কেলে শিশুটি পায় পূর্ণ ১০ নম্বর।

চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জন্মের চার মাস পরেও শিশুটির শরীরে টিউমার পুনরায় বেড়ে ওঠার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

চিকিৎসকদের এই সাফল্য গর্ভে থাকা শিশুর জটিল জন্মগত রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংকট, ৮ হাজার মিটার নষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


নেত্রকোনায় পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংকট, ৮ হাজার মিটার নষ্ট

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংকট দুই বছর ধরে চলমান রয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার মিটার নষ্ট অবস্থায় থাকায় গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। নষ্ট মিটার সময়মতো পরিবর্তন না হওয়ায় অনেক গ্রাহককে গড় বিলের আওতায় রাখা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া জোনাল অফিসের সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক, সেচ ও শিল্প খাতে উপজেলায় গ্রাহকের সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। প্রায় দুই বছর আগে থেকে মিটারের সংকট শুরু হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সময়ের সঙ্গে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গত বছর নষ্ট মিটারের সংখ্যা ছিল ৬ হাজারের বেশি, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে।

কেন্দুয়া সাউধপাড়া এলাকার গ্রাহক নয়ন মিয়া অভিযোগ করেছেন, মিটার নষ্ট হওয়ার পর পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিকার মিলছে না। প্রতি মাসে গড় হিসাবের ভিত্তিতে বিল তৈরি করা হচ্ছে। কিছু মাসে আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। একদিকে বাড়তি বিলের চাপ, অন্যদিকে মিটার পরিবর্তনের জন্য মাসের পর মাস বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে তাঁদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রাহক জানিয়েছেন, মিটার নষ্ট হওয়ার পর অফিসে যোগাযোগ করলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য নিয়ে গড় বিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই হিসাবেই মাসিক বিল তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন মিটার পরিবর্তন না হওয়ায় গড় বিল ব্যবস্থাই এখন অনেকের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ নিয়ে প্রতিদিনই বিদ্যুৎ অফিসে এসে অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকেরা। অতিরিক্ত বিল নিয়ে কিছু গ্রাহকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। গ্রাহকদের দাবি, দ্রুততম সময়ে নষ্ট মিটার পরিবর্তন করে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ করা হোক।

কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেছেন, মিটার সরবরাহ পাওয়ার পর জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় সেচ ও শিল্প গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়ে মিটার পরিবর্তন করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগির এ পরিস্থিতির অবসান হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট পেতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট পেতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা প্রকাশ

বাংলাদেশে আয়কর সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রমে টিআইএন বা টিন নম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন আর্থিক কাজে। এই সার্টিফিকেট অনলাইনে ঘরে বসেই তৈরি করা সম্ভব। তবে করদাতার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ও ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে আয়কর সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসার জন্য টিন করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যা লাগবে

যদি করদাতা প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে অনলাইনে ই-টিআইএন করার জন্য প্রয়োজন হবে- করদাতার নাম, বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মতারিখ।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য

অপ্রাপ্তবয়স্ক করদাতার জন্য ই-টিআইএন করতে প্রয়োজন হবে- করদাতার নাম, অভিভাবকের নাম, অভিভাবকের টিআইএন নম্বর এবং করদাতার পাসপোর্ট সাইজের ছবির সফট কপি।

প্রবাসীদের জন্য

যদি প্রবাসী বাংলাদেশি কেউ টিন সার্টিফিকেট করতে চান, তাহলে প্রয়োজন হবে পাসপোর্ট নম্বর, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, ভিসা নম্বর, ভিসা ইস্যুর তারিখ এবং করদাতার পাসপোর্ট সাইজের ছবির সফট কপি।

টিআইএন বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর একটি ইউনিক নম্বর, যা করদাতার পরিচিতি হিসেবে কাজ করে। এটি আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র কেনা, ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়া ইত্যাদির ক্ষেত্রেও টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হতে পারে।

টিন সার্টিফিকেটে ভুল হলে কী করবেন

টিন সার্টিফিকেট করার সময় নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য ভুল হতে পারে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধনের আবেদন করা সম্ভব। সাধারণত এ সংশোধনের জন্য কোনো ফি লাগে না।

যেভাবে টিনের তথ্য সংশোধন করবেন

১. প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-টিআইএন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। যদি আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে লগইন করতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে।

২. ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

৩. নাম, ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

৪. নিবন্ধন শেষ হলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে পোর্টালে লগইন করতে হবে।

৫. লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘টিন ইনফরমেশন’ বা ‘আপডেট টিন ইনফরমেশন’ অপশনে যেতে হবে।

৬. সেখানে টিন সার্টিফিকেটে থাকা তথ্য দেখা যাবে। যে তথ্য সংশোধন করতে চান, তার পাশে থাকা ‘এডিট’ বা ‘আপডেট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

৭. এরপর সঠিক তথ্য দিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।

৮. প্রয়োজনে সংশোধনের কারণ উল্লেখ করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনের পক্ষে প্রমাণপত্রও আপলোড করতে হতে পারে, যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ বা অন্য কোনো সরকারি নথি।

৯. সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আবেদনপত্র যাচাই করে ‘সাবমিট’ বা ‘আপডেট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর রিসিট ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলে ঘরে বসেই অনলাইনে টিন সার্টিফিকেটের তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মারা গেছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক জিম বাকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


মারা গেছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক জিম বাকার

যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান ধর্মীয় টেলিভিশন উপস্থাপক জিম বাকার মারা গেছেন। একসময় তিনি বিশাল জনপ্রিয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও একটি বৃহৎ ধর্মীয় সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, কিন্তু পরে যৌন কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অপরাধের কারণে সবকিছু হারান। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৮৬ বছর।

জিম বাকার সোমবার (৫ অক্টোবর) মারা যান। তার দ্বিতীয় স্ত্রী লরি বাকার এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তবে, তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

লরি বাকার বলেন, "জিম ছিলেন খ্রিষ্টান টেলিভিশনের পথিকৃৎ।" তবে, তার কাছে জিম ছিলেন স্বামী, সবচেয়ে ভালো বন্ধু এবং জীবনের নানা সময়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী।

জিম বাকারের দ্বিতীয় স্ত্রী লরির সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ব্র্যানসন শহরের কাছে বসবাস করতেন। ২০০৩ সালে শুরু হওয়া ‘দ্য জিম বাকার শো’ সেখান থেকেই ধারণ করা হতো। ২০২০ সালে জিম বাকারের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত পক্ষাঘাত হয়েছিল।

জিম বাকারের সবচেয়ে বড় খ্যাতি আসে তার প্রথম স্ত্রী ট্যামি ফেই বাকারের সঙ্গে পরিচালিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘দ্য পিটিএল ক্লাব’ থেকে। অনুষ্ঠানটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে একসময় প্রতিদিন রাতে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ দর্শক এটি দেখতেন।

১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বড় হয়। তাদের উদ্যোগের মধ্যে ছিল টেলিভিশন অনুষ্ঠান, দক্ষিণ ক্যারোলিনার ফোর্ট মিলের একটি ধর্মভিত্তিক বিনোদন পার্ক ও হোটেল।

তবে বিপুল সাফল্যের পর যৌন কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অপরাধের ঘটনায় বাকারের সাম্রাজ্যে ধস নামে। তিনি সবকিছু হারান এবং ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন।

জিম বাকারের জন্ম মিশিগানের মাসকিগনে। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসের নর্থ সেন্ট্রাল বাইবেল কলেজে পড়ার সময় ট্যামি ফেইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৬১ সালে তাদের বিয়ে হয়।

পরে দুজনেই পড়াশোনা ছেড়ে নিজেদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড শুরু করেন। জিম ধর্মীয় বক্তব্য দিতেন আর ট্যামি ফেই গান গাইতেন ও অ্যাকর্ডিয়ন বাজাতেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গির্জা ও ধর্মীয় সমাবেশে ঘুরে বেড়াতেন।

তাদের কর্মকাণ্ড নজরে আসে খ্রিষ্টান টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব প্যাট রবার্টসনের। ১৯৬৫ সালে তারা রবার্টসনের খ্রিষ্টান সম্প্রচার নেটওয়ার্কে শিশুদের জন্য একটি অনুষ্ঠান শুরু করেন। পরের বছর জিম ‘দ্য সেভেন হান্ড্রেড ক্লাব’ নামের ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শুরু করেন।

১৯৭২ সালে সেই প্রতিষ্ঠান ছাড়েন জিম। দুই বছর পর তিনি ‘পিটিএল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠা করেন। ‘পিটিএল ক্লাব’ ছিল এর প্রধান অনুষ্ঠান। পিটিএল-এর অর্থ প্রেইজ দ্য লর্ড, অর্থাৎ প্রভুর প্রশংসা।

১৯৮০-এর দশকে ‘দ্য পিটিএল ক্লাব’ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে। লাখ লাখ মানুষ অনুষ্ঠানটি দেখতেন এবং অনুসারীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আসত।

অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন অতিথি ও খ্রিষ্টান শিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করা হতো। জিম ধর্মীয় বক্তব্য দিতেন, আর ট্যামি ফেই গান গাইতেন। ভারী সাজসজ্জা ও ঘন মাশকারার জন্যও ট্যামি ফেই ছিলেন ব্যাপক পরিচিত।

তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও বিপুল সম্পদের কারণে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠানেও তাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে রাতের টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোতে তাদের নিয়ে নিয়মিত রসিকতা করা হতো। জনপ্রিয় হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠান ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এও তাদের অনুকরণ করা হয়।

জিম ও ট্যামি ফেই বাকারের জীবন নিয়ে ‘দ্য আইজ অব ট্যামি ফেই’ নামে একটি চলচ্চিত্রও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পায়।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%