০৫:২৮ পি.এম
কক্সবাজারে টানা আট দিনের ভারি বৃষ্টি কিছুটা কমলেও প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতি অতিশয় অপরিবর্তিত রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে তিনজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে, শনিবার রাতে এবং বিকেলে পেকুয়া ও চকরিয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যু ঘটে দুই শিশুর।
কক্সবাজার শহরে পূর্ব কলাতলী ঝিরিঝিরি পাড়ার ঘটনা অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে এক গৃহবধূ নিহত এবং তার স্বামী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
নিহত রোজিনা বেগম (৩০) একই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন। ঘটনার সময় নিহতের স্বামী আব্দুল মজিদ (৩৭) সামান্য আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।
নিহতের স্বজন এবং স্থানীয়রা বিষয়টি জানিয়ে বলেন, আব্দুল মজিদ ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগম রাতে একসাথে খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ, রান্নাঘরে খাবারের জন্য রান্নাঘরে যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবে পাহাড় ধসের কারণে বড় একখণ্ড মাটি রান্নাঘরের ওপর পড়েছিল। এসময় মূলত মুহূর্তেই তিনি মাটিচাপা পড়ে যান। তার স্বামী রান্নাঘরের পাশের কক্ষে থাকায় সামান্য আহত হলেও প্রাণ হারান না। তবে, সন্তানেরা ও শ্বশুর অন্য কক্ষে থাকায় তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েনি।
স্থানীয় সমাজ প্রতিনিধি মুফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় একটি দোকানে ছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে জানতে পারেন মজিদের স্ত্রী মাটিচাপা পড়েছে। খবরশুননামাত্র স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে লিপ্ত হন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে রোজিনা বেগমকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক ছৈয়দ মো. মোরশেদ হোসাইন জানিয়েছেন, সংবাদ পাওয়ার পর আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মাটিচাপা পড়া ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়, কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু ঘটে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায়, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৯টার দিকে পেকুয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবার ঘটনায় ২ বছর বয়সের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর নাম মুশফিকুর রহিম। তিনি বলিরপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীনের সন্তান ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাতের বেলায় শিশু পরিবারের সদস্যদের সাথে খাবার খাচ্ছিল। একটু পরে, মা-বাবার অগোচরে খাবারের বাটি হাতে নিয়ে ঘরের দরজার বাইরে চলে যায় এবং বাড়ির সামনে জমে থাকা বন্যার পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবার খোঁজাখুঁজিতে নেমে পড়ে। পরে বাড়ির দরজার সামনের বন্যার পানিতে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাহেদুল ইসলাম বলেন, 'মা-বাবার অগোচরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পড়ে যায়। পরে খোঁজার এক পর্যায়ে বাড়ির সামনেই তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।'
অপরদিকে, শনিবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোঁজাখালী জলদাস পাড়ায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে সজীব জলদাস (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সজীব স্থানীয় তুফান জলদাসের ছেলে ছিল।
রোববার বিকেল ৩টায় চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ সজীব জলদাসের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবং স্বজনরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছিল। রবিবার সকালে তাদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন চট্টগ্রাম থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এক পর্যায়ে বিকাল ৩টায় ঘটনাস্থল কিছুটা বন্যার পানিতে ডুবে ছিল এবং সেখানে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এভাবে গত ৪ জুলাই থেকে টানা ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ধস ও ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে জেলায় রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩১ জনে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন