০৯:২৪ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর, মোস্তফা কামালের মাকে দিয়ে নিজের অপহরণ, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা করানোর চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা পুলিশ উদ্ঘাটন করেছে। ওই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে চার মাস কারাভোগ করেন জামান মিয়া নামের এক ঠিকাদার। পরে পুলিশের তদন্তে গাজীপুর থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় 'নিখোঁজ' দেখানো যুবক মোস্তফা কামালকে।
মোস্তফা কামাল (২৮) ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার একজন বাসিন্দা। বর্তমানে তাঁর পরিবার কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করছেন। মামলার ভুক্তভোগী জামান মিয়া বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানাচ্ছে, মোস্তফা কামাল পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং জামান মিয়া ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেন। কাজের সূত্রে তাদের মধ্যে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এক সময় পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
অভিযোগ রয়েছে যে, পাওনা টাকা সংগ্রহের জন্য জামান মিয়া মোস্তফা কামালকে পিরিজপুরে নিয়ে গিয়ে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। তারপর মোস্তফা বাড়ি না ফিরে, আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন ছেলের খোঁজ না পেয়ে মোস্তফার মাতা মনোয়ারা বেগম আদালতে অপহরণের অভিযোগে একটি পিটিশন দায়ের করেন, পরে আদালতের নির্দেশে কুলিয়ারচর থানায় মামলা হলে প্রধান আসামি জামান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামান মিয়া প্রায় চার মাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুরুল হক বলেন, তদন্তে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ জুলাই রাত ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করে এবং বিয়ে করে বসবাস করছিলেন।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানতেন। কিন্তু তারা পুলিশকে এই বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।
ভুক্তভোগী জামান মিয়া বলেন, 'মোস্তফা কামালের সঙ্গে আমার প্রায় চার লাখ টাকার লেনদেন ছিল। টাকা চাইলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে আমাকে হয়রানি করতে তাঁর মাতা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গুমের মামলা করেন। আমি বিনা দোষে চার মাস জেল খেটেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।'
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
এ বিষয়ে মোস্তফা কামাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, 'তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গুমের অভিযোগে নিখোঁজ দেখানো যুবকটি আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন