০৬:১০ পি.এম
বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করার জন্য মার্কিন উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শনিবার (০৪ জুলাই) ঢাকায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেবেন।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
মাহদী আমিন আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সরকার বেসরকারি খাতের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিনিয়োগ সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে সম্ভব হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে মুনাফা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ সহজ করা, উদার অর্থনৈতিক নীতির বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পপার্ক ও হাইটেক পার্কে কর–সুবিধাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমিন বলেন, অতীতে অসম প্রতিযোগিতা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা দূর করতে সরকার দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর আহ্বান জানানো সংক্রান্ত মাহদী আমিন বলেন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে উন্নয়নে তারা আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি উল্লেখ করেন, উড়োজাহাজ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), বস্ত্র, ওষুধ, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করে ‘ব্রেইন ড্রেইন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করার প্রয়োজন আছে।
তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত রোডশো আয়োজন এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সফলতা বিশ্বের অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও এ দেশে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করবে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখায় তিনি অ্যামচেম ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। সূত্র বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন