প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং উত্তাল সাগরের প্রভাবে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার। পর্যটকশূন্য সমুদ্রসৈকতের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্টের মালিকরা সবাই পড়েছেন চরম লোকসানে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক তাদের হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন।
সৈকতের নিকটবর্তী প্রায় কয়েকশ দোকানপাট এবং পর্যটননির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চার দিনের এই সময়ে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়ে গেছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানিয়েছেন, টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বাস যোগাযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। গত চার দিনের মধ্যে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল এবং রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। বর্তমানে কক্সবাজারে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক থাকলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার লাবণী পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির ফলে পুরো সৈকতজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যারা এসেছেন, তারাও বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় সৈকতে অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। সৈকতের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। যে দোকানগুলো খোলা রয়েছে, সেখানেও ক্রেতার চলাচল নেই। ঝালমুড়ি, চটপটি, বিচ বাইক, কিটকট (চেয়ার-ছাতা), ঘোড়ায় চড়াসহ প্রায় সমস্ত ধরনের পর্যটননির্ভর ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত পয়েন্টেও।
ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী আবিদ হাসান জানিয়েছেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কয়েক দিনের জন্য কক্সবাজারে এসেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে তারা হোটেল থেকেও বের হতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে কিছুক্ষণ আগে সৈকতে এলেও বেশিক্ষণ থাকতে পারছেন না।
বিচ বাইক চালক হাফিজ উদ্দিন বলেছেন, সমুদ্রসৈকতে বিচ বাইক চালনোর মাধ্যমেই তার সংসার চলে। কিন্তু ভারী বর্ষণ এবং ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে পর্যটক নেই বললেই চলে। তিনদিন পর সৈকতে এলেও আজ তার কোনো আয় হয়নি।
কিটকট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন জানিয়েছেন, কিছু পর্যটক সৈকতে এলেও টানা বৃষ্টির কারণে তারা বেশিক্ষণ থাকছেন না। ফলে সারাদিন চেয়ার-ছাতাগুলো প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকে। ব্যবসা একেবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
কক্সবাজরে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেছেন, টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ার ফলে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পের ওপর। গত চার দিনে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন