১১:০২ পি.এম
ময়মনসিংহ নগরীতে দ্রুততার সাথে বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। কিন্তু পরিকল্পিত নগরায়ণের পরিবর্তে জাতীয় বিল্ডিং কোড ও নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অভিযোগও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড অথবা অন্যান্য যেকোনো দুর্যোগের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের প্রাণহানি ও বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ময়মনসিংহের প্রাচীন শহরে একের পর এক বহুতল ভবন গড়ে উঠলেও, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নির্মাণবিধি মেনে চলা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও নির্ধারিত সেটব্যাক রাখা হয়নি, আবার কোথাও পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সম্প্রতি, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক দীর্ঘ সময় আটকে থাকা প্রায় ৪৮০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়েছেন। বিষয়টিকে সচেতন নাগরিকরা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন। এদিকে নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মউক) দাবি করছে, এখন থেকে বহুতল ভবনের নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব তাদের হবে। তবে সিটি করপোরেশন জানায়, এ বিষয়ে তারা এখনো সরকারের কোন আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পায়নি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে প্রায় ৩৫ হাজার বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন প্রশাসক ৪৮০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগে অন্তত ৬০টি ভবনের মালিককে অবৈধ অংশ অপসারণের নোটিশও দেওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।
ময়মনসিংহের সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, নগরীতে বহুতল ভবন নির্মাণের যেন এক প্রতিযোগিতা চলছে। রাস্তার ধারণক্ষমতা অথবা নগর পরিকল্পনা বিবেচনা না করেই নকশা অনুমোদনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যথাযথ নিয়ম মেনে নকশা অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আমাদের সংশয় ও রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়া কোন ভবনকে ঝুঁকিমুক্ত বলা যায় না। অনেক ভবন প্রাথমিক অনুমোদন নিলেও চূড়ান্ত অনুমোদন নেয়নি। বর্তমানে পুরো নগরীতে মাত্র একটি ভবনেরই ফায়ার সার্ভিসের চূড়ান্ত অনুমোদন রয়েছে।
ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, অতীতে যেভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তাতে নগর পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। এখন থেকে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ কোনোভাবেই অনুমোদন দেওয়া হবে না এবং বহুতল ভবনের নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পালন করবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকন উজ্জামান সরকার জানান, নতুন করে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না তা তদারকিতে সিটি করপোরেশনের টিম কাজ করছে। অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নগর গড়ে ওঠার দায় তখনকার সংশ্লিষ্টদের। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নকশা অনুমোদন দেবে কি না, সে বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সরকারি নির্দেশনা পাইনি। নগরবাসী সিটি করপোরেশনকে কর দেন, তাই তাদের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার দায়িত্বও আমাদের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন