০৪:২৭ এম
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নকল করার চেষ্টা করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। এই হামলা ও সংঘর্ষের কারণে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চরফ্যাশন থানায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন। গতকাল শনিবার রাতে চেয়ে চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এটি ঘটেছিল শনিবার দিনেই, যখন চরফ্যাশন উপজেলা শহরের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা সংঘটিত হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছিল। শনিবার তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে যখন পরীক্ষা শুরু হয়, তখন কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষে, কেন্দ্রটির ৩০৪ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, তাদের প্রশ্ন কমন পড়েনি।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এরপর শিক্ষার্থীরা নকলের চেষ্টা করতে গেলেন, তখন কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীরা নকল করার সুযোগের দাবি জানান এবং কক্ষের শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন। পরীক্ষা শেষে, দুপুর ১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা একযোগে কলেজের পকেট গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে কলেজে পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী ৭ জন শিক্ষকসহ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আহত হন।
এ ঘটনায়, পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করে এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে, এজাহারে তা উল্লেখ করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে থানায় শতাধিক অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন