প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের ডহরশংকর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে স্থানীয়রা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। বর্তমানে কাজ বন্ধই রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থের মাধ্যমে নির্মাণাধীন সেতুর কাজের শুরু থেকেই নানা ধরনের অনিয়ম চলছে। বিভিন্ন নকশা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড উপেক্ষা করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার ফলে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সেতুর পাইলিংয়ে নির্ধারিত ৬০ ফুটের পরিবর্তে মাত্র ১৫ ফুট পাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্ল্যাক স্টোনের পরিবর্তে হোয়াইট স্টোন, সিলেটি বালুর পরিবর্তে স্থানীয় বালু এবং ২০ মিলিমিটার রডের পরিবর্তে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হচ্ছে।
তারা আরও জানান, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পানির নিচে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যা নির্মাণকাজের মান নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শুধুমাত্র তা নয়, কাজের সময় উপজেলা প্রকৌশলীর প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়রা দাবি করেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দিলে ঠিকাদার ঘটনাস্থলে এসে উল্টো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং একইভাবে কাজ সম্পন্ন করবেন বলে হুমকি দেন। ফলে এলাকাবাসীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটছে এবং জননিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে নির্মাণকাজের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এই সেতুর কাজ শুরু করিনি। ঠিকাদার কেন আমাদের না জানিয়ে কাজ শুরু করেছেন, তা নিয়ে তাকে নোটিশ দিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
ওই কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবুল বাসার বলেন, ব্রিজের কাজের আদেশ অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল। যার মেয়াদ গত ১৫ জুন শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে এবং আমাদের না জানিয়ে কাজ শুরু করেছেন। আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। উপজেলা প্রকৌশলীর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ও তদারকি ছাড়াই কীভাবে সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরু হলো এবং কার ছত্রছায়ায় তা এতদিন চলতে থাকল।
এই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার রাজাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মৃধা প্রকৌশলীদের বক্তব্য অসত্য দাবি করে জানান, কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে আমরা মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছি এবং আমরা আরও তিন মাস সময় পাবো। কাজের লে-আউট করার সময় এসও আবুল বাসার উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাজ কেউ বন্ধ করেনি। ভারী বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমরা কাজ করিনি। রোববার ব্রিজের পাইল বসানো হবে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে। এসে দেখে যাইয়েন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন