প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টার পেছনে ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার এবং ঘটনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়োজাহাজে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে। সন্দেহভাজন হামাম আল-হামামি ওই উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট ছিলেন। তিনি প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার দিয়ে হামলা করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন, এমনটি জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি।
তবে পাইলট এবং কয়েকজন যাত্রী মিলে তাকে আটকাতে সক্ষম হন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে সক্ষম হন। ফলে ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা এবং সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েল নিয়মিত তথ্য পাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই সন্দেহভাজনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজ প্রথমে জানায়, তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরই ছিনতাইয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি প্রশ্নও উঠেছে। যদি আল-হামামির লক্ষ্য ইসরায়েলের কোনো বিমানবন্দর হয়ে থাকে, তাহলে সৌদি আরবের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় তিনি কেন প্রধান পাইলটকে হামলা করেছিলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ছিনতাইয়ের সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দেশটির নিয়মিত জরুরি ব্যবস্থার অংশ, যখন বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন আল-হামামি সম্ভবত একাই এই হামলার চেষ্টা করেছিলেন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েল এমন কোনো তথ্য পায়নি, যা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন বা হামলা সংগঠনের যোগসূত্র নির্দেশ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, দুই দেশের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পার হয়ে কীভাবে আল-হামামি উড়োজাহাজের সহকারী পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন।
সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা সূত্রগুলো জানিয়েছে, আল-হামামি এর আগে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় পাইলট হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তবে তার উগ্র মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তাকে পাইলটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক কাজে স্থানান্তর করা হয়, এমনটি একটি সূত্র জানিয়েছে।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছে না।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার, বিমান সংস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর থাকে। পাইলটের লাইসেন্স ও নিরাপত্তা অনুমতিপত্র সাধারণত জাতীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং দেশভেদে এ সংক্রান্ত নিয়ম আলাদা।
ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ছাড়ার আগেই সব যাত্রী ও ক্রুর নাম ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল। তবে ক্রু সদস্যদের যাচাইয়ের বিষয়ে প্রশ্ন পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাও এ বিষয়ে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় উড়োজাহাজের ক্রুদের নাম যাচাই করা হয় না। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য এসব নাম ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সব ক্রু সদস্যের ইসরায়েলে প্রবেশের জন্য ভ্রমণ অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক। ওমানের পাসপোর্ট নিয়ে থাকা ব্যক্তির পরিচয় বিমানবন্দরে যাচাইয়ের সময় সতর্ক সংকেত দেওয়ার কথা ছিল। তবে তাদের নিয়মিত নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো পাইলটের কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবিলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই।
সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন