ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যু ৩ জনের


কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যু ৩ জনের

কক্সবাজারে টানা আট দিনের ভারি বৃষ্টি কিছুটা কমলেও প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতি অতিশয় অপরিবর্তিত রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে তিনজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে, শনিবার রাতে এবং বিকেলে পেকুয়া ও চকরিয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যু ঘটে দুই শিশুর।

কক্সবাজার শহরে পূর্ব কলাতলী ঝিরিঝিরি পাড়ার ঘটনা অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে এক গৃহবধূ নিহত এবং তার স্বামী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

নিহত রোজিনা বেগম (৩০) একই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন। ঘটনার সময় নিহতের স্বামী আব্দুল মজিদ (৩৭) সামান্য আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।

নিহতের স্বজন এবং স্থানীয়রা বিষয়টি জানিয়ে বলেন, আব্দুল মজিদ ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগম রাতে একসাথে খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ, রান্নাঘরে খাবারের জন্য রান্নাঘরে যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবে পাহাড় ধসের কারণে বড় একখণ্ড মাটি রান্নাঘরের ওপর পড়েছিল। এসময় মূলত মুহূর্তেই তিনি মাটিচাপা পড়ে যান। তার স্বামী রান্নাঘরের পাশের কক্ষে থাকায় সামান্য আহত হলেও প্রাণ হারান না। তবে, সন্তানেরা ও শ্বশুর অন্য কক্ষে থাকায় তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েনি।

স্থানীয় সমাজ প্রতিনিধি মুফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় একটি দোকানে ছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে জানতে পারেন মজিদের স্ত্রী মাটিচাপা পড়েছে। খবরশুননামাত্র স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে লিপ্ত হন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে রোজিনা বেগমকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক ছৈয়দ মো. মোরশেদ হোসাইন জানিয়েছেন, সংবাদ পাওয়ার পর আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মাটিচাপা পড়া ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়, কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায়, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৯টার দিকে পেকুয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবার ঘটনায় ২ বছর বয়সের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুর নাম মুশফিকুর রহিম। তিনি বলিরপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীনের সন্তান ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাতের বেলায় শিশু পরিবারের সদস্যদের সাথে খাবার খাচ্ছিল। একটু পরে, মা-বাবার অগোচরে খাবারের বাটি হাতে নিয়ে ঘরের দরজার বাইরে চলে যায় এবং বাড়ির সামনে জমে থাকা বন্যার পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবার খোঁজাখুঁজিতে নেমে পড়ে। পরে বাড়ির দরজার সামনের বন্যার পানিতে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাহেদুল ইসলাম বলেন, 'মা-বাবার অগোচরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পড়ে যায়। পরে খোঁজার এক পর্যায়ে বাড়ির সামনেই তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।'

অপরদিকে, শনিবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোঁজাখালী জলদাস পাড়ায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে সজীব জলদাস (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সজীব স্থানীয় তুফান জলদাসের ছেলে ছিল।

রোববার বিকেল ৩টায় চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ সজীব জলদাসের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবং স্বজনরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছিল। রবিবার সকালে তাদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন চট্টগ্রাম থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এক পর্যায়ে বিকাল ৩টায় ঘটনাস্থল কিছুটা বন্যার পানিতে ডুবে ছিল এবং সেখানে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এভাবে গত ৪ জুলাই থেকে টানা ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ধস ও ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে জেলায় রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩১ জনে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলাবদ্ধতার কারণে তেজগাঁও রেললাইনে , ট্রেন চলাচলে সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


জলাবদ্ধতার কারণে তেজগাঁও রেললাইনে , ট্রেন চলাচলে সতর্কতা

টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর তেজগাঁও রেললাইনের একাধিক স্থান জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চালকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে তারা সতর্কতার সঙ্গে ট্রেন চালাবেন।

রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা বিভাগের বাংলাদেশ রেলওয়ে এ বিষয়ে একটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা জানিয়েছে।

ঢাকা রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, তেজগাঁও এলাকায় দুই-একটি স্থানে পানি জমেছে। তবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চালকদের রেললাইন পরিবীক্ষণ করে ট্রেন পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। যদি কোথাও ঝুঁকি দেখা দেয়, তখন ধীর গতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হবে। প্রয়োজনে ট্রেন থামিয়ে রেললাইন পরীক্ষা করাও প্রয়োজন।

অন্যদিকে, রেললাইনে পানি জমার ফলে ট্রেন চলাচল কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন রেলের কর্মকর্তারা।

তারা জানিয়েছেন যে, স্বাভাবিক সময়ে ট্রেন যেখানে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে চলে, সেখানে বর্তমানে ট্রেন চালানো হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতি করতে দেওয়া যাবে না। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

এসময় চট্টগ্রাম থেকে ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাত জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, মৃত্যু ৫১; বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


সাত জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ, মৃত্যু ৫১; বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এর সাথে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলা হলো—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন।

চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বর্তমানে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ অবস্থান করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারেও ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী ৩৯ হাজার ৫০৬ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা মিলে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা। এছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বান্দরবানে সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে পানিবন্দী হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫০০। মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন দুজন। ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

রাঙামাটিতে নয়টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী ১ হাজার ৪৪টি পরিবার, এবং সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪। মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১ হাজার ৭৩টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪১৭। সেখানে একজন আহত হয়েছেন। জেলার ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৭ হাজার ৩০৮ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫৪৪। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৬ হাজার ৪৪৪ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৮ হাজার ১৪০। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে এখনো কেউ আশ্রয় নেননি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলার জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাটের সোনালি ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বন্ধ হচ্ছে বীজ আমদানি: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল**

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


পাটের সোনালি ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বন্ধ হচ্ছে বীজ আমদানি: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল**

পাটের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদেশি বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন বীজ উৎপাদনে গবেষণার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় অংশগ্রহণের পর, অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক এবং সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি যোগদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব বিষয় জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পাটভিত্তিক শিল্পে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করার জন্য কাঁচা পাট রফতানিকে অফিসিয়ালি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি জানান, কৃষকরা এবারও তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন, যা গত বছরের মতো হবে।

অনুষ্ঠানে ১৮ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর হাতে মোট ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও, আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ৫ জন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%