শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২০ পি.এম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি কুকুরের আক্রমণে সাতজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। কুকুরটির আক্রমণের শিকার হয়েছে দুটি গরু ও চারটি ছাগলও। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামাল, দেওডোবা ও মনিরাম গ্রামে পৃথক সময়ে এই ঘটনাগুলি ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— জামাল গ্রামের মৃত জয়ন উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হান্নান (৫০), তোফাজ্জল হোসেন (৭০) এবং মৃত রয়েজ উদ্দিনের ছেলে ছবির মিয়া (৫৫); দেওডোবা গ্রামের হাফিজুরের ছেলে সোহাগ মিয়া (৪) ও মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে আতোয়ার রহমান (৫০); মনিরাম গ্রামের সফিয়াল মিয়ার ছেলে জহুরুল ইসলাম (২৫) এবং মৃত মোজাহারের ছেলে রুবেল মিয়া (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামাল গ্রামে ঢুকে কুকুরটি একে একে কয়েকজনকে কামড়ে আহত করে। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মনিরাম গ্রামের গাজীর মোড় এলাকায় আরও তিনজনকে কামড় দেয়। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। আহতরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কুকুরটি মানুষের ওপর হামলার পাশাপাশি দুটি গরু ও চারটি ছাগলকেও কামড়িয়েছে। কুকুরটি বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী কুকুরটিকে ধরে হত্যা করেন।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার বলেন, "কুকুরের কামড়ে শিশুসহ সাতজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লোকজন কাজ করছেন।"
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান জানান, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা চারজনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে, শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরের দিকে হঠাৎ করে একজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটে। হামলায় তার স্ত্রীও গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনের ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছুরিকাঘাতের জখমসহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃত্যু হয়। তার স্ত্রীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকও ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হামলাকারী তাদের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হামলাকারী শুধু অন্তর্বাস পরা অবস্থায় ছিল এবং সে ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিল। হামলার সময় তিনি দ্রুত তাদের দুই সন্তানকে প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন।
পুলিশ হামলার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আটক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, গুরুতর হামলা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হামলার সময় তার স্বামী হামলাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে পূর্বে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কিনা। হামলার উদ্দেশ্যও এখনও জানা যায়নি।
আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিংস। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার দাকোপ উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ নেত্রী ইয়াসমিন শেখ (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে, তার নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ইয়াসমিন চুনকুড়ি গ্রামের সেকেন্দার আলী শেখের কন্যা। তিনি বাজুয়া ইউনিয়নের মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় পানখালী মমতাজ বেগম স্কুলের সংলগ্ন রাস্তার পাশে স্থানীয় বিএনপি ও দলের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির দায়ের করা মামলায় ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস এ বিষয়ে জানান, মহিলা লীগের এই নেত্রী বেশ কিছুদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক কৃষকলীগের এক নেতাকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে এসে জামায়াতের এক নেতাসহ ৮ জনকে পুলিশ আটক করেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুচলেকা দেওয়ার পর তারা থানা থেকে মুক্তি পান।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন—মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।
মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চিথলিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
কৃষকলীগ নেতা হাফিজুর রহমানকে আটক করার খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে চিথলিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি থানায় আসেন। তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে তদবির ও চাপ দিতে থাকেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "নিষেধ করার পরও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন।" একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর উভয় দলের নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।
এটি উল্লেখ্য যে, এর আগে চলতি বছরের ৯ মে রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় আট পিস ইয়াবাসহ ধরা পড়া এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মী। পরে তাদের থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে।
নতুন আপডেটটিতে দেখা গেছে, পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।
ভিসা বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং চাহিদা কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।
অন্যদিকে, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু অ্যামপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ