বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৪ পি.এম
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকা রনজিনা পারভীনের (৫৫) মৃত্যুর পর মোটরসাইকেলসহ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ছিনতাইকারীদের রাজধানীর একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মালামাল ছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা টেবলেট।
এর আগে, গত ৩০ আগস্ট শিক্ষিকা রনজিনা পারভীনের পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ছিনতাইকারীদের হ্যাচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে যান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন। তিনি বগুড়া থেকে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে যাচ্ছিলেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে আসতেই একটি মোটরসাইকেল রিকশার পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনার ফলে তিনি অটোরিকশা থেকে নিচে পড়ে যান এবং তার মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাত্র ১২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার স্যামুয়েল হেন্ডারসন ১০০টিরও বেশি পাখির ডাক নিখুঁতভাবে নকল করতে সক্ষম। তিনি নিজের কণ্ঠ, জিহ্বা ও শ্বাসের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পাখির মতো শব্দ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন।
২০২৪ সালে স্কুলের একটি প্রতিভা প্রদর্শনীতে স্যামুয়েলের পাখির ডাক নকল করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন। তখন তার বয়স ছিল ১০ বছর এবং তিনি প্রায় ৫০ ধরনের পাখির ডাক নকল করতে পারতেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে ১০০টির বেশি পাখির ডাক রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার নকল করা পাখির ডাকের সংখ্যা ১২০ থেকে ১৩০টির বেশি।
স্যামুয়েলের পাখির প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই শুরু। চার বছর বয়সে চিড়িয়াখানায় একটি গ্রেট-টেইলড গ্র্যাকলের ডাক নকল করার পর তার আগ্রহ বেড়ে যায়। পরে তিনি বাইরে পাখির ডাক শুনে, বিভিন্ন ভিডিও দেখে এবং পাখি শনাক্ত করার নানা উপকরণ ব্যবহার করে একের পর এক পাখির ডাক নকল করতে শিখেছেন। তার নকল করা পাখির মধ্যে রয়েছে নর্দার্ন কার্ডিনাল, আমেরিকান রবিন, মর্নিং ডাভ, রেড-টেইলড হক, ব্যার্ড আউল ও বাল্ড ঈগলসহ বিভিন্ন প্রজাতি।
স্যামুয়েলের বিশেষত্ব শুধু অনেক পাখির ডাক নকল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার তৈরি শব্দ অনেক সময় আসল পাখির ডাকের এতটাই কাছাকাছি হয় যে আশপাশের বন্য পাখিও সাড়া দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে তাকে পাখির ডাক দেওয়ার পর কাছাকাছি থাকা পাখির প্রতিক্রিয়া পেতে দেখা গেছে।
কিছু নকল করা ডাক এমনকি পাখি শনাক্ত করার যন্ত্র ও ব্যবস্থায় আসল পাখির ডাক হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন কোনো পাখির ডাক শেখার পদ্ধতিও চমকপ্রদ। স্যামুয়েল প্রথমে ডাকটি বারবার শোনেন এবং শব্দটির বিভিন্ন অংশ আলাদা করে বোঝার চেষ্টা করেন। পরে নিজের গলা, জিহ্বা ও শ্বাসের ব্যবহার পরিবর্তন করে সেই শব্দ তৈরির অনুশীলন করেন।
তবে সব পাখির ডাক নকল করা তার জন্য সম্ভব নয়। কিছু পাখির ডাক অত্যন্ত জটিল বা উচ্চস্বরের হওয়ায় সেগুলো অনুকরণ করা কঠিন বলে তিনি জানিয়েছেন। স্যামুয়েলের পাখির প্রতি আগ্রহ শুধুমাত্র ডাক নকলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাখি দেখার সময় তিনি বিভিন্ন প্রজাতির আচরণ, আবাসস্থল ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করেন। তার পছন্দের পাখির মধ্যে রয়েছে রেজপ্লেনডেন্ট কুয়েটজাল ও অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাই।
২০২৪ সালের স্কুলের প্রতিভা প্রদর্শনীতে গ্রেট হর্নড আউল, ওয়াইল্ড টার্কি, কানাডা গুজ ও রেড-টেইলড হকের ডাক নকল করে তিনি সহপাঠীদের চমকে দেন। তার মায়ের প্রকাশ করা সেই ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে তার পরিচিতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল, স্থানীয় অনুষ্ঠান ও প্রকৃতিবিষয়ক আয়োজনে নিজের প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন তিনি।
চলতি বছরের আগস্টে আরকানসাসের হট স্প্রিংস কর্তৃপক্ষ জানায়, অক্টোবরে একটি পাখি পর্যবেক্ষণ উৎসবে অংশ নেবেন স্যামুয়েল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাকে ১২০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে সক্ষম এক তরুণ পাখিপ্রেমী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ফিলাডেলফিয়া ঈগলসও তাকে দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সেখানে খেলোয়াড়দের সামনে পাখির ডাক নকল করে দেখান তিনি।
মানুষের পক্ষে পাখির ডাক হুবহু নকল করা সহজ নয়। পাখির শব্দ তৈরির বিশেষ অঙ্গের নাম সিরিংক্স, যা শ্বাসনালির গোড়ায় থাকে। এর মাধ্যমে তারা অত্যন্ত জটিল ও বৈচিত্র্যময় শব্দ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে মানুষের রয়েছে স্বরযন্ত্র। তাই পাখির ডাকের কাছাকাছি শব্দ তৈরি করতে মানুষের কণ্ঠ, জিহ্বা, মুখ ও শ্বাসের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
স্যামুয়েলের এই প্রতিভা তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত করে তুলেছে এবং পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণে মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার আগ্রহ রয়েছে তার। নিজের এই আগ্রহের মাধ্যমে অন্য শিশুদেরও প্রকৃতির কাছে যেতে এবং পাখি সম্পর্কে জানতে উৎসাহ দিতে চান তিনি।
ছোটবেলার একটি শখ থেকে শুরু হয়েছিল তার যাত্রা। কয়েক বছর ধরে পাখির ডাক শোনা, পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সেই শখ এখন অসাধারণ দক্ষতায় পরিণত হয়েছে। মাত্র ১২ বছর বয়সে ১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করার ক্ষমতা দিয়ে স্যামুয়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত তরুণ পাখিপ্রেমীদের একজন।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ, এবিসি নিউজ ও ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে ভয় না পেয়ে বরং এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সচেষ্ট হোক। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে। তা না হলে বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়তে পারে।"
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনের সময় মেলানিয়া শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে।" একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে, সেদিকেও নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং শিক্ষার্থীদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখানো অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মেলানিয়া বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন উপকরণ কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার আশা, এই শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে কেউ নতুন ধরনের রোবট তৈরি করতে পারে এবং সেটি হোয়াইট হাউসে প্রদর্শন করতে পারে।
মেলানিয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশ কাউন্টির ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য চার বছরের জন্য ‘স্টাডিফেচ’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষামাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুলসহ জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো’ উন্নয়ন কিট দেওয়া হবে। এসব কিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে।
মেলানিয়ার ‘বি বেস্ট’ উদ্যোগ, এনভিডিয়া ও স্টাডিফেচের সহযোগিতায় এই প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মাউন্টেন ভিউ স্কুলে মেলানিয়া শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ নিয়ে কাজও দেখেন। সেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে বিতর্কও চলছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতা এ প্রযুক্তির ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতর্ক করেছেন। এর মধ্যেই মেলানিয়া শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি শেখার পাশাপাশি সতর্কভাবে তা ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জেমি বিটন, নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা, মাত্র ৩১ বছর বয়সে হার্ভার্ড, ইয়েল, অক্সফোর্ড, স্ট্যানফোর্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২টি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে এতগুলো ডিগ্রি অর্জনের পরেও তিনি থামছেন না। বর্তমানে তিনি আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পথে রয়েছেন।
অকল্যান্ডে বেড়ে ওঠা জেমির অসাধারণ শিক্ষাজীবনের তথ্য প্রথম প্রকাশ পায় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষকের মাধ্যমে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে জেমি যদি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণিতে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে শিক্ষক লিসা বেলকিন তার খোঁজ নেন।
জেমি জানান, তিনি শ্রেণির সময়সূচি ভুল করে গুলিয়ে ফেলেছিলেন। ওই সময় তিনি নিউজিল্যান্ডে ছিলেন এবং অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যোক্তা বিষয়ে একটি কোর্স পড়াচ্ছিলেন। পরের সপ্তাহেই নিউইয়র্কে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
জেমির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে ওই শিক্ষক তার বিস্ময়কর শিক্ষাজীবনের তথ্য জানতে পারেন। ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক শেষ করেন জেমি। একই সময়ে তিনি প্রয়োগিক গণিত ও অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন।
এরপর তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। পরে রোডস বৃত্তি নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জননীতি বিষয়ে পিএইচডি করেন। উল্লেখযোগ্য যে, এসব ডিগ্রির বেশির ভাগই তিনি ২৮ বছর বয়সের আগেই অর্জন করেন।
এছাড়া, জেমি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, তিসিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কিংস কলেজ লন্ডন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ডার্টমাউথ কলেজ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি নামী প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন।
জেমির শিক্ষাজীবনের বিষয়গুলোও বেশ বৈচিত্র্যময়। তিনি গণিত, অর্থনীতি, ব্যবসা, আইন, জননীতি, অর্থব্যবস্থা, শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, স্বাস্থ্যনীতি ও সাংবাদিকতার মতো বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।
সম্প্রতি তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল নিউজিল্যান্ডের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স, নিউ জিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি এবং দেশটির রাজনীতিতে জনতাবাদী জাতীয়তাবাদের ভবিষ্যৎ।
বর্তমানে তিনি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন। ভারত সফরের সময়ও তিনি এই পড়াশোনার সেমিস্টার শেষের একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলেন।
এতগুলো ডিগ্রি অর্জনের ফলে প্রশ্ন উঠেছে, জেমি কি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তি হওয়ার পথে এগোচ্ছেন? রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্জামিন বোলগার ৫০ বছর বয়সে ১৬টি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আর মাইকেল নিকোলসনের ডিগ্রির সংখ্যা ৩০টির বেশি। ফলে জেমির সামনে আরও অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে পড়াশোনাই জেমির একমাত্র কাজ নয়। কিশোর বয়সে তিনি শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিমসন এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের বাছাই করা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
জেমির পেশাগত পরিচিতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। তার দীর্ঘ শিক্ষাজীবন নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা রয়েছে। এমনকি তাঁকে ‘লিংকডইনের থ্যানোস’ নামেও ডাকা হয়।
তবে জেমি জানিয়েছেন, তিনি শুধু নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিজের জীবনবৃত্তান্তে যোগ করার জন্য এতগুলো ডিগ্রি নিচ্ছেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পাঁচটি ডিগ্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনই ছিল মূল লক্ষ্য। এরপর থেকে তিনি নিজের বিভিন্ন আগ্রহ ও কৌতূহল অনুসরণ করেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্রিমসন এডুকেশনের চেয়ারম্যান ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার জন কি জেমির শিক্ষাজীবন নিয়ে রসিকতা করে তাকে দেশটির বিখ্যাত বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের পরেই স্থান দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তিনি এটিও বলেন, পরমাণু বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত রাদারফোর্ডকে এই তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া কঠিন।
জেমির ক্ষেত্রে কোনো ডিগ্রিই যেন শেষ নয়। একটি পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে আরেকটি। ফলে ভবিষ্যতে তিনি আরও কতগুলো ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের তালিকায় কোথায় পৌঁছান, তা নিয়েই এখন কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক মা বিমানে শিশুকে সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। একপর্যায়ে, তার কোলে থাকা শিশু পিছলে পড়তে শুরু করলে বিমানবালা মনিক হ্যারিস দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। পরে, তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে নিয়ে মাকে কিছুক্ষণ বিশ্রামের সুযোগ দেন। হ্যারিসের এই মানবিক আচরণে প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউয়ার্ক থেকে মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসগামী একটি বিমানে। যদিও বিমানটি ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের, পরিচালনা করছিল রিপাবলিক এয়ারওয়েজ।
বিমান চলাকালে, হ্যারিস লক্ষ্য করেন যে, এক মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তিতে, ওই মা একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ার সময় শিশুটি নড়াচড়া শুরু করে। হ্যারিস দেখতে পান, শিশুটি মায়ের কোলে থেকে পিছলে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে, তিনি এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন।
এরপর, হ্যারিস শিশুটিকে নিজের কোলে নিয়ে বসেন। একই সঙ্গে, মাকে আশ্বস্ত করে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন। এতে, দীর্ঘ সময় ধরে শিশুকে সামলানোর ক্লান্তি কিছুটা কাটিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান ওই মা।
ঘটনাটি কাছ থেকে দেখছিলেন বিমানের যাত্রী জন ফ্রেসে। তিনি মুহূর্তটির একটি ছবি তোলেন। পরে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে। হাজারো মানুষ ছবিটি নিয়ে মন্তব্য ও তা ছড়িয়ে দেন।
ফ্রেসের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী নতুন মা এবং ভীষণ ক্লান্ত ছিলেন। শিশুটি নড়াচড়া শুরু করতেই হ্যারিস দ্রুত তাকে ধরে ফেলেন। এরপর, মাকে আশ্বস্ত করে বিশ্রাম নিতে বলেন তিনি।
হ্যারিসের এই আচরণকে যাত্রীরা তার দায়িত্বের বাইরেও একজন মানুষের প্রতি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেখেছেন। তবে, হ্যারিস জানিয়েছেন, কাউকে মুগ্ধ করা বা কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি কাজটি করেননি।
হ্যারিসের ভাষায়, "মানুষের জন্য এমন ছোট ছোট কিছু কাজ করা যায়, যা হয়তো কেউ কখনো দেখবে না। কিন্তু সেই ছোট কাজই অন্য কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।" এবার একজন যাত্রী ঘটনাটি দেখেছেন এবং ছবি তুলেছেন বলেই মুহূর্তটি এত মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।
রিপাবলিক এয়ারওয়েজও হ্যারিসের প্রশংসা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে নিজেদের দলের একজন অসাধারণ সহকর্মী ও বিমানবালা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যারিসের এই মানবিক আচরণ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে, ভ্রমণের ক্লান্তিতে থাকা একজন নতুন মায়ের পাশে একজন অপরিচিত মানুষের তাৎক্ষণিক সহায়তা অনেকের কাছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ