বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৫১ পি.এম
সান ফ্রান্সিসকোর ঘটনাক্রমে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে এক নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উক্ত ম্যাচে তিনি দারুণ এক গোল করে নিজের দলের জয়ের ভিত তৈরি করলেও, ৬৫তম মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই কারণে ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য কিন্তু অবাঞ্ছিত রেকর্ডে গ্যালারিতে নিজের নাম লিখিয়েছেন বালোগান, যেখানে তার নামের সাথে অন্যান্য কিংবদন্তিরাও রয়েছেন যেমন জিনেদিন জিদান, রোনালদিনহো এবং গারিঞ্চা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সান ফ্রান্সিসকোর মাঠে তিনি দুর্দান্ত এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। বিরতির পরেও যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচটি ২-০ গোলের দাপটের মাধ্যমে জয়ের পথে থাকে, তবে তাদের ১০ জনের দল হয়ে খেলতে হয়েছে ম্যাচের প্রায় আধঘণ্টারও বেশি সময়। ৬১তম মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার মুহারেমোভিচের সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষের কারণে বালোগানকে মাঠ ছাড়তে হয়। রেফারি মাঠের উত্তেজনা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ভিএআরের সাহায্য নেন এবং দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৬৫তম মিনিটে বালোগানকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। এই লাল কার্ডের মাধ্যমে বালোগান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে গোল করার পাশাপাশি লাল কার্ড দেখার জন্য বিশ্বের মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এর আগে আরও একটি নাটকীয় ঘটনাস্থল মিলেছিল ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনালে। সেবার ইতালির বিরুদ্ধে গোল করার পর অতিরিক্ত সময়ে মেটারাজ্জিকে ঢুস মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন ফ্রান্সের মহানায়ক জিনেদিন জিদান, যে ম্যাচটি টাইব্রেকারে হারিয়ে যেত। তারও চার বছর আগে, ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক গোলের পরে ৫৭ মিনিটে লাল কার্ড পেয়েছিলেন ব্রাজিলের জাদুকর রোনালদিনহো।
এবং এই তালিকার প্রথম নামটি ছিল ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপের, যেখানে চিলির সঙ্গে সেমিফাইনালে জোড়া গোল করার পরে ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৬ মিনিট আগে লাল কার্ড পেয়েছিলেন ওল্ড নর্স ধাঁচের ড্রিবলিং মাস্টার গারিঞ্চা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কপোতাক্ষ তীরবর্তী উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে, যেখানে বাঁধের পাশ থেকে মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঝুঁকিতে থাকা খুলনার কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ তীরবর্তী উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ভেতরে লোনা পানি উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ অপসারণ না করেই কাজ চলছে। এর ফলস্বরূপ প্রকল্পটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় এরই মধ্যে পাইপসংলগ্ন দুটি স্থানে ধস নেমেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া থেকে হোগলা অভিমুখে কপোতাক্ষ নদসংলগ্ন ২৪০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। এটি অনুন্নত রাজস্ব খাত (এনডিআর) প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হল মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোং। কাজের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি কাজের সূচনা হয়েছে এবং এটি শেষ হওয়ার কথা ২০ জুলাই।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সংস্কারকাজের সময় বেড়িবাঁধের পাশে থেকেই মাটি কাটা হচ্ছে। যা ঢাল সংরক্ষণে ব্যবহৃত কয়েকটি জিও ব্যাগে কাদাযুক্ত ও অপর্যাপ্ত বালি ভরা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ছোট ছোট মৎস্য ঘেরে সরাসরি নদ থেকে পানি তোলার কারণে বাঁধের কয়েকটি স্থান সংস্কারের পরও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের দাবি, বাঁধের পাইপ অপসারণ করার মাধ্যমে মজবুত বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার কয়রায় বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে ও পাইপ ঢুকিয়ে লোনা পানি উঠিয়ে ঘের ব্যবসা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা সারা বছর নদী থেকে অবাধে নোনা পানি তুলে চিংড়ি চাষ করছেন।
মহারাজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধের ওই এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটারে ৩০-৩৫টি পাইপ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ ছিদ্র করে এসব পাইপের মাধ্যমে নদ থেকে লোনা পানি মাছের ঘেরে তোলা হয়। জোয়ার-ভাটার সময় পাইপের চারপাশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় মাটি সরে গিয়ে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। অতীতে কয়েকবার বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বেড়িবাঁধের ভেতরে থাকা চারটি পাইপসহ সমস্ত পাইপ অপসারণ করা দরকার। সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হবে।’
সরজমিনে দেখা গেছে, সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটারের মধ্যে লোনা পানি ওঠা-নামার জন্য তিনটি পাইপ রয়েছে। অন্য অংশে একটি পাইপ রয়েছে। এই পাইপগুলো অপসারণ না করেই বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। পাইপসংলগ্ন কয়েকটি স্থানে এরই মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে একটি স্থানে বড় ধরনের ধস নেমেছে এবং মাটি নদে পড়েছে। সেখানে জিও ব্যাগ ও বাঁশের পাইলিং দিয়ে সাময়িকভাবে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের চরে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। বাঁধের পাশ থেকেই মাটি কেটে সংস্কারকাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাঁধের ঢালও তৈরি করা হয়েছে খাড়া করে।
এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পলাশ দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই বেড়িবাঁধের সংস্কারকাজ চলছে। তার মতে, পাইপের কারণে সংস্কারের পরও বেড়িবাঁধের কিছু অংশ ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হচ্ছে।
পাউবোর কয়রা উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোলাইমান হোসেন জানিয়েছেন, ‘সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিকাদারের মাধ্যমে পুনরায় মেরামত করা হচ্ছে।’ তিনি আরো জানান, যারা অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ কেটে বা ছিদ্র করে নোনা পানির চিংড়ি চাষ করছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাপ্তরিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। দ্রুত বেড়িবাঁধের অবৈধ পাইপ অপসারণ করা হবে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘দুর্যোগপ্রবণ এলাকার উন্নয়নে সরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংস্কারাধীন বেড়িবাঁধে ধসের বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ঘের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার মিরপুরে রহস্যজনকভাবে এক মুদি দোকানির মৃত্যু ঘটেছে। মুদি দোকানি রিপন কাজীর শরীরে পাওয়া গেছে একাধিক আঘাতের চিহ্ন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোররাতে। আহত অবস্থায় স্থানীয়দের দ্বারা রিপন কাজীকে (২৫) তার নিজ দোকানের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এরপর তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপন কাজীকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রিপন মিরপুর পৌরসভার তালতলা এলাকার 'রিপন স্টোর' মুদি দোকানের মালিক এবং তিনি আলম কাজীর ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে তার দোকান ও বাড়ির সামনে গুরুতর আহত অবস্থায় রিপনকে দেখা যায়। স্থানীয়রা তখন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাকালীন সময়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রিপনের শরীরে ও মাথায় ছিল মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলছেন, রিপন কাজীকে কেউ মারধর করার কারণে মৃত্যু হয়েছে কিনা অথবা অন্য কোনো কারণে তিনি মারা গেছেন তা বর্তমানে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাত মামলায় সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার মহানগর হাকিম-১৫ নম্বর আদালতের বিচারক নাজনীন আক্তার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত এসি সোহেল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠাচ্ছে।
সোহেল উদ্দিন চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মনতলা গ্রামের মো. হাবিব উল্লার ছেলে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন জসিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালত এসি সোহেল উদ্দিনের জামিন বাতিল করে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনকে ক্লোজড করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর অভিযুক্ত সোহেল উদ্দিন প্রিন্সের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন সহকারী কর কমিশনার তানজিনা সাথী।
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মনতলা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল উদ্দিন ২০১৭ সালে ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ফাইন্যান্স কোম্পানি) পুনরুদ্ধার করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর অবস্থা থেকে আবার কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে শর্তসাপেক্ষে তিন মাসের বিশেষ সময় প্রদান করা হয়েছে।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী। তিনি বলেন, তিন মাসের মধ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে রেজল্যুশন অথবা পুনর্গঠন, একীভূতকরণ কিংবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের দেওয়া অঙ্গীকার বিবেচনায় নিয়ে এই সময় প্রদান করা হলো। উদ্দেশ্য হলো দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা এবং সাধারণ ও ব্যক্তিগত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা।
যেসব প্রতিষ্ঠান সময় পেল
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিন মাস সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো:
প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড
বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি)
প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড
দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক গ্রাহক সময়মতো আমানতের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। ফলে আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কী কী শর্ত মানতে হবে
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রথমত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের নতুন মূলধন বিনিয়োগ করে মূলধন ঘাটতি পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় তারল্য নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সম্পদ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি বকেয়া ঋণ আদায়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
তৃতীয়ত, খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন অথবা সমঝোতার মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের হার গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে আমানতকারীদের দায় পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
শর্ত পূরণ না হলে কী হবে
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে যদি কোনও প্রতিষ্ঠান এক বা একাধিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট অবিলম্বে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু করবে।
এক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নতুন বিনিয়োগকারী আনা, অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা, সম্পদ বিক্রি, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন কিংবা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অতীতে সংকটে পড়া অনেক ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীরা বছরের পর বছর অর্থ ফেরত পাননি। ফলে পুরো নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হয়।
নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে দায়বদ্ধ করছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র সময় দেওয়া নয়, বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আমানতকারীদের জন্য কী বার্তা
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উদ্যোগে মূলধন ও তারল্য বাড়িয়ে দ্রুত আমানত পরিশোধ শুরু করুক। তবে তা সম্ভব না হলে নতুন আইনের আওতায় দ্রুত রেজল্যুশন প্রক্রিয়া চালু করে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী তিন মাস হবে এই চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে তারা আর্থিক পুনরুদ্ধারে সফল হলে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে সক্ষম হবে। অন্যথায় নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের অধীনে কঠোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ