বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:২০ পি.এম
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দিল্লি, নিউইয়র্ক, লন্ডন, জেনেভাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মিশনে সম্প্রতি বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন।
এ বিষয়ে জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, "সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চেঞ্জ হবে, রদবদল হবে, নতুন লোক আসবে। সেটা তো চলমান প্রক্রিয়া। এটা তো কোনো নতুন কিছু না। যখন সরকারের থেকে একটা স্টেটমেন্ট যাবে, সরকার থেকে প্রকাশ হবে, তখনই আপনারা জানতে পারবেন কেন, কোথায়, কীভাবে, কোন কারণে রদবদল হচ্ছে। কিন্তু এটা চলমান প্রক্রিয়া।"
এই রদবদলের পেছনে বিএনপি করা বা না করার কোনও বিষয় জড়িত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "না না, বিএনপি করা বা কোনো বিষয় না।" তিনি আরও জানিয়েছেন, "অবশ্যই বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে, আপনি যদি প্রধানমন্ত্রীর কাজকর্মগুলো ফলো করেন, তার সিদ্ধান্তগুলো ফলো করেন— পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে তিনি ইমপর্টেন্স দেন কাজকে, এফিশিয়েন্সিকে (দক্ষতাকে)। কে কতটুক কাজে পারদর্শী, কে কতটুক আন্তরিকভাবে দেশের জন্য কাজ করতে পারছে, দেশের প্রতি কার আন্তরিকতা আছে, সেটাই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে বিবেচ্য বিষয়।"
তিনি আরও বলেন, "দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের প্রতি আন্তরিকতা, কাজের প্রতি ডেডিকেশন (উৎসর্গ) এবং এফিসিয়েন্সি— এগুলোর বিচারেই যেকোনো মন্ত্রণালয়ে আমাদের রদবদল হয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া; যখন ফাইনাল হবে, যখন সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাজেট প্রকাশ হবে, তখন আপনারা জানতে পারবেন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্ষা ঋতুর আগমনে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। দিনরাত এক করে তারা নৌকা তৈরি করছেন। নতুন নৌকা তৈরি করার পাশাপাশি অনেকে পুরনো নৌকা মেরামতের জন্য তাদের কাছে ছুটছেন। সিংড়া উপজেলায় বর্ষাকালে চলনবিল ও আত্রাই নদীতে জেলেরা মাছ শিকার করেন। তাই এই সময়ে ব্যাপকভাবে নৌকার প্রয়োজন দেখা দেয়।
বছরের আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে কার্তিক পর্যন্ত ৫ মাস বন্যাকবলিত এই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রাম ও পথঘাট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই সময় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার ও মাছ ধরার কাজে নৌকাই একমাত্র বাহন হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তাই বর্ষাকালে নৌকার কদর বেড়ে যায়।
জেলে পেশার অনেকে এখনই মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এ কারণে চলনবিল অঞ্চলে নৌকা তৈরির বিশাল চাপ বেড়ে গেছে। নদীর আশপাশের কিছু এলাকা পুরনো নৌকায় আলকাতরা লাগানোর কাজে ব্যস্ত। আবার কেউবা দিচ্ছেন জোড়াতালি। ভিন্ন ভিন্ন কারিগর তারকাঁটা ও লোহার পাত ব্যবহার করে তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যস্ততাও দেখাচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিলদহর, কালিনগর, শেরকোল, তাজপুর, সাঁতপুকুরিয়া, বড়িয়া, ডাহিয়া, বিয়াশ ও পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেলো অনেক নৌকা তৈরির কারিগর নতুন নৌকা তৈরি এবং পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকছেন।
কারিগররা জানিয়েছেন, নৌকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ প্রতিবারের চেয়ে বেড়েছে। পৌর শহরের বালুয়া বাসুয়া এলাকায় একজন কাঠমিস্ত্রী পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত। তিনি বলেছেন, সারা বছর কাঠের কাজ করেন। তবে বর্ষার এই সময়ে তিনি নৌকা তৈরির কাজে বেশি সময় দেন। এই কাজের মাধ্যমে তার বাড়তি কিছু আয় হয়ে থাকে।
পৌরসভার চকসিংড়া মহল্লার নৌকা তৈরির কারখানার মালিক আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, ‘আমার কারখানায় কড়ই, হিজল ও মেহগনির কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ নৌকা তৈরি হয়। এছাড়া আলকাতরা, বাঁশ, তারকাঁটা ও অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হয়। এই বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি নতুন নৌকা বিক্রি করেছি। বেশিরভাগ ছোট ডিঙি নৌকা, যা মাছ ধরার কাজে ব্যবহার হয়। আমি আশা করছি এ বছর ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা বিক্রি হবে। কাঠের নৌকা বিক্রি করি ৫৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা ও প্লেন সিটের নৌকা ৮৫০০ থেকে ৯০০০ টাকায় বিক্রি করছি।
নৌকা তৈরির কারিগর স্বপন চন্দ্র সূত্রধর বলেছেন, বর্ষাকালে প্রতিদিন ২টি থেকে ৩টি নৌকা তৈরি করে থাকি। নৌকাভেদে মজুরি পাই ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা করে। এছাড়া সারাবছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে কাঠের অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করি। যা আয় হয় তা দিয়ে আমার সংসার চলে।
নৌকা কিনতে আসা সাঁতপুকুরিয়া গ্রামের মো. রুবেল হোসেন জানিয়েছেন, ‘আমাদের গ্রামটি চলনবিলের মাঝখানে অবস্থিত। সামান্য বর্ষায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় নৌকাই একমাত্র বাহন। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। তবে এ বছর নৌকার দাম অনেক বেশি।
উপজেলার চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর এলাকা থেকে নৌকা কিনতে আসা আফজাল হোসেন বলেন, 'চলনবিলে পানি বাড়লেই নৌকার প্রয়োজন হয়। মাছ ধরা, জমিতে যাওয়া এবং এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাতায়াতের জন্য নৌকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই নতুন নৌকা কিনতে এসেছি'।
চলনবিলের নৌকা তৈরির কারখানার মালিক গোদা কুমার জানালেন, কাঠ, লোহাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, 'সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও বর্ষা এলেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। এখন প্রতি দিনই নতুন নৌকার অর্ডার পাচ্ছি। কাঠের দাম বেড়েছে, তবুও মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে নৌকা বানাচ্ছেন। কাজের চাপ একাধিক গুণ বেড়ে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাজারে মাদকের মধ্যে কোনো ভেজাল না থাকলেও নিত্যদিনের খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল থাকাটা বড়ই আশ্চর্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার। জাতীয় সংসদে খাদ্যমন্ত্রীর কাছে সম্পূরক প্রশ্ন রাখার সময় তিনি এই ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জনগণ যাতে ভেজালমুক্ত খাবার পেতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তাও জানতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিনের বৈঠক।
অধিবেশনের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে সাবিকুন্নাহার ফলের মৌসুমে বাজারে ফরমালিন ও ভেজালের আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ফলের মৌসুমে বাজারে এতো ফল থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কোন ফলটি কিনবে, কোনটি ফরমালিনমুক্ত আর কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী- তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেজালের এই চাদরে ঢাকা দুনিয়ায় মাদকে কোনো ভেজাল না থাকাটা অত্যন্ত বিস্ময়কর মন্তব্য করে তিনি খাদ্যের মান সংরক্ষণ এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জামায়াত এমপির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী ভেজালের ভয়াবহতার কথা স্বীকার করে একে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জানান, খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের মতো মারাত্মক ব্যাধি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতদিনই মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্যদ্রব্যকে ভেজালমুক্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে সেই কমিটির প্রথম বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে এই অপতৎপরতা রোধে মাঠে নামবে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্য পুরোপুরি ভেজালমুক্ত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। বর্তমান সরকার সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা ও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের এই লড়াইয়েও সরকার অবশ্যই সফল হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে নগরীতে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও নিবন্ধনের মাধ্যমে সর্বাধিক ১০ হাজার অটোরিকশাকে অনুমোদন প্রদান করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে অথবা মিথ্যা লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করে অটোরিকশা চালালে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানিয়েছেন কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই অটোরিকশা নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধিত প্রতিটি অটোরিকশার জন্য চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট যুক্ত করা হবে। এসব প্লেটে অন্তত আটটি আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে, যার ফলে জালিয়াতি বা নকল প্লেট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
প্রশাসক বলেন, যদি কেউ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরীতে অতিরিক্ত সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে যানজট দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে চলাচলের ফলস্বরূপ প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। এর ফলে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করছেন। এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। জনভোগান্তি কমাতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ মোল্লা বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব নেই। এটি সম্পূর্ণরূপে নগরবাসীর স্বার্থ ও জনকল্যাণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মানুষকে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতেও উৎসাহিত করতে হবে।
কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু মতবিনিময় সভাটি পরিচালনা করেন। এতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং উত্তাল সাগরের প্রভাবে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার। পর্যটকশূন্য সমুদ্রসৈকতের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্টের মালিকরা সবাই পড়েছেন চরম লোকসানে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক তাদের হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন।
সৈকতের নিকটবর্তী প্রায় কয়েকশ দোকানপাট এবং পর্যটননির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চার দিনের এই সময়ে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়ে গেছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানিয়েছেন, টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বাস যোগাযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। গত চার দিনের মধ্যে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল এবং রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। বর্তমানে কক্সবাজারে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক থাকলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার লাবণী পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির ফলে পুরো সৈকতজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যারা এসেছেন, তারাও বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় সৈকতে অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। সৈকতের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। যে দোকানগুলো খোলা রয়েছে, সেখানেও ক্রেতার চলাচল নেই। ঝালমুড়ি, চটপটি, বিচ বাইক, কিটকট (চেয়ার-ছাতা), ঘোড়ায় চড়াসহ প্রায় সমস্ত ধরনের পর্যটননির্ভর ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত পয়েন্টেও।
ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী আবিদ হাসান জানিয়েছেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কয়েক দিনের জন্য কক্সবাজারে এসেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে তারা হোটেল থেকেও বের হতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে কিছুক্ষণ আগে সৈকতে এলেও বেশিক্ষণ থাকতে পারছেন না।
বিচ বাইক চালক হাফিজ উদ্দিন বলেছেন, সমুদ্রসৈকতে বিচ বাইক চালনোর মাধ্যমেই তার সংসার চলে। কিন্তু ভারী বর্ষণ এবং ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে পর্যটক নেই বললেই চলে। তিনদিন পর সৈকতে এলেও আজ তার কোনো আয় হয়নি।
কিটকট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন জানিয়েছেন, কিছু পর্যটক সৈকতে এলেও টানা বৃষ্টির কারণে তারা বেশিক্ষণ থাকছেন না। ফলে সারাদিন চেয়ার-ছাতাগুলো প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকে। ব্যবসা একেবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
কক্সবাজরে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেছেন, টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ার ফলে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পের ওপর। গত চার দিনে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ