ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জলবায়ু-সহিষ্ণু নারীকেন্দ্রিক উদ্যোগ শক্তিশালী করছে সরকার


জলবায়ু-সহিষ্ণু নারীকেন্দ্রিক উদ্যোগ শক্তিশালী করছে সরকার

ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলার জন্য নারীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে অভিযোজন কৌশল বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ। সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য জলবায়ু-সংবেদনশীল কর্মসূচি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাদের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জীবিকা সুরক্ষা, নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে লক্ষ্যভিত্তিক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সব মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না। এ কারণে টেকসই অভিযোজন নিশ্চিতকরণের জন্য নারীদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তাদের ভাষ্যমতে, বিদ্যমান সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও শ্রমের লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনের কারণে দুর্যোগের সময় ও পরবর্তী সময়ে নারীদের ওপর দায়িত্ব ও চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে।

সরকারের সর্বশেষ জলবায়ু বাজেটে এ অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এতে নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু অভিযোজন এবং সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযোজনে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্মসূচির জন্য ৬ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়া এসব অঞ্চলে নারীদের পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে, জীবিকা রক্ষা করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মতো লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় সরকার জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করছে। এর অংশ হিসেবে ব্রি ধান-৬৭ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে লবণাক্ত পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একফসলি কৃষির পরিবর্তে গ্রামীণ নারীরা খাদ্য উৎপাদন ও পারিবারিক আয় পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।

সরকারের অভিযোজন কৌশল শুধুমাত্র জীবিকা উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; নারীদের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় করে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু অভিযোজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল খাত হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে ‘প্রত্যন্ত এলাকায় নারীদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ’ খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নবনির্মিত ও সংস্কার করা ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ওয়াশ ব্লক এবং নির্ধারিত নিরাপদ স্থান রাখা হচ্ছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

স্থানীয় সরকার বিভাগ দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং পৃথক শৌচাগার নির্মাণও সম্প্রসারণ করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা ও স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জলবায়ুজনিত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সরকার গ্রামীণ হাট-বাজারে নারীদের জন্য পৃথক বিপণন এলাকা গড়ে তুলছে। এর ফলে নারী উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা পরিচালনা ও পারিবারিক আয় ধরে রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।

এসব উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে একীভূত করার বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ।

জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এর ভূমিকায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তাই জলবায়ু-সহনশীল ও জলবায়ু-সংবেদনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।'

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ''বারের বাজেটট দশটি কৌশলগত অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে সুরক্ষিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই, সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা অন্যতম।'

তিনি আরও জানান, 'আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার রূপান্তরমূলক যাত্রা শুরু করেছি, যা হবে প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনশীল, ন্যায়সম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ।'

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সহনশীল অবকাঠামো, জীবিকা সহায়তা এবং নারীর ক্ষমতায়নকে সমন্বিত করে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সরকারের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ে দেশে পৌঁছেছে ২৮৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


জুলাইয়ে দেশে পৌঁছেছে ২৮৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ২২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, গত জুলাই মাসে দেশে এসেছে মোট ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলি দ্বারা এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে গত জুন মাসে দেশে এসেছিল ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে। গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চ মাসে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে যে কোন এক মাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ বা ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড বলা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাসে পুনরায় ফিরে এসেছে এক দফার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৪ পি.এম


ইতিহাসে পুনরায় ফিরে এসেছে এক দফার দাবি

ইতিহাসে এক দফার দাবি বারবার ফিরে এসেছে। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট (৩৪ জুলাই) উচ্চারিত হয়েছিল স্বৈরাচার পতনের এক দফা। সেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এখানে থেকেই তৎকালীন ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের পতনের এক দফা ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সঙ্গে এসেছে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণাও।

তবে একদিকে যখন সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছিল, অন্যদিকে প্রতিরোধের হুমকিও ছিল; কিন্তু ছাত্র-জনতাকে রাজপথ থেকে সরাতে কোনোটিই পারেনি। ২০২৪ সালের ক্যালেন্ডারে তখনও যেন রক্তাক্ত জুলাইয়ের দিন গণনা চলছিল। আন্দোলনকারীদের কাছে সেটি ছিল ৩৪ জুলাই। কারফিউ, গুলি কিংবা ভয়; কিছুই তরুণদের থামাতে পারেনি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেদিন শহীদ মিনার চত্বর পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। চারদিকে কেবল একটি স্লোগান ছিল, ‘রক্তের সঙ্গে কোনো আপস নয়’।

লাল-সবুজের পতাকা হাতে, মাথায় কিংবা বুকে ধারণ করে, মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তাদের লক্ষ্য একটাই ছিল; সরকার পতন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সেই বিশাল সমাবেশ থেকেই নাহিদ ইসলাম সরকারের পতনের এক দফা ঘোষণা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। এই সরকার কোনোভাবেই আর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার বৈধতা রাখে না।’

সমন্বয়কের জনসমাবেশে দেখা যায় নতুন করে উজ্জীবিত হতে থাকে ছাত্র-জনতা। একই মঞ্চ থেকে দেয়া হয় অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা। সাবেক সমন্বয়ক ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ১৬ জুলাই এক দফা ঘোষণা করা হলে সেটা সফল হতো না। অনেকেই ২ আগস্ট রাতেই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এক দফা ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর জনতার সামনে উপস্থিত হয়েই এই ঘোষণা দিতে হবে। কারণ মানুষকে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নামার আহ্বান জানাতে হলে সেই সাহস নিজেদেরও প্রচ্ছন্নভাবে দেখাতে হতো। তাই জনতার মাঝখান থেকেই নাহিদ ইসলাম এক দফা ঘোষণা দেন এবং একইসঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়।

এদিকে এত প্রাণহানির পরেও সেদিন সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি কঠোর অবস্থানেরও বার্তা দেয়া হয়। সেই সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। যথাযথ তদন্ত করে তাদের বিচার হবে।’ কিন্তু ছাত্র-জনতা রাজপথ ছাড়তে প্রস্তুত ছিল না। বরং সরকারের পতনের লক্ষ্য সামনে রেখে আন্দোলন আরও সংগঠিত হতে থাকে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আগস্টের শুরু থেকেই এক দফা নিয়ে আলোচনা চলছিল। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারের কর্মসূচিতে আমাদের সংগঠনেরও একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান সরকার এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশে আর গুম-খুনের সংস্কৃতি ফিরতে দেয়া হবে না।

২০২৪ সালের সেদিন একদিকে ছিল জনতার উত্তাল সমাবেশ, অন্যদিকে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ। একদিকে আলোচনার আহ্বান ছিল, অন্যদিকে বন্দুকের মুখোমুখি ঘটনা। সেই দিনেও প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়, সেই শহীদ মিনার থেকেই ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ঘোষণা করা হয়েছিল স্বৈরাচার পতনের এক দফা। সেদিন পুরো বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, স্বৈরশাসকের পতন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হয় 'রক্তিম জুলাই'য়ের চূড়ান্ত অধ্যায়ের কাউন্টডাউন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাঙ্গায় আগুনের শিকার তিনটি দোকান হয়ে গেছে পুড়ে ছাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


ভাঙ্গায় আগুনের শিকার তিনটি দোকান হয়ে গেছে পুড়ে ছাই

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আগুনের ফলে তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রবিবার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার আলগি ইউনিয়নের হরিরহাট বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

হরিরহাট বণিক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা মাতুব্বর জানান, রাত ১০ টার দিকে হঠাৎ করেই বাজারে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বাজারের ব্যবসায়ী হাশেম মিয়া, আজিজ মুন্সী ও পরেশের দোকান আগুনে সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে মুদি এবং কাঁচামালের দোকানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের তরফ থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়, তবে অগ্নি লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মালামালসহ দোকানগুলো পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসার পূর্বেই তিনটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, কি কারণে বা কোথা থেকে আগুন লেগেছিল, তা এখনো জানা যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাগরে মাছ শিকারে জেলেরা নিরাপত্তাহীন, ট্রলারডুবিতে প্রা ণ হা নি বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


সাগরে মাছ শিকারে জেলেরা নিরাপত্তাহীন, ট্রলারডুবিতে প্রা ণ হা নি বাড়ছে

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বৈধ অনুমতি নেই। ফিটনেস সনদও নেই। তবুও বছরের পর বছর ধরে শত শত ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ছুটে যাচ্ছে। অধিকাংশ ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া বা জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় জেলেদের কাছে আবহাওয়ার সতর্কবার্তাও পৌঁছায় না। এর ফলে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন জেলেরা। তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা থামছে না।

জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন শত শত মাছ ধরার ট্রলার উত্তাল বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে গভীর সমুদ্রে যাচ্ছে। কিন্তু এসব ট্রলারের একটি বড় অংশেরই নেই ফিটনেস সনদ। অনেক ট্রলারের আবার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বৈধ লাইসেন্স নেই। তবুও বছরের পর বছর ধরে এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম একইভাবে চলছে।

শুধুমাত্র লাইসেন্স ও ফিটনেসের অভাব নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। মাঝারি আকারের অনেক ট্রলারও গভীর সমুদ্রে চলে যাচ্ছে। অথচ অধিকাংশ ট্রলারে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া, জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম কিংবা আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এর ফলে বৈরী আবহাওয়ার সময় জেলেদের জীবন রক্ষার সুযোগ খুবই কম থাকে।

প্রায়শই ঝড় বা দুর্যেগে মাছ ধরার ট্রলার দুর্ঘটনাগ্রস্ত হচ্ছে। গত এক মাসে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের ফলে অন্তত ১০টি ট্রলার ডুবে গেছে। এতে ৫০ জনেরও বেশি জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। অনেকেই কয়েকদিন সাগরে ভেসে থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে ফিরলেও এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

৭ এবং ১৫ জুলাই কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভেসে এসেছে দুই জেলের মরদেহ। প্রতি বছরই ট্রলারডুবির ঘটনায় বহু জেলে নিখোঁজ হন এবং যাদের অনেকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। জেলেদের অভিযোগ, বেশি লাভের আশায় অনেক ট্রলার মালিক নির্ধারিত সীমার বাইরেও মাছ ধরতে ট্রলার পাঠান। কিন্তু সেই ঝুঁকির পুরো দায় নিতে হয় জেলেদের। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া তাদের গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়। নিয়মিত তদারকির অভাবে বছরের পর বছর ধরে এসব অনিয়ম চলতেই থাকে।

জেলেরা জানান, ঝড়ে অনেক ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সমুদ্রে গেলে তারা অনেক সময় হঠাৎ করেই বৈরী আবহওয়ার মুখে পড়ে। অনেক সময় আগাম কোনো সতর্ক সংকেতও পাওয়া যায় না। ঢেউ অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেলেই বোঝা যায় আবহাওয়া খারাপ হয়েছে। এক জেলে বলেন, 'আমরা সমুদ্রে থাকি, কিন্তু কোম্পানি আমাদের কোনো জ্যাকেট বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেয় না। বাতাস উঠলেই বুঝতে পারি বিপদ হয়েছে।'

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলেদের প্রাণহানি কমাতে আধুনিক নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ এবং দ্রুত আবহাওয়ার সতর্কবার্তা পৌঁছে দেয়ার কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক ড. এম. লোকমান আলী বলেন, 'সরকারের উচিত জেলেদের পর্যাপ্ত নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেয়া এবং নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা।'

মৎস্য বিভাগ জানায়, ১০ থেকে ৪০ মিটার গভীরতার সামুদ্রিক এলাকায় মাছ ধরার জন্য ট্রলার পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, 'যারা অনুমতিপত্র ছাড়া মাছ ধরতে যায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনছি এবং অনুমতিপত্রের আওতায় আনাতেও চেষ্টা করছি।'

জেলায় মাত্র এক হাজার ট্রলারের সমুদ্রে মাছ ধরার অনুমতিপত্র রয়েছে। অথচ বাস্তবে ১০ হাজারের বেশি ট্রলার সাগরে যায়। কিন্তু এত বড় এই জেলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%