প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক মা বিমানে শিশুকে সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। একপর্যায়ে, তার কোলে থাকা শিশু পিছলে পড়তে শুরু করলে বিমানবালা মনিক হ্যারিস দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। পরে, তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে নিয়ে মাকে কিছুক্ষণ বিশ্রামের সুযোগ দেন। হ্যারিসের এই মানবিক আচরণে প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউয়ার্ক থেকে মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসগামী একটি বিমানে। যদিও বিমানটি ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের, পরিচালনা করছিল রিপাবলিক এয়ারওয়েজ।
বিমান চলাকালে, হ্যারিস লক্ষ্য করেন যে, এক মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তিতে, ওই মা একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ার সময় শিশুটি নড়াচড়া শুরু করে। হ্যারিস দেখতে পান, শিশুটি মায়ের কোলে থেকে পিছলে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে, তিনি এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন।
এরপর, হ্যারিস শিশুটিকে নিজের কোলে নিয়ে বসেন। একই সঙ্গে, মাকে আশ্বস্ত করে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন। এতে, দীর্ঘ সময় ধরে শিশুকে সামলানোর ক্লান্তি কিছুটা কাটিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান ওই মা।
ঘটনাটি কাছ থেকে দেখছিলেন বিমানের যাত্রী জন ফ্রেসে। তিনি মুহূর্তটির একটি ছবি তোলেন। পরে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে। হাজারো মানুষ ছবিটি নিয়ে মন্তব্য ও তা ছড়িয়ে দেন।
ফ্রেসের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী নতুন মা এবং ভীষণ ক্লান্ত ছিলেন। শিশুটি নড়াচড়া শুরু করতেই হ্যারিস দ্রুত তাকে ধরে ফেলেন। এরপর, মাকে আশ্বস্ত করে বিশ্রাম নিতে বলেন তিনি।
হ্যারিসের এই আচরণকে যাত্রীরা তার দায়িত্বের বাইরেও একজন মানুষের প্রতি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেখেছেন। তবে, হ্যারিস জানিয়েছেন, কাউকে মুগ্ধ করা বা কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি কাজটি করেননি।
হ্যারিসের ভাষায়, "মানুষের জন্য এমন ছোট ছোট কিছু কাজ করা যায়, যা হয়তো কেউ কখনো দেখবে না। কিন্তু সেই ছোট কাজই অন্য কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।" এবার একজন যাত্রী ঘটনাটি দেখেছেন এবং ছবি তুলেছেন বলেই মুহূর্তটি এত মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।
রিপাবলিক এয়ারওয়েজও হ্যারিসের প্রশংসা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে নিজেদের দলের একজন অসাধারণ সহকর্মী ও বিমানবালা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যারিসের এই মানবিক আচরণ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে, ভ্রমণের ক্লান্তিতে থাকা একজন নতুন মায়ের পাশে একজন অপরিচিত মানুষের তাৎক্ষণিক সহায়তা অনেকের কাছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন