বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৩ পি.এম
এক মা বিমানে শিশুকে সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। একপর্যায়ে, তার কোলে থাকা শিশু পিছলে পড়তে শুরু করলে বিমানবালা মনিক হ্যারিস দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। পরে, তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে নিয়ে মাকে কিছুক্ষণ বিশ্রামের সুযোগ দেন। হ্যারিসের এই মানবিক আচরণে প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউয়ার্ক থেকে মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসগামী একটি বিমানে। যদিও বিমানটি ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের, পরিচালনা করছিল রিপাবলিক এয়ারওয়েজ।
বিমান চলাকালে, হ্যারিস লক্ষ্য করেন যে, এক মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তিতে, ওই মা একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ার সময় শিশুটি নড়াচড়া শুরু করে। হ্যারিস দেখতে পান, শিশুটি মায়ের কোলে থেকে পিছলে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে, তিনি এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন।
এরপর, হ্যারিস শিশুটিকে নিজের কোলে নিয়ে বসেন। একই সঙ্গে, মাকে আশ্বস্ত করে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন। এতে, দীর্ঘ সময় ধরে শিশুকে সামলানোর ক্লান্তি কিছুটা কাটিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান ওই মা।
ঘটনাটি কাছ থেকে দেখছিলেন বিমানের যাত্রী জন ফ্রেসে। তিনি মুহূর্তটির একটি ছবি তোলেন। পরে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে। হাজারো মানুষ ছবিটি নিয়ে মন্তব্য ও তা ছড়িয়ে দেন।
ফ্রেসের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী নতুন মা এবং ভীষণ ক্লান্ত ছিলেন। শিশুটি নড়াচড়া শুরু করতেই হ্যারিস দ্রুত তাকে ধরে ফেলেন। এরপর, মাকে আশ্বস্ত করে বিশ্রাম নিতে বলেন তিনি।
হ্যারিসের এই আচরণকে যাত্রীরা তার দায়িত্বের বাইরেও একজন মানুষের প্রতি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেখেছেন। তবে, হ্যারিস জানিয়েছেন, কাউকে মুগ্ধ করা বা কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি কাজটি করেননি।
হ্যারিসের ভাষায়, "মানুষের জন্য এমন ছোট ছোট কিছু কাজ করা যায়, যা হয়তো কেউ কখনো দেখবে না। কিন্তু সেই ছোট কাজই অন্য কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।" এবার একজন যাত্রী ঘটনাটি দেখেছেন এবং ছবি তুলেছেন বলেই মুহূর্তটি এত মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।
রিপাবলিক এয়ারওয়েজও হ্যারিসের প্রশংসা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে নিজেদের দলের একজন অসাধারণ সহকর্মী ও বিমানবালা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যারিসের এই মানবিক আচরণ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে, ভ্রমণের ক্লান্তিতে থাকা একজন নতুন মায়ের পাশে একজন অপরিচিত মানুষের তাৎক্ষণিক সহায়তা অনেকের কাছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নতুন জাতীয় পে-স্কেলের অধীনে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চিকিৎসা, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় বয়স এবং গ্রেড অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা এবং মোবাইল ভাতা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ি ভাতার হার কমানোর, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা আট বছরে নামিয়ে আনার এবং কয়েকটি বিশেষ ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে।
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। দফায় দফায় গেজেট জারির সময় পেছানো হলেও নতুন করে একাধিক তারিখ আলোচনায় এসেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী বুধবারের মধ্যে ভেটিং সম্পন্ন হলে চলতি মাসেই গেজেট জারি করা হতে পারে। তবে প্রশাসনিক কাঠামোয় কোনো জটিলতা তৈরি হলে এ কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে। নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির জন্য একাধিক সম্ভাব্য সময় বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হলে আগামী ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট জারি হতে পারে। ভেটিং শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
নতুন পে-স্কেলের অন্যতম আলোচিত পরিবর্তন হচ্ছে বাড়ি ভাড়া ভাতা। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এ হার হবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে বর্তমানে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে। তবে মূল বেতনের তুলনায় বাড়ি ভাড়া শতাংশ হারে কমলেও গ্রেডভেদে মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়ায় ভাতার টাকার অঙ্কও বাড়বে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় ভাতার হার কমিয়ে মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মোট আর্থিক সুবিধার ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় এ সময় কমিয়ে আট বছর করা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ছয় বছর একই গ্রেডে চাকরির শর্ত থাকবে।
চাকরিজীবনে পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেলে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ‘ব্লকড পদ’ হিসেবে ঘোষিত, সেসব পদে কর্মরতরা চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেড সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ব্লকড পদে কর্মরতরা প্রথমবার আট বছর, দ্বিতীয়বার আরও ছয় বছর এবং তৃতীয়বার পরবর্তী আট বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুবিধা পাবেন।
নতুন পে-স্কেলে চিকিৎসা ভাতায়ও বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি চাকরিজীবীরা পাবেন ৩ হাজার টাকা। ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সিদের জন্য তা হবে ৪ হাজার টাকা। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা ভাতা বাড়ছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিরা মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা ৬ হাজার টাকা পাবেন।
এবারই প্রথম সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে শুধু প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল বিল পান। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কয়েকটি ছোট ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।
তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে। তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার কাঠামোও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের হিসাবে, নতুন কাঠামোয় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখের বেশি হয়ে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এই পরিমাণ এত বেশি নয়। এই শতবর্ষীদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ নারী।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানের সবচেয়ে বয়স্ক নারী হলেন কিশিমোতো ফুয়ো, যিনি কিয়োটো শহরে বাস করেন এবং তাঁর বয়স ১১৪ বছর। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কাতো হিকারু, যিনি কুমামোতো শহরের বাসিন্দা এবং তাঁর বয়স ১১২ বছর।
জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উএনো মন্তব্য করেন, এত সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন—এটি একটি আনন্দের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, চিকিৎসা ও প্রযুক্তির অগ্রগতিও মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে, এত বয়স্ক মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার স্থায়িত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ জীবনের পেছনে কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপন জাপানিদের দীর্ঘায়ুর মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি। দেশটির প্রচলিত খাদ্য তালিকায় মাছ, শাকসবজি এবং ভাতের পরিমাণ বেশি, যা পশ্চিমা খাদ্যাভ্যাসের তুলনায় কম চর্বিযুক্ত।
শুধু খাদ্য নয়, বয়স্কদের সক্রিয় জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বয়স্ক জাপানি নিয়মিত হাঁটেন, গণপরিবহন ব্যবহার করেন, সাইকেল চালান এবং শরীরচর্চা করেন।
বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা
জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে তাদের জন্য তৈরি পণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিবিসি জানাচ্ছে, গত এক দশক ধরে শিশুদের ব্যবহারের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বিক্রির পরিমাণ বেশি।
বয়স্কদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শরীরের বিভিন্ন অংশের নড়াচড়ায় সহায়তা করার জন্য চালিত পোশাক এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চোখের সামনে থাকা জিনিসের দিকে দৃষ্টি পরিষ্কার করতে সক্ষম বিশেষ চশমা।
তবে দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যের পাশাপাশি, জাপান একটি বড় জনসংখ্যাগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে, প্রত্যেক নারীর গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১টি সন্তান জন্ম দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু গত বছর জাপানের মোট প্রজনন হার কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ১৪-তে নেমেছে।
জাতীয় জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০৭০ সালে জাপানের জনসংখ্যা কমে ৮ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াতে পারে। ২০০৮ সালে দেশটির সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। সেক্ষেত্রে, ২০৭০ সালের সম্ভাব্য জনসংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কম।
বর্তমানে জাপানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৭০ সালে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
জাপানি কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনসংখ্যা হ্রাসকে ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কেন কমছে জাপানের জনসংখ্যা?
২০২৫ সালে জাপানের ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে জনসংখ্যা কমেনি। দেশের জনসংখ্যা হ্রাসের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তরুণদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি এবং আর্থিক সহায়তা চালু করলেও, জন্মহার বৃদ্ধিতে সেগুলো এখনো খুব বেশি কার্যকর হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কম বিয়ের হার, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সন্তান লালন-পালনের বাড়তি খরচ এর মধ্যে অন্যতম।
গত কয়েক বছরে জাপানে অভিবাসনও বেড়েছে। তবে দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ বিদেশি। একই সাথে, আরও বেশি অভিবাসী গ্রহণের বিরোধিতাও বেড়েছে।
৬০ বছরে শতবর্ষীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক শ গুণ।
জাপান সরকার ১৯৬৩ সালে শতবর্ষী মানুষের হিসাব রাখা শুরু করে। সে সময় দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন।
১৯৮১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ছাড়ায়। ১৯৯৮ সালে তা ১০ হাজারের বেশি হয়। আর এখন সেই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
জাপানের বার্ষিক ‘বয়স্কদের প্রতি শ্রদ্ধা’ দিবসের আগে সম্প্রতি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। এই দিবসটিতে সরকার ১০০ বছরে পা দেওয়া ব্যক্তিদের চিঠি এবং ঐতিহ্যবাহী পানীয় পরিবেশনের কাপ দিয়ে সম্মান জানায়।
তবে শতবর্ষী মানুষের বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভুল তথ্য, অনির্ভরযোগ্য সরকারি নথি এবং জন্মসনদ না থাকার কারণে কিছু দেশে প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে বেশি শতবর্ষী মানুষের হিসাব পাওয়া যেতে পারে।
জাপান সরকারের ২০১০ সালের একটি পারিবারিক নিবন্ধন নিরীক্ষায় ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী হিসেবে তালিকাভুক্ত ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক দশক আগেই মারা গিয়েছিলেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল নথি সংরক্ষণ এবং বয়স্ক স্বজনের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে পেনশন পাওয়ার চেষ্টা—এ ধরনের ভুল হিসাবের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ছয়টি ক্যাটাগরির জন্য মোট ১০৬ জনের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এ উদ্দেশ্যে পৃথক দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
যেসব পদে নিয়োগ
প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইরেসপো) হিসেবে চারজন, হিসাব সহকারী (ইরেসপো) চারজন এবং মাঠ সংগঠক (ইরেসপো) ১৩ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে হিসাবরক্ষক পদে ১৭ জন, মাঠ সংগঠক পদে ৬৭ জন এবং অফিস সহকারী/ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইরেসপো) পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীদের যেকোনো বিষয়ে কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক (সম্মান)/স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে এবং কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা আবশ্যক।
হিসাব সহকারী (ইরেসপো) পদে বাণিজ্য বিভাগে কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। মাঠসংগঠক (ইরেসপো) পদে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
হিসাবরক্ষক পদে বাণিজ্য বিভাগে দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের পাস থাকতে হবে। মাঠ সংগঠক ও অফিস সহকারী/ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে এইচএসসি বা সমমান পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
অফিস সহকারী/ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে কম্পিউটারে এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল ও উইন্ডোজ পরিচালনায় দক্ষতার পাশাপাশি বাংলায় প্রতি মিনিটে ২০ এবং ইংরেজিতে ৩০ শব্দ টাইপের গতি থাকতে হবে।
বেতন ও গ্রেড
সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইরেসপো) পদটি গ্রেড-১০ এবং হিসাব সহকারী ও মাঠ সংগঠক (ইরেসপো) পদ দুটি গ্রেড-১৪-এর সাকুল্য বেতনে নিয়োগ দেওয়া হবে।
হিসাবরক্ষক পদে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা এবং মাঠ সংগঠক ও অফিস সহকারী/ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা বেতন প্রদান করা হবে।
যেসব জেলার প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন
খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কক্সবাজার ও কুমিল্লা জেলার স্থায়ী নাগরিকরা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী এসব পদে আবেদন করতে পারবেন।
বয়সসীমা
১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে বিআরডিবির প্রকল্প বা কর্মসূচির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদন যেভাবে
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম ডাউনলোড করে এ৪ সাইজের কাগজে প্রিন্ট করতে হবে। ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত তিন কপি ছবি সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর বর্তমান ঠিকানা লেখা ও ১০ টাকা ডাকটিকিটযুক্ত একটি ফেরত খাম দিতে হবে। খামের ওপর পদের নাম, বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর ও প্রার্থীর নিজ জেলার নাম উল্লেখ করতে হবে।
আবেদনপত্র সরকারি ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যুগ্মপরিচালক, বিভাগীয় দপ্তর, বিআরডিবি, চট্টগ্রাম বিভাগ, নাসিরাবাদ প্রপার্টিজ লিঃ, রোড নং-০১, বাড়ি-১৩৪, ফ্ল্যাট-এ৪, খুলশী, চট্টগ্রাম বরাবর পাঠাতে হবে। সরাসরি বা হাতে হাতে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
পদভেদে আবেদনের শেষ সময় ৮ ও ১৯ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়সীমা দেখে আবেদন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ফি সম্পর্কে ভিন্ন নির্দেশনা থাকায় সংশ্লিষ্ট পদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফি ও জমাদানের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিস্তারিত তথ্য বিআরডিবির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি তিনটি দেখতে এখানে ক্লিক ( খুলনা , বরিশাল , চট্টগ্রাম ) করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হয়েছে।
এই সভাটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় এবং বর্তমান সরকারের অষ্টম সভা।
ডেপুটি প্রেস সচিব হাসান শিপলু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভায় একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করছেন।
আজকের সভায় ৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি মেগা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ