ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কম খরচে নিখুঁত ও প্রাণঘাতী হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র


কম খরচে নিখুঁত ও প্রাণঘাতী হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র খাইবার শেকান। এটি তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি করা যায়, সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায় এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতার কারণে তেহরানের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রায় ৯০০ মাইল পাল্লার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাম্প্রতিক একাধিক জটিল হামলায় ব্যবহার করছে ইরান।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে খাইবার শেকান নিক্ষেপ করছে ইরান। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত করতে একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন গতিপথ, গতি ও আক্রমণ কৌশলের সমন্বয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘাত চলাকালে ছোড়া অধিকাংশ খাইবার শেকান যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পুরোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি ভরতে হতো। কিন্তু খাইবার শেকান আগে থেকেই জ্বালানিপূর্ণ অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। প্রয়োজন হলে এটি দ্রুত ট্রাক বা মোবাইল লঞ্চারে তুলে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। মার্কিন বা ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের নজর এড়িয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল রাখা এই ব্যবস্থা নেওয়ার একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, খাইবার শেকানের কিছু সংস্করণে সামনের অংশে ছোট ইঞ্জিনসংবলিত ওয়ারহেড রয়েছে। উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে বিস্ফোরকবাহী এই অংশটি মূল ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার মাইল বেগে ছুটতে ছুটতে নিজস্ব গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

সাধারণভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মহাকাশ বা ঊর্ধ্বাকাশে উঠে সেখান থেকে তীব্র গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। তবে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে না। খাইবার শেকান নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাডারের নজর এড়ানো এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য এটি অন্যান্য অনেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ইরান তাদের আক্রমণ কৌশলে পরিবর্তন আনছে। স্যাটেলাইটনির্দেশিত খাইবার শেকান দিয়ে যে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হচ্ছে, একই জায়গায় উচ্চগতির আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং অপেক্ষাকৃত কম আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করছে তেহরান।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ রাডারগুলো বারবার ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত আর্মি জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ইরান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে এবং প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নতুন নতুন কৌশল তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ইরানের ড্রোন সক্ষমতা অত্যন্ত উন্নত। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে এই খাতে তাদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজার খাইবার শেকান ও অন্যান্য মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। স্বাধীন ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হিঞ্জের ধারণা, ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ইরান নতুন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে থাকতে পারে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিকোল গ্রাজিউস্কির মতে, যুদ্ধ চলাকালেই ইরান উপলব্ধি করেছে যে খাইবার শেকান তাদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র। কারণ এটি তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায়, বিভিন্ন ধরনের উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতাও বেশি।

ইসরায়েলের দিকেও খাইবার শেকান নিক্ষেপ করেছে ইরান। যদিও ইসরায়েলের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই তারা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরেও হামলা চালিয়েছে। গত মাসে জেটচালিত ড্রোনের পাশাপাশি খাইবার শেকান ব্যবহার করে নতুন দফা হামলার ঘোষণাও দেয় তেহরান। তবে সেই হামলার ফলাফল স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ঐতিহাসিক খাইবার যুদ্ধের স্মরণে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম রাখা হয়েছে। ৬২৮ সালে আরবের খাইবার মরূদ্যান মুসলিম বাহিনীর দখলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ নামকরণ করা হয়েছে।

একটি খাইবার শেকান তৈরিতে ঠিক কত ব্যয় হয়, তা প্রকাশ করেনি ইরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করে, সেগুলো তুলনায় খাইবার শেকান অনেক কম ব্যয়বহুল। ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধরনভেদে একটি মার্কিন বা ইসরায়েলি ইন্টারসেপ্টরের মূল্য ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ফ্যাবিয়ান হিঞ্জের মতে, আগের হামলাগুলোর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ইরান এখন ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে শত্রুর প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ করা যায়।

তার ভাষায়, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নতুন তথ্য দেয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে কোন কৌশল সবচেয়ে কার্যকর, তা পর্যবেক্ষণ করে ইরান তাদের সক্ষমতা আরও উন্নত করছে। তিনি বলেন, তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে খাইবার শেকান উড্ডয়নের একেবারে শেষ মুহূর্তেও গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জ জেলা কারাগার অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


হবিগঞ্জ জেলা কারাগার অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে!

হবিগঞ্জ জেলা কারাগার অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে-এমন অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমানসহ একটি সিন্ডিকেট বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিট বাণিজ্য, ওয়ার্ড বাণিজ্য, মোবাইল কল বাণিজ্য, সাক্ষাৎ বাণিজ্য এবং বন্দিদের খাবার চড়া দামে ক্যান্টিনে বিক্রির মত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি, জেল ফেরত মো. সামছুদ্দিন নামে একজন ব্যক্তি এসব অনিয়মের অভিযোগ এনে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ঢাকাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সামছুদ্দিন হচ্ছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে সিট বাণিজ্য মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের জন্য একটি আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের হাসপাতালে ভর্তি হতে অসুস্থ হওয়া বা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণের প্রয়োজন হয় না; বরং প্রতি মাসে ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা দিতে হয়। অভিযোগের দাবি, কেউ যদি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তাহলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের সিট বাণিজ্যের মাধ্যমেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কারাগারের আরেকটি অনিয়মের অভিযোগ সাক্ষাৎ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। কারাবিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হলে কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে অর্থের বিনিময়ে সেই নিয়ম উপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়া হয়। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিলেই বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া যায় এবং প্রতিদিন অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি এ সুবিধা পেয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কারাগারের খাবার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই অভিযোগ রয়েছে। বন্দিদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করার পাশাপাশি ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, ক্যান্টিনের বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকারি খাদ্যনীতির যথাযথ অনুসরণ করা হয় না এবং বন্দিদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইরে যখন কাঁচা মরিচের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা, তখন ক্যান্টিনে ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। একইভাবে বাজারে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা থাকলেও ক্যান্টিনে ১ কেজি পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়। অভিযোগে এও বলা হয়েছে, খাবারসহ অন্যান্য পণ্যে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জেল সুপার মুজিবুর রহমান, সুবেদার বিলাল, সুবেদার মিজান, প্রধান রক্ষী ইকবালসহ একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগকারী সামছুদ্দিন বলেন, কারাগারের ভেতরে এমন কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি নেই, যা ঘটে না। টাকা দিলে সবকিছু মেলে। সিট বাণিজ্য, ওয়ার্ড বাণিজ্য, মোবাইল কল বাণিজ্য, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, বন্দিদের খাবার চড়া দামে বিক্রি এবং প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।

জাকির হাসান নামে জেল ফেরত এক যুবক জানান, সম্প্রতি আমি একটি রাজনৈতিক মামলায় দেড় বছর হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলাম। সেখানকার খাবারের মান এতটাই খারাপ ছিল যে তা খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু টাকা দিলে জেলে বাসাবাড়ির মতো আরামেও থাকা যায়।

হাবিব মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ জানান, কারাগারের ভেতরে কর্তৃপক্ষের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের অনিয়ম সেখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। কেউ যদি প্রতিবাদ করে, তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের ম্যাচের সূচি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের ম্যাচের সূচি ঘোষণা

আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যস্ত সময় কাটাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘এ’ দলকে নিয়ে পরিচালিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দুইটি চারদিনের ম্যাচও খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই সফরের বিস্তারিত সময়সূচিও ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা।

জানা গেছে, আগামী ২৭ জুলাই মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষ করার পর বাংলাদেশ দল দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। সেখানে পৌঁছে ২৮ ও ২৯ জুলাই অনুশীলনের মাধ্যমে সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে ক্রিকেটাররা।

এরপর ১ আগস্ট স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ৩ ও ৭ আগস্ট দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্র ‘এ’ দলের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে তারা।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৯ আগস্ট আবারও সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ফাইনালে ১২ আগস্ট শিরোপার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর শুরু হবে লাল বলের চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিরুদ্ধে প্রথম চারদিনের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ আগস্ট, এবং দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি মাঠে নামবে ২৩ আগস্ট। পুরো সফর শেষে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ২৭ আগস্ট দেশে ফিরে আসবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক লাঞ্ছিত, জুতার মালা পরিয়ে মারধর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক লাঞ্ছিত, জুতার মালা পরিয়ে মারধর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোবরডাঙা হিন্দু কলেজের ভূগোল বিভাগের খণ্ডকালীন প্রভাষক সন্দীপ দত্তকে যৌন হয়রানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগে জুতার মালা পরিয়ে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরিয়েছে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা তাকে ঘোরানোর পাশাপাশি ঝাঁটা পেটা করে এবং তার দিকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গোবরডাঙা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

কলেজটির এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে বারবার ফোনে উত্যক্ত করতেন এবং অশালীন প্রস্তাব দিতেন। শিক্ষক তাকে বিনামূল্যে তার বাড়িতে একা টিউশন পড়ানোর প্রস্তাব দেন এবং তার সঙ্গে একটি ‘ভালো সম্পর্ক’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি তার সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেই। সম্প্রতি তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমি যদি টিউশনের জন্য তার বাড়িতে না যাই, তবে তিনি আমাকে ফেল করিয়ে দেবেন। এরপরই অভিযোগ জানাতে গোবরডাঙা থানায় যাই।

বিষয়টি কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে অবহিত করলে তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্যাম্পাসে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরায়।

শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে ঝাড়ু পেটা করে এবং তার দিকে ডিম ছুড়ে।

অভিযোগ করে আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, এই শিক্ষক নারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলতেন, তারা যেখানে ইচ্ছা গিয়ে অভিযোগ দিতে। এতে তার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে নেওয়ার সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা ঘিরে রেখেছে। এ সময় তার দিকে ডিম ছোড়া হয় এবং জুতার মালা পরতে বাধ্য করা হয়। এরপরই শিক্ষার্থীরা তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, আমরা তার শাস্তি চাই এবং কলেজ থেকে অপসারণের দাবি জানাই।

শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ মেশানোর ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ মেশানোর ঘটনা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরের যৌথবাহিনীর ক্যাম্পের পানিতে বিষ মেশানোর ঘটনা ঘটে গেছে। বিষের পানি পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে, এমনটাও জানা গেছে।

পুলিশের তরফ থেকে জানা যায়, যে জায়গায় বিষ মেশানো হয়েছে, সেখান থেকে বিষের একটি খালি কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আজ সকালে পানিতে ফেনা ও দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। পানির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি দুর্গন্ধ পেয়ে পানির ট্যাংক খোলেন, তখন ফেনাও ভাসতে দেখা যায়।

তিনি দ্রুতভাবে সব বাহিনীকে সতর্ক করেছেন যাতে তারা পানির ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন। এরপর আমাদেরও একটি টিম গিয়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং টেনে নেওয়া পানির লাইনের একটি জায়গায় বিষের খালি কৌটা পাওয়া গেছে।

এ দিকে, এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ আলম বলেন, এটি একটি অন্তর্ঘাতমূলক অপরাধ এবং মামলা দায়ের করা হবে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর আলীনগর এলাকায় বসবাসকারী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যেই পানি পান করেন, রোববার সকালে সে পানি গ্লাসে নিয়ে দেখা যায়, তাতে সাদা ফেনা এবং বিষাক্ত গন্ধ ছিল। বিষয়টি দেখে পুলিশ সদস্যরা পানি পান না করার সিদ্ধান্ত নেন, ফলে কারও বিপদ ঘটেনি।

প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত এবং প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত করার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সেখানে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। কিছু দিন আগে ক্যাম্পে গুলি চালিয়ে স্থাপনাগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছয়টি সড়ক নির্মাণের কাজ করছে, যাতে প্রশাসনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ঘটে এবং সন্ত্রাসীরা ফিরে আসতে না পারে।

অথএব, যৌথবাহিনীর পানিতে বিষ মেশানোর ঘটনা জঙ্গল সলিমপুর থেকে প্রশাসনকে উচ্ছেদ প্রয়াসের অংশ বলে জানা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%