বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা কিছু বিশেষায়িত ওষুধে শতভাগ শুল্ক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শূন্য শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ ও অঞ্চলের তালিকা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এই সুবিধা কার্যকর হতে যাচ্ছে যোগ্য পণ্যের জন্য। তবে উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সব ওষুধ এই শুল্ক ছাড়ের আওতায় পড়বে না।
সরকারি নথি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইনকে একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাড়ের আওতায় রয়েছে বিরল রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তরস থেকে তৈরি চিকিৎসাপণ্য, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং সেল ও জিন থেরাপির পণ্য। তালিকায় কিছু অ্যান্টিবডিভিত্তিক ওষুধ ও পশুচিকিৎসার পণ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত এপ্রিলের ঘোষণায় নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তালিকাভুক্ত বিশেষায়িত পণ্যগুলোর জন্য শূন্য শুল্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ওই নির্দিষ্ট শুল্ক প্রযোজ্য নয়। কোনো পণ্য নতুন ছাড় পাবে কি না, তা বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ধরন ও শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
এই প্রকল্প অনুমোদনের সংবাদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
তথ্য সংগ্রহ করে জানা গেছে, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রকল্পের অনুমোদন নোয়াখালীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদী ভাঙন, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এর ফলে ছোট ফেনী নদী ও আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পরে রেগুলেটরটি পুনর্নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে, ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বর্তমানে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে। এর আগে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে, যা বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক জানানো হয়।
মঙ্গলবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমানোর কারণে এই দাম কমানো হয়েছে।
এর আগে, ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর দাম কমানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। বর্তমানে আবার দাম কমানোর ফলে, তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমেছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।
সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৪ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সদ্যোজাত শিশু সাধারণত অনেক সময় ঘুমায়, খায় এবং আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তাই দুধ খাওয়ার সময় সামান্য বিরতি নেওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়াকে অনেক অভিভাবক স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন। কিন্তু দুধ খাওয়ার সময় বারবার হাঁপিয়ে যাওয়া, কিছুক্ষণ পরপর খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া কিংবা কপালে ঘাম দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এই লক্ষণগুলো শিশুর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
জন্মের সময় যদি কোনো শারীরিক সমস্যা ধরা না পড়ে, তবুও পরে শিশুর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। বিশেষ করে জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে কিছু লক্ষণ ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে। তাই শিশুর খাওয়ানো, ঘুম, ওজন বাড়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে অভিভাবকদের নজর রাখা জরুরি।
দুধ খাওয়ার সময় কেন হাঁপিয়ে যায় শিশু?
শিশুর হৃদ্যন্ত্রে জন্মগত কোনো সমস্যা থাকলে দুধ খাওয়ার সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র বা রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
এমন শিশুরা অল্প সময় দুধ খাওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ দুধ খেয়ে আবার থেমে যায়, পরে আবার খেতে শুরু করে। ক্ষুধা পুরোপুরি না মেটায় কিছুক্ষণ পর আবার কান্না করতে পারে। দুধ খাওয়ার সময় শ্বাসকষ্ট ও কপালে ঘামও দেখা দিতে পারে।
যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন
শিশুর হৃদ্যন্ত্রে সমস্যা থাকলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
মা যদি গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে শিশুর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে। এমন শিশুর শরীরের হাত-পা তুলনামূলকভাবে বড় হলেও বয়স অনুযায়ী সামগ্রিক বৃদ্ধি ঠিকমতো নাও হতে পারে।
হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র থাকলে সমস্যা বাড়ে
শিশুর হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র বা রক্ত চলাচলের ত্রুটি থাকলে দুধ খাওয়ার সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃদ্যন্ত্রের দুই প্রকোষ্ঠের মাঝখানে ছিদ্র, হৃদ্যন্ত্রের বড় রক্তনালির সংযোগজনিত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো জন্মগত ত্রুটির কারণে ফুসফুসে অতিরিক্ত রক্ত যেতে পারে।
এতে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ে এবং শিশুর হৃদ্যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে দুধ খাওয়ার সময় অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, ঘুমিয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দুধ খাওয়ানোর সময় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
শিশু কিছুটা দুধ খাওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে দুধ ছেড়ে দিচ্ছে, আবার কিছুক্ষণ পর ক্ষুধার কারণে দুধ খেতে চাইছে—এ ধরনের ধারাবাহিকতা দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্বাভাবিকভাবে শিশু একটানা দুধ খেয়ে তৃপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বারবার দুধ খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং আবার দুধ খাওয়ার এই চক্র চলতে থাকলে তা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে কপালে ঘাম বা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
জন্মের পরপরই সব সমস্যা বোঝা যায় না
শিশুর হৃদ্যন্ত্রের জন্মগত সমস্যা সব সময় জন্মের পরপরই ধরা পড়ে না। জন্মের সময় ফুসফুসের ধমনিতে চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। পরে ধীরে ধীরে এই চাপ কমতে শুরু করলে হৃদ্যন্ত্রের কিছু সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
এ কারণে জন্মের প্রায় দেড় মাস পর থেকে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে লক্ষণ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে। সাধারণত ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে কিছু সমস্যার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
যেসব হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা হতে পারে
শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হৃদ্যন্ত্রের নিচের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র, ওপরের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র এবং জন্মের পর বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকা একটি রক্তনালি খোলা থেকে যাওয়া।
এছাড়া কিছু শিশুর নীলাভ হৃদ্যন্ত্রের রোগও থাকতে পারে। এর একটি জটিল ধরনে একই সঙ্গে চার ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। এতে হৃদ্যন্ত্রের নিচের দুই প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে ছিদ্র, ফুসফুসে রক্ত যাওয়ার পথ সরু হয়ে যাওয়া, হৃদ্যন্ত্রের ডান পাশের পেশি মোটা হয়ে যাওয়া এবং মহাধমনির অবস্থানে ত্রুটি থাকতে পারে।
শিশুর শরীর নীল হলে সতর্ক
হৃদ্যন্ত্রের কিছু সমস্যায় শিশুর জিহ্বার নিচে, ঠোঁটে কিংবা নখের কাছে নীলচে বা কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। আবার প্রচণ্ড কান্নার সময় পুরো শরীর নীল হয়ে যেতে পারে।
কখনো কান্না বা ঘুম থেকে ওঠার পর খিঁচুনি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও তৈরি হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
শিশুর ওজন ঠিকমতো না বাড়লে, দুধ খাওয়ার সময় বারবার হাঁপিয়ে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, অস্বাভাবিক ঘাম হলে কিংবা ঠোঁট ও জিহ্বা নীলচে হয়ে গেলে দেরি না করে শিশুর চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনে হৃদ্যন্ত্রের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হতে পারে। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।
জন্মের পর পরীক্ষা করলে আগেই ধরা পড়ে
জন্মের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে শিশুর হৃদ্যন্ত্র পরীক্ষা করানো উপকারী হতে পারে। কোনো লক্ষণ না থাকলেও পরীক্ষা করলে কিছু জন্মগত সমস্যা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
তবে সব জায়গায় একই ধরনের পরীক্ষা করার সুযোগ নাও থাকতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসক স্টেথোস্কোপ দিয়ে শিশুর হৃদ্যন্ত্রের শব্দ শুনেও অনেক অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। পরে প্রয়োজন হলে আরও পরীক্ষা করা হয়।
শিশুর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব। তাই দুধ খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক হাঁপিয়ে যাওয়া, বারবার থেমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, ওজন না বাড়া বা শরীর নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণকে সাধারণ বিষয় ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নতুন ডিজাইনের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হয়েছে।
ফ্লোরিডা সড়ক নিরাপত্তা ও মোটরযান বিভাগ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন ডিজাইনের পরিচয়পত্রগুলো প্রদান করতে শুরু করবে।
নতুন কার্ডে ফ্লোরিডার ইতিহাস, প্রকৃতি এবং মহাকাশ গবেষণার বিভিন্ন প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কার্ডের সামনের দিকে সেন্ট অগাস্টিনের ঐতিহাসিক দুর্গ ‘কাস্তিয়ো দে সান মার্কোস’-এর চিত্র রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রাচীনতম পাথরের দুর্গ হিসেবে পরিচিত।
ফ্লোরিডার পরিচিত কমলাকে ‘ফ্লোরিডা’ শব্দের ‘ও’ অক্ষরের ডিজাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কার্ডের নিচের বাম কোণে অঙ্গরাজ্যটির একটি পরিচিত স্থানীয় প্রাণী মানাটির ছবি রয়েছে। উপরের ডান কোণে পরিচয়পত্রের নিরাপত্তা চিহ্নের মধ্যে ফ্লোরিডার প্রতীকী প্রাণী অ্যালিগেটরের ছবি স্থান পেয়েছে।
কার্ডের পেছনের দিকে ফ্লোরিডার মহাকাশ উপকূলের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মহাকাশযান ডিসকভারির ছবি রয়েছে, যা ৩৯টি অভিযানে অংশ নিয়ে মহাকাশে মোট ৩৬৫ দিন কাটিয়েছে। এটি ২০১১ সালের ৯ মার্চ ফ্লোরিডায় শেষবারের মতো অবতরণ করে।
নতুন পরিচয়পত্রে ফ্লোরিডার প্রথম অনানুষ্ঠানিক অঙ্গরাজ্য পতাকা থেকে নেওয়া ‘লেট আস অ্যালোন’ অর্থাৎ ‘আমাদের একা থাকতে দিন’—এই মূলমন্ত্রও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফ্লোরিডার তৎকালীন গভর্নর উইলিয়াম ডি. মোসলির অভিষেকের সময় ওই পতাকা উপহার দেওয়া হয়েছিল।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস রাজধানীতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র চালুর বিষয়টি ঘোষণা করেন।
নতুন ডিজাইনের পাশাপাশি পরিচয়পত্রের নিরাপত্তা বাড়াতে অঙ্গরাজ্যের সিলের একটি বিশেষ ছবি যুক্ত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বাণিজ্যিক শিক্ষানবিশ অনুমতিপত্রে ‘অস্থায়ী অনাবাসী’ চিহ্নও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ফ্লোরিডা সড়ক নিরাপত্তা ও মোটরযান বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ডেভ কার্নার বলেন, নতুন ডিজাইনের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা আরও উন্নত করা হয়েছে। জালিয়াতির নতুন প্রবণতা মোকাবিলা এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পরিচয় যাচাই আরও শক্তিশালী করার জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তবে নতুন কার্ড পেতে পুরোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র এখনই পরিবর্তন করতে হবে না। বর্তমানে বৈধ পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। পরে ধীরে ধীরে পুরোনো কার্ডের পরিবর্তে নতুন ডিজাইনের কার্ড দেওয়া হবে।
অনলাইনে নবায়নের ক্ষেত্রে নতুন ডিজাইনের কার্ড পাওয়ার সুবিধা ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ নাগাদ চালু হবে।
সূত্র: নাওকাস্ট ওয়েস্ট ২ নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ