ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনা রাষ্ট্রদূত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর সম্পূর্ণ সফল


চীনা রাষ্ট্রদূত: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর সম্পূর্ণ সফল

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর সম্পূর্ণভাবেই সফল হয়েছে।

তিনি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বারিধারায় ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। চীন তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীন আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে নতুন বিকল্প নিয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে চীন-বাংলাদেশ সরাসরি সংযোগ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের নেতাদের অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে ৫ বছরে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ পি.এম


মিয়ানমারে ৫ বছরে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্ট (একলেড)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

একলেডের হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটির সংঘাতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে অন্তত এক লাখ ১১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সান মন থান বলেন, সংঘাতটি এখন পুরো মিয়ানমারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব থাকলেও এই সংঘাত বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ ও সক্রিয় সশস্ত্র সংঘাতগুলোর একটি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলেও কঠোর দমন-পীড়নের মুখে বহু আন্দোলনকারী শহর ছেড়ে দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নেন। সেখানে তারা গেরিলা বাহিনী গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে লড়াইরত বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে নিজেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। বিরোধীদের বর্জনের মধ্যে আয়োজিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি এই পদে আসীন হলেও আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো নির্বাচনটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে স্বীকৃতি দেয়নি। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোও তার শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে চরম দারিদ্র্যের প্রভাবের কারণে প্রতি পাঁচজন নাগরিকের একজন খাদ্যসংকটে রয়েছেন। বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে প্রায়ই গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটছে, আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।

একলেড জানিয়েছে, গত বছর বিশ্বের সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোর তালিকায় ফিলিস্তিনের পরেই মিয়ানমার। দেশটির সংঘাতে বর্তমানে এক হাজার ২০০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় থাকায় এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে খণ্ডিত সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীদের বড় ধরনের অভিযানে সেনাবাহিনী চাপে পড়লেও পরে চীনের রাজনৈতিক সমর্থন এবং বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় কয়েকটি শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় জান্তা সরকার কিছুটা কৌশলগত সুবিধা ফিরে পেয়েছে।

অন্যদিকে সেনাবাহিনীর জনবল বাড়াতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ৫০ হাজার নাগরিককে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

চলমান এই সংঘাতের প্রভাব শুধু মিয়ানমারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিচ্ছেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধও বেড়ে চলেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত ১০, আহত অর্ধশতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত ১০, আহত অর্ধশতাধিক

রাশিয়া কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলাটির সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর হবে এবং এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর উঠে এসেছে। এই তথ্যটি রয়টার্সের মাধ্যমে এসেছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের অন্তত ছয়টি তলা ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনও মানুষ আটকে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। উদ্ধারকর্মীরা ভোর থেকেই মহামারীর ব্যাপকতা আশঙ্কা করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন।

রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। জানানো হয়েছে, শহরের অন্তত ৩৬টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। তিমুর তকাচেঙ্কো অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এদিকে, হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ হামলার সতর্কতা দিয়েছিলেন। এর কারণে তিনি আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। হামলার পর তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান যে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা উচিত।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন যে, রাতভর ৩২৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

যুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডেও হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, লেনিনগ্রাদ ও বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি, ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়াতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এদিকে, ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান চার বছরেরও বেশি সময়ের যুদ্ধ অবসানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, তবে ক্রেমলিন এখন পর্যন্ত সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকআউটে গোল ও লাল কার্ডের ইতিহাসে চতুর্থ ফোলারিন বালোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


নকআউটে গোল ও লাল কার্ডের ইতিহাসে চতুর্থ ফোলারিন বালোগান

সান ফ্রান্সিসকোর ঘটনাক্রমে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে এক নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উক্ত ম্যাচে তিনি দারুণ এক গোল করে নিজের দলের জয়ের ভিত তৈরি করলেও, ৬৫তম মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই কারণে ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য কিন্তু অবাঞ্ছিত রেকর্ডে গ্যালারিতে নিজের নাম লিখিয়েছেন বালোগান, যেখানে তার নামের সাথে অন্যান্য কিংবদন্তিরাও রয়েছেন যেমন জিনেদিন জিদান, রোনালদিনহো এবং গারিঞ্চা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে সান ফ্রান্সিসকোর মাঠে তিনি দুর্দান্ত এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। বিরতির পরেও যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচটি ২-০ গোলের দাপটের মাধ্যমে জয়ের পথে থাকে, তবে তাদের ১০ জনের দল হয়ে খেলতে হয়েছে ম্যাচের প্রায় আধঘণ্টারও বেশি সময়। ৬১তম মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার মুহারেমোভিচের সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষের কারণে বালোগানকে মাঠ ছাড়তে হয়। রেফারি মাঠের উত্তেজনা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ভিএআরের সাহায্য নেন এবং দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৬৫তম মিনিটে বালোগানকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। এই লাল কার্ডের মাধ্যমে বালোগান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে গোল করার পাশাপাশি লাল কার্ড দেখার জন্য বিশ্বের মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এর আগে আরও একটি নাটকীয় ঘটনাস্থল মিলেছিল ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনালে। সেবার ইতালির বিরুদ্ধে গোল করার পর অতিরিক্ত সময়ে মেটারাজ্জিকে ঢুস মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন ফ্রান্সের মহানায়ক জিনেদিন জিদান, যে ম্যাচটি টাইব্রেকারে হারিয়ে যেত। তারও চার বছর আগে, ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক গোলের পরে ৫৭ মিনিটে লাল কার্ড পেয়েছিলেন ব্রাজিলের জাদুকর রোনালদিনহো।

এবং এই তালিকার প্রথম নামটি ছিল ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপের, যেখানে চিলির সঙ্গে সেমিফাইনালে জোড়া গোল করার পরে ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৬ মিনিট আগে লাল কার্ড পেয়েছিলেন ওল্ড নর্স ধাঁচের ড্রিবলিং মাস্টার গারিঞ্চা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংস্কারের মধ্যেই খুলনায় বেড়িবাঁধে ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


সংস্কারের মধ্যেই খুলনায় বেড়িবাঁধে ধস

 

কপোতাক্ষ তীরবর্তী উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে, যেখানে বাঁধের পাশ থেকে মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঝুঁকিতে থাকা খুলনার কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ তীরবর্তী উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ভেতরে লোনা পানি উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ অপসারণ না করেই কাজ চলছে। এর ফলস্বরূপ প্রকল্পটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় এরই মধ্যে পাইপসংলগ্ন দুটি স্থানে ধস নেমেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া থেকে হোগলা অভিমুখে কপোতাক্ষ নদসংলগ্ন ২৪০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। এটি অনুন্নত রাজস্ব খাত (এনডিআর) প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হল মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোং। কাজের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি কাজের সূচনা হয়েছে এবং এটি শেষ হওয়ার কথা ২০ জুলাই।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সংস্কারকাজের সময় বেড়িবাঁধের পাশে থেকেই মাটি কাটা হচ্ছে। যা ঢাল সংরক্ষণে ব্যবহৃত কয়েকটি জিও ব্যাগে কাদাযুক্ত ও অপর্যাপ্ত বালি ভরা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ছোট ছোট মৎস্য ঘেরে সরাসরি নদ থেকে পানি তোলার কারণে বাঁধের কয়েকটি স্থান সংস্কারের পরও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের দাবি, বাঁধের পাইপ অপসারণ করার মাধ্যমে মজবুত বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার কয়রায় বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে ও পাইপ ঢুকিয়ে লোনা পানি উঠিয়ে ঘের ব্যবসা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা সারা বছর নদী থেকে অবাধে নোনা পানি তুলে চিংড়ি চাষ করছেন।

মহারাজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধের ওই এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটারে ৩০-৩৫টি পাইপ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ ছিদ্র করে এসব পাইপের মাধ্যমে নদ থেকে লোনা পানি মাছের ঘেরে তোলা হয়। জোয়ার-ভাটার সময় পাইপের চারপাশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় মাটি সরে গিয়ে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। অতীতে কয়েকবার বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বেড়িবাঁধের ভেতরে থাকা চারটি পাইপসহ সমস্ত পাইপ অপসারণ করা দরকার। সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হবে।’

সরজমিনে দেখা গেছে, সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটারের মধ্যে লোনা পানি ওঠা-নামার জন্য তিনটি পাইপ রয়েছে। অন্য অংশে একটি পাইপ রয়েছে। এই পাইপগুলো অপসারণ না করেই বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। পাইপসংলগ্ন কয়েকটি স্থানে এরই মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে একটি স্থানে বড় ধরনের ধস নেমেছে এবং মাটি নদে পড়েছে। সেখানে জিও ব্যাগ ও বাঁশের পাইলিং দিয়ে সাময়িকভাবে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের চরে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। বাঁধের পাশ থেকেই মাটি কেটে সংস্কারকাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাঁধের ঢালও তৈরি করা হয়েছে খাড়া করে।

এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পলাশ দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই বেড়িবাঁধের সংস্কারকাজ চলছে। তার মতে, পাইপের কারণে সংস্কারের পরও বেড়িবাঁধের কিছু অংশ ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হচ্ছে।

পাউবোর কয়রা উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোলাইমান হোসেন জানিয়েছেন, ‘সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিকাদারের মাধ্যমে পুনরায় মেরামত করা হচ্ছে।’ তিনি আরো জানান, যারা অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ কেটে বা ছিদ্র করে নোনা পানির চিংড়ি চাষ করছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাপ্তরিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। দ্রুত বেড়িবাঁধের অবৈধ পাইপ অপসারণ করা হবে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘দুর্যোগপ্রবণ এলাকার উন্নয়নে সরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধে ধসের বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ঘের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%