ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিস্তার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও


তিস্তার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও

তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে কার্যকরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে রংপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে প্রতিবছর ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

রবিবার দুপুরে রংপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচিটি পালন করেছে গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শতাধিক বাসিন্দা। তারা একটি মিছিল বের করে কার্যালয় ঘেরাও করেন এবং পরে প্রধান ফটকের সামনে এক ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, তারা কয়েক বছর ধরে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে চলতি বর্ষায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ৪৬টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন ও ফজলু মিয়াসহ অন্যান্যরা। তারা অভিযোগ করেন যে, ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র পরিদর্শন ও আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেছেন, তিস্তা নদীর ডান তীরে শহর, বসতি এবং আবাদি জমি থাকায় সেখানে বাঁধ নির্মাণ করে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাম তীরে নদীটি কয়েকটি চ্যানেলে প্রবাহিত হওয়ায় চরাঞ্চলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য জিওব্যাগ ফেলা, বাঁশের পাইলিংসহ বিভিন্ন অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাহী প্রকৌশলীর দেওয়া আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

স্থানীয়দের জানানো হয়েছে যে, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ অনেক কমে যায়। যার ফলে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় চর জেগে ওঠে এবং তিস্তা সেচ প্রকল্পও পানির সংকটে পড়ে। আবার বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ কয়েক লাখ কিউসেকে পৌঁছালে তীব্র স্রোতে নদীভাঙন দেখা দেয় এবং নদীতীরবর্তী জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিভিল সার্জনের অপসারণের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ, কক্ষে ঝুলল তালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


সিভিল সার্জনের অপসারণের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ, কক্ষে ঝুলল তালা

বরিশালের সদ্য বদলি সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে সচেতন নাগরিক কমিটির ব্যানারে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা তালা দিয়েছে। তবে, সদ্য বদলি হওয়া সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান এ ঘটনার জন্য উপস্থিত হতে পারেননি।

তালাবদ্ধ এই কক্ষে তালা দেয়ার নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, ‘দুর্নীতিবাজ’ এবং ‘শাস্তিপ্রাপ্ত’ ডা. মনিরুজ্জামানকে সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কারণে ২০২৫ সালে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গৌরনদীবাসী বিদায় করেছিল। তখন সরকার বাধ্য হয়ে তাকে ওএসডি করে। একজন মানুষের, যাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিভিল সার্জন পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, বিষয়টি বিস্ময়কর।

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র-জনতা স্বাস্থ্য সংস্কার আন্দোলন করে স্বাস্থ্যখাতে অনেক উন্নতি করেছে। এ অবস্থায় এমন একজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিলে বরিশালের স্বাস্থ্যখাত ধ্বংসের মুখে পড়বে। তার নিয়োগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ধ্বংসের পক্ষে রয়েছি। বরিশালের স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য জনগণের সমর্থন নিয়ে সিভিল সার্জনের কক্ষে তালা দিয়েছি। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালককেও অবহিত করেছি।’

সাব্বির অভিযোগ করেছেন যে, ডা. মনিরুজ্জামান শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র আত্মীয়। তিনি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে অপকর্ম করেছেন, তার যথেষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে আছে। সাব্বির উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে মেডিকেলের সকল কর্মকর্তাকে নোটিশ দিয়ে একটি কর্মকর্তাকে রেখে অংশ নিয়েছেন।

তিনি আরো কঠোর ভাষায় বলেন, কোনোভাবেই সিভিল সার্জন হিসেবে ‘দুর্নীতিবাজ’ ডা. মনিরুজ্জামানকে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

এদিকে, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের উপ-পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম জানিয়েছেন, তাকে বিএম কলেজের এক শিক্ষার্থী ফোন করে ঘটনার ব্যাপারে অবহিত করেছেন। তিনি তাদেরকে সরকারি দপ্তরে তালা দিতে নিষেধ করে বলেন, যদি তাদের কোনো দাবি থাকে, তবে সেটি লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলেছেন। তিনি এরপর বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও মহাপরিচালককে অবহিত করবেন।

এ সময় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে সদ্য পদায়ন করা সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না। এটি একটি অফিসিয়াল বিষয়। তিনি নিজ অফিসে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাসচাপায় প্রাণ গেল যশোরের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


বাসচাপায় প্রাণ গেল যশোরের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের

যশোরের কেশবপুরে বাসের চাপায় মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ আলী কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া গ্রামের মৃত মকছেদ আলী মোড়লের ছেলে। তিনি কেশবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে মোহাম্মদ আলী নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে কেশবপুর উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। মাইকেল মোড়ে পৌঁছালে সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা-গামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে পথচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিবলী খাতুন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে ঘাতক বাসটি আটক করেছে। তবে দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কম খরচে নিখুঁত ও প্রাণঘাতী হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


কম খরচে নিখুঁত ও প্রাণঘাতী হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র খাইবার শেকান। এটি তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা যায়, সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায় এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতার কারণে তেহরানের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ৯০০ মাইল পাল্লার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাম্প্রতিক একাধিক জটিল হামলায় ব্যবহার করছে ইরান।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে খাইবার শেকান নিক্ষেপ করছে ইরান। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত করতে একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন গতিপথ, গতি ও আক্রমণ কৌশলের সমন্বয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘাত চলাকালে ছোড়া অধিকাংশ খাইবার শেকান যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পুরোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি ভরতে হতো। কিন্তু খাইবার শেকান আগে থেকেই জ্বালানিপূর্ণ অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। প্রয়োজন হলে এটি দ্রুত ট্রাক বা মোবাইল লঞ্চারে তুলে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। মার্কিন বা ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের নজর এড়িয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল রাখা এই ব্যবস্থা নেওয়ার একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, খাইবার শেকানের কিছু সংস্করণে সামনের অংশে ছোট ইঞ্জিনসংবলিত ওয়ারহেড রয়েছে। উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে বিস্ফোরকবাহী এই অংশটি মূল ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার মাইল বেগে ছুটতে ছুটতে নিজস্ব গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

সাধারণভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মহাকাশ বা ঊর্ধ্বাকাশে উঠে সেখান থেকে তীব্র গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। তবে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে না। খাইবার শেকান নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাডারের নজর এড়ানো এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য এটি অন্যান্য অনেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ইরান তাদের আক্রমণ কৌশলে পরিবর্তন আনছে। স্যাটেলাইটনির্দেশিত খাইবার শেকান দিয়ে যে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হচ্ছে, একই জায়গায় উচ্চগতির আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং অপেক্ষাকৃত কম আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করছে তেহরান।

তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ রাডারগুলো বারবার ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত আর্মি জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ইরান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে এবং প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নতুন নতুন কৌশল তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ইরানের ড্রোন সক্ষমতা অত্যন্ত উন্নত। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এই খাতে তাদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজার খাইবার শেকান ও অন্যান্য মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। স্বাধীন ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হিঞ্জের ধারণা, ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ইরান নতুন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে থাকতে পারে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিকোল গ্রাজিউস্কির মতে, যুদ্ধ চলাকালেই ইরান উপলব্ধি করেছে যে খাইবার শেকান তাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র। কারণ এটি তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায়, বিভিন্ন ধরনের উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতাও বেশি।

ইসরায়েলের দিকেও খাইবার শেকান নিক্ষেপ করেছে ইরান। যদিও ইসরায়েলের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই তারা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরেও হামলা চালিয়েছে। গত মাসে জেটচালিত ড্রোনের পাশাপাশি খাইবার শেকান ব্যবহার করে নতুন দফা হামলার ঘোষণাও দেয় তেহরান। তবে সেই হামলার ফলাফল স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ঐতিহাসিক খাইবার যুদ্ধের স্মরণে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম রাখা হয়েছে। ৬২৮ সালে আরবের খাইবার মরূদ্যান মুসলিম বাহিনীর দখলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ নামকরণ করা হয়েছে।

একটি খাইবার শেকান তৈরিতে ঠিক কত ব্যয় হয়, তা প্রকাশ করেনি ইরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করে, সেগুলো তুলনায় খাইবার শেকান অনেক কম ব্যয়বহুল। ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধরনভেদে একটি মার্কিন বা ইসরায়েলি ইন্টারসেপ্টরের মূল্য ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

ফ্যাবিয়ান হিঞ্জের মতে, আগের হামলাগুলোর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ইরান এখন ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে শত্রুর প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ করা যায়।

তার ভাষায়, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নতুন তথ্য দেয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে কোন কৌশল সবচেয়ে কার্যকর, তা পর্যবেক্ষণ করে ইরান তাদের সক্ষমতা আরও উন্নত করছে। তিনি বলেন, তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে খাইবার শেকান উড্ডয়নের একেবারে শেষ মুহূর্তেও গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জ জেলা কারাগার অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


হবিগঞ্জ জেলা কারাগার অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে!

হবিগঞ্জ জেলা কারাগার অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে-এমন অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমানসহ একটি সিন্ডিকেট বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিট বাণিজ্য, ওয়ার্ড বাণিজ্য, মোবাইল কল বাণিজ্য, সাক্ষাৎ বাণিজ্য এবং বন্দিদের খাবার চড়া দামে ক্যান্টিনে বিক্রির মত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি, জেল ফেরত মো. সামছুদ্দিন নামে একজন ব্যক্তি এসব অনিয়মের অভিযোগ এনে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ঢাকাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সামছুদ্দিন হচ্ছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে সিট বাণিজ্য মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের জন্য একটি আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের হাসপাতালে ভর্তি হতে অসুস্থ হওয়া বা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণের প্রয়োজন হয় না; বরং প্রতি মাসে ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা দিতে হয়। অভিযোগের দাবি, কেউ যদি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তাহলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের সিট বাণিজ্যের মাধ্যমেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কারাগারের আরেকটি অনিয়মের অভিযোগ সাক্ষাৎ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। কারাবিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হলে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে অর্থের বিনিময়ে সেই নিয়ম উপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়া হয়। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিলেই বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া যায় এবং প্রতিদিন অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি এ সুবিধা পেয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কারাগারের খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই অভিযোগ রয়েছে। বন্দিদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করার পাশাপাশি ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, ক্যান্টিনের বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকারি খাদ্যনীতির যথাযথ অনুসরণ করা হয় না এবং বন্দিদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইরে যখন কাঁচা মরিচের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা, তখন ক্যান্টিনে ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। একইভাবে বাজারে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা থাকলেও ক্যান্টিনে ১ কেজি পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়। অভিযোগে এও বলা হয়েছে, খাবারসহ অন্যান্য পণ্যে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জেল সুপার মুজিবুর রহমান, সুবেদার বিলাল, সুবেদার মিজান, প্রধান রক্ষী ইকবালসহ একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগকারী সামছুদ্দিন বলেন, কারাগারের ভেতরে এমন কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি নেই, যা ঘটে না। টাকা দিলে সবকিছু মেলে। সিট বাণিজ্য, ওয়ার্ড বাণিজ্য, মোবাইল কল বাণিজ্য, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, বন্দিদের খাবার চড়া দামে বিক্রি এবং প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।

জাকির হাসান নামে জেল ফেরত এক যুবক জানান, সম্প্রতি আমি একটি রাজনৈতিক মামলায় দেড় বছর হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলাম। সেখানকার খাবারের মান এতটাই খারাপ ছিল যে তা খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু টাকা দিলে জেলে বাসাবাড়ির মতো আরামেও থাকা যায়।

হাবিব মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ জানান, কারাগারের ভেতরে কর্তৃপক্ষের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের অনিয়ম সেখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। কেউ যদি প্রতিবাদ করে, তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%