০৫:৩১ পি.এম
৬৫ বছর বয়সী একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ভারতের রাজস্থানের এক নার্স, উল্টো ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ১০০ জনেরও বেশি নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। এর মধ্যে নার্স কমলা ওরফে কমলেশ শুক্রবার বারমের আদালতে পেশ করার আগে একটি ভিডিও বার্তায় ডাক্তারের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জানান।
ডাক্তারকে একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে নার্সটি অভিযোগ করেন যে, ওই ডাক্তার তার হাসপাতালে আসা বেশ কয়েকজন নারী রোগীকেও নির্যাতন করেছেন। চাঁদাবাজির অভিযোগে নার্সটিকে গ্রেপ্তার করার পর ঘটনাটিতে নাটকীয় মোড় আসে। জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের পর পুলিশ তাকে আদালতে পেশ করলে আদালত তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়।
শুনানিতে হাজির হওয়ার পূর্বে নার্সটি ভিডিও বার্তাটি রেকর্ড করেন এবং ডাক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডাক্তারকে ‘এক নম্বর ধর্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করে নার্স দাবি করেন, ডাক্তার বছরের পর বছর ধরে ১০০ জনেরও বেশি নারীকে যৌন নির্যাতন করেছেন। নার্স আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে যাওয়া বেশ কয়েকজন নারী রোগীকেও ওই ডাক্তার নির্যাতন করেছেন, এবং অতীতে কিছু নারী পুলিশে গিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নার্সটির মতে, অতীতে করা সেই অভিযোগগুলো বেশি দূর এগোয়নি কারণ ডাক্তার টাকা দিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার তোলা অভিযোগগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির পরিকল্পিত মামলা করা হয়েছে।
হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলে এই নার্স জানান, হাসপাতালের দুই কর্মী ওই ডাক্তারকে নারী সংগ্রহে সহায়তা করতেন। তবে পুলিশ এই অভিযোগগুলোর কোনোটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং এগুলো যে প্রমাণিত হয়েছে, সেরকম কোনও অফিসিয়াল ইঙ্গিতও এখনও পাওয়া যায়নি।
মামলাটি ওই ডাক্তার কর্তৃক করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়, নার্সটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই চিকিৎসকের ব্যক্তিগত হাসপাতালে প্রধানত রাতের শিফটে কাজ করছিলেন। অভিযোগ অনুসারে, নার্সটি চা বানানোর অজুহাতে হাসপাতালের চারতলায় ডাক্তারের ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করতেন। এমন একটি সফরের সময়, তিনি নাকি ডাক্তারের অজান্তেই তার মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত ছবি নিজের ফোনে ট্রান্সফার করেন।
ডাক্তার অভিযোগ করেন, নার্সটি পরে টাকা না দিলে ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার, তাকে ধর্ষণের, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এবং এমনকি তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। নিজের ব্যক্তিগত সুনাম ও হাসপাতালের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার ভয়ে ডাক্তার উল্লেখ করেন যে, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে তাকে টাকা দিয়ে আসছিলেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন